
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
চাঁদপুর শহরের তালতলা এলাকায় কর্ণফুলী হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কর্তৃপক্ষ ও নার্সের অবহেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে আজ ২৯ নভেম্বর মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৭টায়।
জানা যায়, ফরিদগঞ্জ উপজেলার সুবিদপুর গ্রামের মুন্সী বাড়ির ফরুক মুন্সির ভাগনি শিশু সুমাইয়া আক্তার (১২) গত ২২ নভেম্বর বাড়ির পাশের রাস্তায় সিএনজি স্কুটার তাকে ধাক্কা মেরে রাস্তার পাশে ফেলে দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ওইদিন শিশু সুমাইয়াকে অর্থপেডিক ডাঃ মনির হোসেনের তত্ত্বাবধানে কর্ণফুলী হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়। ৮ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ রাত ৭টা ২৫ মিনিটে সিনিয়র নার্স বৃষ্টির উপস্থিতিতে সহযোগী নার্স জুলফী তৃতীয় তলার কেবিনে গিয়ে সুমাইয়াকে একটি ইনজেকশন পুশ করে। ইনজেকশন দেয়ার ৫ মিনিটের মাথায় শিশু সুমাইয়া পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চিরতরে পরপারে চলে যায়। ইনজেকশনটি কয়েকবারে দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও নার্স তা একবারেই পুরো ইনেজেকসনটি দিয়ে দেয়। নার্সের অবহেলায় শিশু মৃত্যুর খবর পেয়ে বেশ ক’জন সাংবাদিক কর্ণফুলী হাসপাতালে গেলে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাংবাদিক নামধারী মোঃ মনির হোসেন তাদেরকে শিশুটি তার ভাগ্নী পরিচয় দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। তড়িঘড়ি করে একটি অ্যাম্বুলেন্স ডেকে এনে লাশসহ অসহায় সুমাইয়ার পরিবারকে দ্রুত বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। এরপর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনির হোসেন মোটর সাইকেলযোগে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যায়।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে একইভাবে পুরাণবাজার রিফোজী কলোনীর মাতৃত্বকালীন রোগী ডাক্তারের অবহেলায় এ হাসপাতালেই মৃত্যুবরণ করে। এ নিয়ে হাসপাতালে তুমুল হট্টগোল ও ভাংচুরের ঘটনাও ঘটে। যে নার্সরা ইনজেকশন পুশ করেছিলো তারা কেউ ডিপ্লোমাধারী ছিলো না বলে একটি সূত্র থেকে জানা যায়। এ হাসপাতালে ইতিপূর্বে এ ধরনে বেশ কয়েকটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, সুমাইয়ার বাবা মোজাম্মেল হোসেন তার মাকে ছেড়ে অনত্রে বিবাহ করে। তার পর থেকে তার মা গার্মেন্টসে চাকুরী করে। সুমাইয়া ফরিদগঞ্জের ফারুক মুন্সির বাড়িতে থাকতো। তার মৃত্যুর সংবাদ তার মাকে এখনো পর্যন্ত জানানো হয়নি বলে জানাগেছে।
