শাহরিয়ার খাঁন কৌশিক ॥
চাঁদপুরে যাত্রীবাহী ৩টি লঞ্চে নৌ-পুলিশ অভিযান চালিয়ে কারেন্ট জাল ও পলিথিন সহ ২ আসামি আটকের পর ছেরে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুন্দরবন-১০ লঞ্চে থাকা ৫০ বস্তা পলিথিন মালিকের সাথে টাকার বিনিময়ে সমযোতায় মাল জব্দ না করে ছারার ঘটনায় নৌ-পুলিশের অভিযান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২ টায় চাঁদপুর মেঘনা নদীর লগ্নিমারা চর এলাকায়। নৌ-পুলিশের ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম টাকার বিনিময়ে আসামি ও পলিথিন ছেরে দেওয়ার খবর নৌ-পুলিশের উদ্ধর্তন কর্মকর্তার কাছে জানিয়েছেন ভূক্তভূগিরা।
জানাযায়, ঢাকা-চাঁদপুর ও বরিশাল গামী যাত্রীবাহি লঞ্চে প্রতিদিন বিপুল পরিমান পলিথিন এবং কারেন্ট জাল আনছে অসাধু ব্যাবসায়িরা। চাঁদপুরের কোস্ট গার্ড অভিযান চালিয়ে পলিথিন ও কারেন্ট জাল আটক করলেও নৌ-পুলিশের সাথে কন্টাক থাকায় তারা যাত্রীবাহি লঞ্চে অভিযান করেনা। যাদের সাথে কোন নতুন করে কন্টাক নেই শুধু তাদের মাল ধরতে নৌ পুলিশ রাতের আধাঁরে স্পীড বোড নিয়ে মেঘনা নদীর মাঝ খানে গিয়ে যাত্রীবাহী লঞ্চে অভিযান চালিয়ে কারেন্ট জাল ও পলিথিন জব্দ করার পর সেগুলো নদীতেই দালালদের মাধ্যমে বিক্রি করার গুরুত্তর অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। তেমনি মঙ্গলবার রাত ১০টা থেকে শুরু করে রাত ১ টা পর্যন্ত মেঘনা নদীতে স্পীড বোর্ড নিয়ে ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স ও তার একান্ত সোর্স জহিরকে সাথে নিয়ে অভিযান করেন। এসময় রাত সাড়ে ১০ টায় সুন্দরবন-১১ থেকে দুই ব্যেগ কারেন্ট জাল জব্দ করে। রাত ১১ টায় আন্নতমা লঞ্চ থেকে দুই ব্যেগ কারেন্ট জালসহ ২ জনকে আটক করার পর তাদেরকে বড়স্টেশন মূল হেড এলাকায় এনে তাদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ও জাল রেখে ছেরে দেয়। রাত সাড়ে ১২ টায় মেঘনা নদীর লগ্নিমারা চর এলাকায় গিয়ে চলন্ত অবস্থায় সুন্দরবন-১০ লঞ্চ থামিয়ে তল্লাশী করে ৫০ বস্তা পলিথিন জব্দ করে। পরে মালের মালিক ও লঞ্চের কেরানির সাথে ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম ও তার একান্ত সোর্স জহিরকে সঙ্গে নিয়ে গোপন সমযোতায় বসে। প্রায় ১ ঘন্টা বৈঠক করে লক্ষ টাকার রফাদফা শেষে তারা পলিথিন ছেড়ে দিয়ে চলে আসে। নৌ-পুলিশের সাথে থাকা অপর সোর্স ২ জন নৌ-পুলিশের ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম টাকার বিনিময়ে আসামি ও পলিথিন ছেরে দেওয়ার ঘটনা নৌ-পুলিশের উদ্ধর্তন কর্মকর্তার কাছে জানিয়ে দেন। এই ব্যাপারে নৌ-পুলিশের ইনচার্জ শহিদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কারেন্ট জালের সাথে ২ জনকে ধরার পর তাদের ছেরে দিয়েছি তা সত্য কিন্তু টাকা খেয়ে মাল ছারিনি। যদি কিছু হয়ে থাকে তা আমার সাথে থাকা এএসআই ২ জন বলতে পারবে।
এই ঘটনায় নৌ-এএসপি ফারুক জানায়, এই ঘটনা জানতে পেরেছি। তদন্ত করে দেখছি, যদি নৌ-পুলিশ জরিত থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।
লঞ্চ ঘাটে থাকা বেশ কয়েকজন লঞ্চ সুপারভাইজার জানায়, নৌ-পুলিশের ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম প্রতি রাতে নদীতে স্পীড বোর্ড নিয়ে অভিযানের নামে লঞ্চ থেকে কারেন্ট জাল, পলিথিন জব্দ করে সেগুলো বিক্রি করে টাকা নিজেরাই ভাগ ভাটয়ারা করে নেয়। এছারা লঞ্চ থেকে যুবক-যুবতি আটক করে তাদের টাকার বিনিময়ে ছেরে দেওয়ার অনেক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আবার যারা টাকা না দেয় শুধু তাদেরকে মডেল থানায় পাঠিয়ে দেয়।
