তুচ্ছ ঘটনায় দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ
প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু’র ছবি ভাংচুর ॥ জাতীয় পতাকার অবমাননা
শাহরাস্তি প্রতিনিধি ঃ
শাহারাস্তিতে তুচ্ছ ঘটনায় দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষের জের ধরে প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু’র ছবি ভাংচুর সহ জাতীয় পতাকা ছিঁড়ে পানিতে ফেলে অবমাননার ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৭টায় উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের আলীপুর পশ্চিম উত্তর পাড়া মজিদ হাজী বাড়ির সম্মুখে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ওই গ্রামের মফিজুল ইসলামের পুত্র মাহবুব রাজমিস্ত্রির কাজ করতো। দীর্ঘদিন যাবত পাশ্ববর্তী রাজাপুরা গ্রামের বেপারী বাড়ির মৃত মোবারক আলীর পুত্র আবুল কাশেমকে সাথে নিয়ে কাজ করতো মাহবুব। ৪ দিনের টাকা বকেয়া থাকায় ঘটনাস্থলে মাহবুরের সাথে কাশেমের কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার জের ধরে রাজাপুরা গ্রামের লোকজন কাশেমের সমর্থনে জিজ্ঞাসাবাদে আসলে ঘটে দ্বিতীয় ঘটনা। আর এতে একটি দোকানঘর ভাংচুর, লুটপাট সহ পাশে থাকা একটি ক্লাবে প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু’র ছবি ভাংচুর এবং জাতীয় পতাকা ছিঁড়ে পানিতে ফেলে তার অবমাননা ঘটায়।
এ ব্যাপারে আলীপুর গ্রামের মাহবুব পরিবার সূত্রে জানা যায়, কাশেম ৪দিনের টাকা পাবে সঠিক কিন্তু ঠিকাদার না দিলে মাহবুব কোথা থেকে দিবে মর্মে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে কাশেম মাহবুবকে গালমন্দ ও মারধর করে। কিছুক্ষন পরই রাজাপুরা গ্রাম থেকে কাশেমের ৩ ভাই, চাচাতো-জেঠাতো ভাই সহ ১৫-২০ জনের একটি দল এসে অতর্কিত হামলা করে। এতে মাহবুব, ইসমাইল হোসেনের পুত্র শেখ কামাল ও মাহবুবের ছোট ভাই রনি আহত হয়। ওই সময় আক্রমনকারীরা ক্লাবের ভিতর ঢুকে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাংচুর করে এবং জাতীয় পতাকার খুঁটি ভেঙ্গে পতাকাটি নিয়ে ছিঁড়ে পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়। ক্লাব ঘর বাঁচাতে গেলে কাশেমের ভাই কাইয়ুমের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয় মাহবুব।
এদিকে রাজাপুরা গ্রামের মৃত মোবারক আলীর পুত্র রায়হানের সাথে কথা বললে তিনি জানান, ঘটনার সময় আমরা কেউই ছিলাম না। আমার ভাই কাশেম গুরুতর আহত হয়ে আসলে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করতে যাই। ওই সময় মাহবুবের বাবা মফিজ চাচার দোকানের ভিতর থেকে একটি আদলা ইট হাতে তুলে নেয় শেখ কামাল ওরফে সেকু। এতে পরিবেশ একটু উত্তপ্ত হয়েছিলো। আমরা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে চলে আসি এবং কাশেমকে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু’র ছবি ভাংচুরের ঘটনাটি সত্যি তবে আমাদের ফাঁসাতেই ঘটনাটি ঘটিয়েছে মাহবুব সহ অন্যরা। আমরা চলে আসার পরও ছবিগুলো ঠিক ছিলো। যে দলের প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু আমরা তাঁদেরই অনুসারী।
ঘটনাটি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বার উভয় পক্ষের মাধ্যমে অবহিত হয়েছেন বলে জানান।
