আজ শনিবার ২৭ আগস্ট বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী। তার ইচ্ছা অনুসারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে অন্তিম শয়ানে শায়িত করা হয়েছে নজরুলকে।
১৯৭৬ সালের ২৭ আগস্ট (১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র) কাজী নজরুল ইসলাম ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (তৎকালীন পিজি হাসপাতাল) ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর আগে দ্রোহ ও সাম্যের এ কবি দীর্ঘদিন রোগে আক্রান্ত ছিলেন।
১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ মে) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে নজরুল জন্ম গ্রহণ করেন। তার বাবার নাম কাজী ফকির আহমেদ ও মার নাম জাহেদা খাতুন।
১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের বিশেষ উদ্যোগে তৎকালীন সরকার তাকে জাতীয় কবির মর্যাদা দিয়ে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। ধানমন্ডিতে কবির বসবাসের জন্য বাসভবন বরাদ্দ করা হয়। সেই সাথে সাথে তার চিকিৎসা ও পরিচর্যার যাবতীয় ব্যবস্থা করা হয়।
দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করেই বেড়ে উঠেছিলেন কবি। তিনি বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিলেন শোষণ, বঞ্চনা ও বৈষম্যের কারণে।
সারা জিবন তিনি সংগ্রাম করেছেন শোষিত-বঞ্চিত মানুষের মুক্তির জন্য। মানবতার মুক্তির পাশাপাশি সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার, কূপমণ্ডূকতার বিরুদ্ধে নজরুল লিখেগেছেন সব সময়।
আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতীয় কবির গান ও কবিতা সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছে দেশের মুক্তিকামী মানুষকে। বাংলা কাব্য ও সংগীতে কাজী নজরুল ইসলাম এক নতুন মাত্রা সংযোজন করেছিলেন তার অনন্য প্রতিভায়।
কবি লিখেছিলেন ‘মসজিদেরই পাশে আমার কবর দিও ভাই…’। তার ইচ্ছা অনুসারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে সমাধিত করা হয়েছে তাকে। আজ দেশের অগণিত ভক্ত সকাল থেকেই কবির কবরে ফুলে ফুলে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।
