রফিকুল ইসলাম বাবু ॥
চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের বাগাদী গণি উচ্চ বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষিক সংকর সারের ও শিক্ষিকা ফাতেমা আক্তারের নির্যাতন সইতে না পেরে ৮ম শ্রেণির ছাত্রী সাথী আত্মহত্যা করার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষিকা ফাতেমা বেগমসহ শিক্ষক দেলোয়ার, শংকর ও জাহাঙ্গীর আত্ম গোপনে রয়েছে। ঘটনার পর থেকে বিদ্যালয় ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করেছে। বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় স্কুল পরীক্ষা থাকলে অনেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত হননি ২২ জন শিক্ষক কর্মচারির মধ্যে ৬ জন অনুপস্থিত ছিলেন । মামলা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আলাউদ্দিন আটক। বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার শামসুনাহার বলেন, আমি ও ডিসি সাহেবসহ মঙ্গলবার সকালে বিদ্যালয় ও সাথী আক্তারের বাড়িতে যাই। সাথীর পরিবারকে সান্তনা দিয়ে আসি। তিনি ঘটনা সম্পর্কে বলেন, সাথী তার মার কাছ থেখে ৩শ’ টাকা টিউশন ফি চায়। তার মা তাকে ২শ’ টাকা দিয়ে অন্য বাড়ি থেকে ১শ’ টাকা ধার করতে যায়। এরই ফাঁকে মেয়েটি ঘরে মধ্যে আত্মহত্যা করে। কারন আগের দিন তার স্কুল শিক্ষক টিউশন ফির পুরো টাকা না আনায় ভীষনভাবে অপমান করে। এব্যাপারে মামলা হয়েছে এবং তদন্তকাজ চলমান। আসামীরা পলাতক রয়েছে।
এ ব্যাপারে আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীর বাবা দেলোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, আমার ৩টি মেয়ে আমি দিন মজুর হয়েও মেয়েকে স্কুলে পাঠাইতাম। সাথী আমার ছোট মাইয়া বড় আদরের। স্কুলের ফির জন্য সাথী আমার কাছে টাকা চায়। আমি পুরা টাকা দিতে পারি নাই। স্কুলে গেলে ফাতেমা মেডাম সাথীকে ক্লাশ থেকে বাইর কইরা দিয়ে বলে পুরা টাকা নিয়া স্কুলে যাইতে বলে। এই বলে তারে মাথায় চারা দিয়া ক্লাশের বাইরে দাড়া করাই রাহে ও বিভিন্ন ভাষায় বকাবকি করে। ২০টাকা কমের লিগা মেডাম তারে অপমান করে। মাইয়া আমারা স্কুলের অপমান সহ্য করতে না পাইরা নিজে নিজেরা মাইরা লাইল। আমির সরকারের কাছে আমার মাইয়রা মৃত্যুর জন্য দায়ী শিক্ষকের বিচার চাই। এ ব্যাপারে এলাকবাসী মুক্তিযোদ্ধা ডা. নুর মোহাম্মদ মিয়া, সাইফুল ইসলাম, নাজির শেখ, মোস্থাফিজ, আনোয়ারা বেগম, খাদিজা আক্তারসহ আরো কয়েকজন জানান, এই পরিবারটা নানার বাড়িতে থাকে তাদেরর কোন বসত ভিটা না থাকায়। স্কুলের অনেক শিক্ষকই ছাত্র/ছাত্রীদের বিভিন্ন সময় পরীক্ষার ফিস, টিউশনের টাকার জন্য অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে ও অপমান করে। বিশেষ করে এলাকার মেম্বার এছহাসের আত্মীয় দেলোয়ার মাস্টার। এছাড়াও শিক্ষক শংকর ও কমিউনিষ্ট পার্টির নেতা জাহাঙ্গীর। আমরা ঘটনার বিচার দাবী করছি। এর বিচার না হলে ভবিষ্যতে আরো ছাত্র/ছাত্রী সাথীর মতো কাজ করে বসতে পারে। উল্লেখ্য সোমবার ২৯ আগস্ট সোমবার সকাল ১১টায় সহকারী শিক্ষিকার নির্যাতন সইতে না পেরে ৮ম শ্রেণির ছাত্রী সাথী আত্মহত্যা করে । আত্মহত্যার শিকার সাথী আক্তারের পিতা হতদরিদ্র দেলোয়ার হোসেন তালুকদার চাঁদপুর শহরের পুরানবাজারে একটি তেলের আড়ৎ ঘরে শ্রমিকের কাজ করে।
এ ধরনের ঘটনা সমাজে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অহরহ ঘঠছে। অনেক অভিভাবকরা সন্তানদের কথা চিন্তা করে নিরবে নিবৃতে সহ্য করে যাচ্ছে। কারণ এই শিক্ষকদের কাছেই তাদের সন্তানদের শিক্ষা দান করাতে হবে। এমনি একটি ঘটনা গত কয়েকদিন পূর্বে শহরের বিষ্ণুদী ইসলামীয়া সিনিয়র মাদ্রাসার বৈকালিক নূরাণী ক্লাশে ঘটে। জানা যায়, আরবী শিক্ষক শাহীন আলম হুজুরের কাছে ওই এলাকার আয়শা আক্তার নামে এক শিক্ষার্থী তার কাছে আরবী পড়তে যায়। তার সাথে তার ৩ বছরের ছোট বোন পড়তে যাওয়ার বায়না ধরলে সে তাকেও সাথে নিয়ে যায়। এই ভাবে দু’দিন যাওয়ার পর নূরানী ক্লাশের হুজুর আয়েশা আক্তারকে তার ছোট বোনটিকে সাথে না নিয়ে আশার জন্য বলে। সে কারণ জানতে চাইলে শিক্ষক আয়েশা আক্তারকে ২শ’ টাকা সহ তার ছোট বোনকে নিয়ে আসার জন্য বলে। টাকা না আনতে পারলে ছোট বোনকে আনতে নিশেধ করে। আয়েশা বিষয়টি তার পরিবারকে জানালে বিষয়টি সম্পর্কে তার অভিভাবক বিষ্ণুদী ইসলামীয়া সিনিয়র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা জসিম উদ্দিনকে জানালে তিনি অদ্য পর্যন্ত এ বিষয়টি কোন বিচার ও কর্ণপাত না করে উপরোন্ত খাম খেয়ালীপনার পরিচয় দেয়।
এ বিষয়ে এলাকাবাসীর মাধ্যমে জানা যায়, অত্র মাদ্রাসায় ছাত্রদের চাইতে ছাত্রীর সংখ্যাই বেশী এবং বরাবর ছাত্রীরাই ভালো ফলাফল করে আসছে। কিন্তু এ ধরনের ঘটনার অন্যান্য ছাত্রীদের মাঝে পূণাবৃতি ঘটলে বাগাদীর উক্ত ঘটনাটির মতো প্রভাব পরতে পারে। শিক্ষক জাতীর মেরুদন্ড, মানুষ গড়ার কারীগর এবং সমাজের সম্মানিত ব্যাক্তি। কিন্তু এ ধরনে গুটি কয়েকজন শিক্ষকের জন্য শিক্ষক সমাজ কুলশিত হচ্ছে। তাই সচেতন মহলের দাবী উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এখনই এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
