চাঁদপুরে স্বামী পরিত্যাক্তা যুবতী বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন, অতঃপর…….

শাহরিয়ার খান কৌশিক,

চাঁদপুর: চাঁদপুরে তিনটি বিয়ে করা স্বামী পরিত্যাক্তা যুবতী পুনরায় অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরকে বিয়ের দাবিতে তার বাড়িতে গিয়ে অনশন করছে। ঘটনাটি ঘটেছে চাঁদপুর সদর উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড বাখরপুর গ্রামে।
ঘটনার পরেই চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে যুবতী ফাহিমা আক্তারকে থানায় নিয়ে আসে।
এই ঘটনাটি ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে স্থানীয় কিছু দালাল চক্র ছেলের পরিবারের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য মেয়েকে দিয়ে এই নাটক সাজিয়েছে বলে অনেকে অভিযোগ করেন।
স্বামী পরিত্যাক্তা ফাহিমা আক্তার তিনটি বিয়ে করেছেন। এরমধ্যে চাঁদপুর হাইমচর উপজেলার আলগী বাজার এলাকায় প্রথম স্বামী, দ্বিতীয় বিয়ে বরিশালের ও তৃতীয় ঢাকায় বিয়ে করেন।
তৃতীয় স্বামীর ঘরে ৬ বছর বয়সী একটি মাত্র সন্তান রয়েছে। কিছুদিন পূর্বে তাদের ছাড়াছাড়ি হওয়ায় সেই সন্তান মেয়ের মা লালন-পালনের দায়িত্ব নেয়।
যুবতী ফাহিমা আক্তার ঢাকা আরামবাগ এলাকায় বাসা ভাড়া থেকে বিভিন্ন অনৈতিক কার্যকলাপের সাথে লিপ্ত হয়।
চান্দ্রা ইউনিয়নের বাসিন্দা কামালগাজি ছেলে ১৬ বছরের অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর জসিম গাজী ঢাকায় ফকিরাপুল এলাকায় এসির দোকানে কাজ শিখার জন্য যায়।
চান্দ্রা ইউনিয়নে ফাহিমা আক্তার ও জসিমের বাড়ি এক ইউনিয়নে হওয়ায় তাদের সাথে প্রায় সময় যোগাযোগ হতো। সেই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে কিশোর জসিম গাজীকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেয় তিন বিয়ে করা যুবতী ফাহিমা আক্তার। বিয়েতে রাজি না হওয়ায় ফাহিমা কিশোরের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান করে বিয়ের দাবিতে অনশন করে। এই ঘটনা এলাকা কিছু দালালচক্র নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে ঘটনাটি ঘোলাটে করার চেষ্টা করে।
এই ঘটনায় বিবাহিতা ফাহিম আক্তার ছেলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তাদের হেনস্থা করবে বলে হুমকি দিচ্ছে এমনটাই অভিযোগ করেন জসিমের পরিবার।
ফাহিমা আক্তার জানান, বিয়ে হয়েছে তা সত্য ,স্বামীরা ভালো না হওয়ায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সেই ঘরে একটিমাত্র সন্তান রয়েছে তাকে মা দেখাশোনা করছে। জসিমের সাথে ঢাকায় পরিচয় সে বিয়ে করবে বলে আশ্বস্ত করে। ফোন না ধরায় তার বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি বলে বিয়ের দাবিতে অনশন করেছি।

চান্দ্রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খান জাহান আলী কালু পাটওয়ারী বলেন, বিয়ের দাবি নিয়ে অনশনের বিষয়টি আমি জেনেছি। তবে এখনো আমার কাছে ছেলে-মেয়ের কোন পক্ষের কেউই গ্রাম আদালতে অভিযোগ করেনি। তবে পুলিশ খবর পেয়ে মেয়েকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।