ফরিদগঞ্জ বালিথুবায় একশ’ ত্রিশ বছরের খলিলুর রহমানের দাফন সম্পন্ন

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ২নং বালিথুবা ইউনিয়নের শোসাইর চর গ্রামের মাইজের বাড়ির একশ’ ত্রিশ বছরের খলিলুর রহমানের ইন্তেকাল করছেন।

শনিবার বাদ জোহর ফরিদগঞ্জের ২নং বালিথুবা ইউনিয়নের শোসাইর চর গ্রামের মসজিদের সামনে তার জানাজা নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। তিনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে। বিধাতার ডাকে তিনি সাড়াঁদিয়ে ইহকাল থেকে অনন্তকালের জন্য পরপাড়ে চলে গেলেন।

গত শুক্রবার রাতে তার নিজবাড়ি ফরিদগঞ্জের শোসাইর চর গ্রামের মাইজের বাড়িতে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১শ’৩০ বছর। তিনি ছেলে, মেয়ে, নাতী, নাতনীসহ বহু আত্বীয়-স্বজন ও গুনগ্রাহী রেখে যান। ফরিদগঞ্জের এমরান হোসেন লিটনের সাথে গত ৬/৭ মাস আগেও তার সাথে কথা হলে তিনি খুব স্পষ্টভাবেই বলেন, ব্রিটিশ আমল তো সেদিনের কথা। জীবনে কত কিছুই তো দেখলাম।

তখন তিনি বলেছিলেন, বর্তমান যুগের সাথে চলতে খুব কষ্ট হয়। আগেকার মানুষ না খেয়েও খুব মিলে-মিশে থাকার চেষ্টা করতো। কিন্তু এখন প্রত্যেকটা মানুষের ভেতরেই লোভ আর লোভ। মরহুম খলিলুর রহমানের একমাত্র ছেলে মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম জানান, তার বাবা সবসময় কলা, গুড়, নারিকেল, দুধ এবং দেশিয় খাদ্য বেশি খেতেন। খলিলুর রহমান সাহেব মৃত্যুকালে বহু আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন। তার উল্লেখযোগ্য আত্মীয়দের মধ্যে ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মজিবুর রহমান দুলাল তার মেয়ের ঘরের নাতি, পাটোয়ারী বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ২নং বালিথুবা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মোঃ মহসিন তার ছেলের ঘরের নাতি এবং উপজেলা যুবদল নেতা বর্তমানে কুয়েত প্রবাসী মোঃ শাহাদাত মিজি তার ছেলের ঘরের নাতি।

ডিজিটালের এ যুগে সামাজিক যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে ১২০/১২৫ বছর বয়সের লোকের খবর পেলেই জাতীয় পত্রিকাসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও সে বয়সের লোকদের খবর ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন গনমাধ্যমে। কিন্তু ফরিদগঞ্জের ২নং বালিথুবা ইউনিয়নের শোসাইর চর গ্রামের মাইজের বাড়ির খলিলুর রহমানের বয়স ১৩০ পার হলেও তার নিজের ইচ্ছার কারণে কখনও তিনি পত্রিকায় আসতে চাননি। ইতিপূর্বে একাধিকবার তার বয়সের খবর শুনে তার বাড়িতে গেলে তিনি সাংবাদিককে বারণ করেন পত্রিকাতে তার নাম না আসার জন্যে। সে কারণেই তিনি ১৩০ বছর বয়স পেয়েও কখনো পত্রিকার শিরোনাম তিনি হননি।

এলাকার ৭০/৮০ বছরের লোকদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, খলিলুর রহমান সাহেব খুব ভালো মানুষ ছিলেন। তার বয়সের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জানান, খলিলুর রহমান সাহেব এখন যেমনটা ছিলেন ঠিক ৭০/৮০ বছর আগেও এমনই দেখেছি।