প্রতিনিধি
কুমিল্লায় ট্রেনে দুষ্কৃতকারীদের ছুরিকাঘাতে আবদুর রহমান ফরহাদ (৩০) নামে এক সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিহতের গ্রামের বাড়ি ফরিদগঞ্জে চলছে শোকের মাতম। বগুড়া সেনানিবাসের ওয়ান সিগন্যাল ব্যাটালিয়নের সদস্য আবদুর রহমান ফরহাদ ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়নের মদনেরগাঁও গ্রামের পাটওয়ারী বাড়ির মফিজুর রহমানের তিন ছেলের মধ্যে সবার বড়।
গতকাল রোববার সকালে নিহত আবদুর রহমানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার মৃত্যু সংবাদে পুরো বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। ছেলেকে হারিয়ে মমতাময়ী মা হাছিনা বেগম পাগলপ্রায়। ঝুপড়ি ঘর থেকে শুধুই কান্নার আওয়াজ বের হচ্ছে। ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে তিনি শুধু বলছেন, কেনো, কে বা কারা তার ছেলেকে খুন করলো। তিনি হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।
আবদুর রহমানের মামাতো ভাই সোহেল আকবর জানান, সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার আবদুর রহমান বাড়িতে এসে মায়ের সাথে দেখা করে দুপুরেই চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে চলে যান। সেখান থেকে তার বাবা মফিজুর রহমান বগুড়ার উদ্দেশ্যে তাকে ট্রেনে উঠিয়ে দেন। শনিবার কুমিল্লার নাঙ্গলকোট রেল স্টেশনের অদূরে লাকসাম রেলওয়ে থানা পুলিশ আঃ রহমান ফরহাদের লাশ উদ্ধার করে। তিনি জানান, আবদুর রহমানের বাবাসহ পরিবারের সকলেই সপরিবারে চট্টগ্রামে থাকেন। সেখানে তার বাবা একটি মসজিদের ইমাম। ফরিদগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করায় কয়েক মাস পূর্বে তার মা হাছিনা বেগম একটি ঝুপড়ি ঘর তৈরি করে সেখানেই বসবাস করছেন।
গতকাল রোববার বিকেলে নিহত আবদুর রহমানের লাশ কুমিল্লা থেকে বাড়িতে পেঁৗছানোর পর বাদ মাগরিব পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আমির হোসেন কিরণ জানান, আমার জানামতে আবদুর রহমান ফরহাদের সাথে এলাকায় কারো কোনো বিরোধ নেই। ইউপি চেয়ারম্যান সফিকুর রহমান পাটওয়ারী জানান, আমরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
উল্লেখ্য, গত শনিবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের কুমিল্লার নাঙ্গলকোট স্টেশনের অদূরে গোত্রশাল নামক স্থান থেকে তার লাশ লাকসাম রেলওয়ে থানা পুলিশ উদ্ধার করে। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষা দেয়ার জন্যে ফরহাদ ৩ দিনের ছুটি নেন। পরীক্ষা শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে।
