চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে এখনও আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থী ঘোষনা করেনি
.. জেলা পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ্ব ইউছুফ গাজী
স্টাফ রিপোটার ঃ চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা আলহাজ্ব ইউছুফ গাজী দলীয় ৪ এমপি কর্তৃক প্রার্থী ঘোষনার বিষয়ে সাংবাদ সম্মেলন করেছেন। সোমবার ১৯ ডিসেম্বর রাতে চাঁদপুর প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ এমপিরা মিলে এক প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছে বলে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। যা দেখে নির্বাচনের প্রার্থী ও ভোটাররা বিব্রত হয়েছে। কারণ এটি দলীয় সিদ্ধান্ত নয়। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সাথে মোবাইলে কথা বলে পরিস্কার হয়েছি । আমাদেরকে বুজতে হবে যে চাইলেই সব কিছু করা সম্ভব না। সকল কিছুরই নিয়মনীতি রয়েছে। আমরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি। এ নির্বাচনে আমাদের দল থেকে সমর্থন দেয়ার বিষয়ে একটি মনোনয়ন বোর্ড রয়েছে। তাই এই সিদ্ধান্ত আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত না। মনোনয়ন দেয়ার স্বিদ্ধান্ত দিবে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
তিনি বলেন, চাঁদপুরে কোনো প্রার্থী না থাকায় আমরা মনোয়ন জমা দিয়েছি। আমি কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ ও বেশ ক’জন সংসদ সদস্যের সাথে কথা বলেছি। তারা সকলেই বলেছেন দল থেকে কাউকে প্রার্থীতা দেয়নি। আমরা যারা প্রার্থী হয়েছে তারা সবাই আওয়ামী লীগ করি। সেই ক্ষেত্রে এভাবে মিথ্যা কথা রটালো হলে আমাদের ক্ষতি হয়। তারপরেও কেউ যদি এটি বলে তবে ওই সিদ্ধান্ত হাস্যকর বলে মনে করা হবে। আমাদেরকে নিয়ে বসা উচিত ছিলো এবং আমাদেরকে জিজ্ঞাসা করা উচিত ছিলো। আমরা বেশ কিছুদিন ধরে মাঠে দাবরিয়ে বেরাচ্ছি। আগামীতে এই ধরনের প্রচারণা থেকে বিরত থাকতে হবে। যে প্রচারণায় প্রার্থীরা বিব্রত এবং বির্তকিত হয়। যে কেউ যেকোনো প্রার্থীকে ব্যাক্তি হিসেবে সমর্থন দিতে পারে কিন্তু দলকে ব্যবহার করতে পারে না।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যে চারজন এমপি বসে আলোচনা করেছে তাদের মধ্যে একজন মাত্র মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য। অথচ মনোনয়ন বোর্ডের মূল সদস্য ১৯ জন। ওনারা যে কাউকে সমর্থন করতে পারেন, কিন্তু দল সমর্থন দিয়েছে এ কথাটি বলা ঠিক না। দলের মনোনিত প্রার্থী থাকলে কেনো এমপি এই সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে পারতো না। যেহুতো দল মনোনিত কেনো প্রার্থী নেই সেহুতো এমপিগণ ব্যাক্তিগতভাবে সমর্থন জানাতে পারে। আজ সকালে কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদকের সাথে আমার কথা হয়েছে, তিনি বলেছেন দল কাউকেই সমর্থন দেয়নি।
এই ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কোন্দল দেখা দিবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেটি নির্বাচনের পরে বুঝা যাবে। তবে কোনো এমপি যদি ব্যাক্তিগতভাবে কাউকে ঘোষনা দিয়ে সমর্থন করে মাঠে নামে তবে সে ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রে আতংক থাকতে পারে।
চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি বিএম হান্নানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল রুশদীর পরিচালনায় প্রশ্নউত্তর পর্বে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কাজী শাহাদাত, শাহ্ মোহাম্মদ মাকসুুদুল আলম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, রহিম বাদশা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকরাম চৌধুরী, শহিদ পাটওয়ারী, অধ্যপক জালাল চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন মিলন, দৈনিক চাঁদপুর দিগন্তের প্রকাশক ও সম্পাদক অ্যাড. শাহজাহান মিয়া, দৈনিক আলোকিচ চাঁদপুর –এর প্রকাশক ও সম্পাদক জাকির হোসেন সহ অন্যান্য সাংবাদিকবৃন্দ।
