প্রতিনিধি

এক সময় মেঘনা-ধনাগোদা নদীতে প্রতিদিন মতলব থেকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জগামী ৩০-৩৫টি লঞ্চ চলাচল করতো। এখন আর ধনাগোদা নদীতে লঞ্চ দেখা যায় না। পন্টুনগুলো লঞ্চ শূন্য হয়ে পড়ে রয়েছে। নেই যাত্রীদের নৌপথে চলাচল। মতলবের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় এখন যাত্রীরা সড়ক পথেই বেশি চলাচল করছে। এক সময় মতলব লঞ্চঘাটে যাত্রীদের ছিলো প্রচণ্ড ভিড়। মতলব ছিলো বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন কয়েকশ� যাত্রী নিয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশ্যে লঞ্চগুলো মতলব থেকে ছেড়ে যেত। এখন আর নৌপথে কোনো যাত্রী দেখা যায় না।
বেশ ক�টি লঞ্চ মালিকের সাথে এ প্রতিনিধি মোবাইলে আলাপ করলে তারা জানান, একদিকে তেলের দাম বেশি, অন্য দিকে লঞ্চযোগে যাত্রী সাধারণের চলাচল কম। যে পরিমাণ ভাড়া আদায় করা হয় তা দিয়েও আমাদের খরচ মিটিয়ে লঞ্চগুলো চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কর্মচারীদের বেতন দিয়ে আমাদের লোকসান হচ্ছে। সে জন্য মতলব থেকে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জগামী চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বিশেষ করে যাত্রীরা সড়ক পথে স্বল্প সময়ে যাতায়াত করতে পারছে বিধায় এখন আর নৌপথে যাতায়াত করে না বললেই চলে। অপরদিকে বেশ ক�জন ব্যবসায়ী জানান, লঞ্চের মাধ্যমে আমাদের মালামাল আনা-নেয়া করতে সুবিধা হতো। এখন লঞ্চগুলো চলাচল না করায় আমাদের মালামাল আনা-নেয়া করতে সমস্যা হচ্ছে। এক সময় মেঘনা-ধনাগোদা নদীর উপর দিয়ে ৩০-৩৫টি যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল করতো। এখন মাত্র দুটি লঞ্চ চলাচল করে। তাও একটি সকাল ১০টায় নারায়ণগঞ্জগামী মকবুল এক্সপ্রেস অপরটি ঢাকাগামী সকাল সাড়ে সাতটায় গ্রিন ওয়াটার মতলব থেকে ছেড়ে যায়। যাত্রীর সংখ্যা খুবই কম। বেশ ক�জন লঞ্চ যাত্রীর সাথে আলাপ করলে তারা জানান, ভাড়া বেশি, সময়ও বেশি লাগে। তারপরও সুযোগ-সুবিধার কারণে চলাচল করছি। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জগামী লঞ্চগুলোর চলাচল বন্ধ হওয়ায় এনায়েতনগর, টরকী, মাছুয়াখাল, শাহপুর, নায়েরগাঁও এলাকার যাত্রীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অপরদিকে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া পন্টুনগুলো অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকায় সরকারও রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় যাত্রীরা সময় বাঁচাতে গিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে সড়ক পথে চলাচল করছে এবং ব্যবসায়ীরা মালামাল আনা-নেয়া করতে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। অন্যদিকে শুকনা মৌসুমে ধনাগোদা নদীর কিছু অংশ শুকিয়ে যাওয়ায় মালবাহী ট্রলার ও জাহাজ চলাচল করতে বিঘ� সৃষ্টি হচ্ছে। মালবাহী জাহাজ মালিকরা জানান, ধনাগোদা নদী খনন করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী নদী খনন করা হলে নদীও বিলুপ্ত হবে না, মালবাহী জাহাজগুলো মালামাল নিয়ে সঠিকভাবে যাতায়াত করতে পারবে।
