মতলব উত্তরে চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনায় আটক ৪ একজনের স্বীকারোক্তি

চাঁদপুর জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় চাঁদপুরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা নিয়ে ব্যাপক আলোচনায় জেলার আইনশৃঙ্খলার চিত্র ফুটে ওঠে। এতে সভায় উপস্থিত সকলে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। আইনশৃঙ্খলার উপর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জামাল হোসেনের বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপনের পর এ বিষয়ে সভায় উপস্থিত বক্তারা বক্তব্য রাখেন। এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান। তাঁর আলোচনায় জেলার আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে পুলিশের তৎপরতা এবং অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর দ্রুততম সময়ে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করাসহ অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সফলতার তথ্য তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে মতলব উত্তরে চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনসহ আসামী আটক করার বিষয় জানতে পেরে সভায় সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। গতকাল রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপারের দায়িত্বে নিয়োজিত মোঃ মিজানুর রহমান জানান, গত মাসে (জানুয়ারি) মতলব উত্তরের দুটি বাজারে চাঞ্চল্যকর দুটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনসহ সরাসরি ডাকাতির ঘটনার সাথে জড়িত এমন একজনকে আমরা আটক করতে সক্ষম হয়েছি। সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এ পর্যন্ত চারজন আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন ওই ডাকাতির ঘটনায় সরাসরি অংশ নিয়েছে। এছাড়া পুরো গ্যাঙকে আমরা শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। তদন্তের স্বার্থে এর বেশি কিছু আর বলা যাচ্ছে না। ওই ঘটনায় জেলা পুলিশের পাশাপাশি সিআইডিও কাজ করছে।

ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার আরো জানান, ওই ডাকাত দল এই জেলার নয়। এরা শরীয়তপুর ও মুন্সীগঞ্জ এলাকার। আর এরা এতোটাই পারদর্শী যে, তারা ঘটনার কোনো আলামত তো রেখেই যায় নি, এমনকি যে সব স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছে সে সব দোকানের সিসি ক্যামেরাও তারা খুলে নিয়ে গেছে। তারপরও আমরা প্রযুক্তি ব্যবহার করে ওই ডাকাত দলের সক্রিয় একজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। তার কাছ থেকে বিস্তারিত সব তথ্য আমরা জেনেছি। তিনি আরো বলেন, যে বাজার দুটিতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো নদী বিধৌত এলাকায়। তাই ডাকাত দল ঘটনা ঘটিয়ে নিরাপদে চলে যেতে সক্ষম হয়। তিনি আরো বলেন, দুটি বাজারে প্রায় ছয় শ’র মতো দোকান রয়েছে। অথচ শুধু স্বর্ণের দোকানগুলোতেই সিসি ক্যামেরা রয়েছে। এছাড়া বাজারের আর কোথাও সিসি ক্যামেরা নেই। এতো বড় বাজার এভাবে অরক্ষিত রাখা কোনোভাবেই ঠিক নয়। আমরা এসব নিয়েও কাজ করছি।

এছাড়া জানুয়ারি মাসে সংঘটিত দুটি হত্যাকা-ের বিষয়েও তিনি কথা বলেন এবং এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সন্তোষজনক তৎপরতার তথ্যও তিনি তুলে ধরেন। এদিকে চাঁদপুর শহরে লাগানো সিসি ক্যামেরার সুফলও তিনি সভায় তুলে ধরেন। এই সিসি ক্যামেরার ফলে জজ সাহেবের বাসায় চুরির ঘটনা উদ্ঘাটন করা এবং শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভূমিকা রাখছে বলে তিনি সভায় অবহিত করেন।

উল্লেখ্য, গত ২১ জানুয়ারি দিবাগত রাত আড়াইটা থেকে চারটার মধ্যে মতলব উত্তরের কালীরবাজার ও কালীপুর বাজারে ১১টি দোকানে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ১০টি স্বর্ণের হচ্ছে দোকান আর একটি বিকাশের এজেন্ট দোকান। ডাকাত দল বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ, রূপা ও কয়েক লাখ টাকা লুট করে নেয়।