হাসানুজ্জামান
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে শ্রমিক লীগের কার্যালয় ভাংচুর করার পায়তারা চলছে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি উপজেলার চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়নের চিতোষী বাজারে ঘটে। জানা যায়, ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন হওয়ার পর নতুন মনোনিত সভাপতি খালেদ মোশারফ নেছার আহম্মদের কাছ থেকে সংগঠনের অফিস হিসেবে ঘর ভাড়ায় নেন। ইতোপূর্বে একটি কূ-চক্রী মহল ওই অফিসটিকে ভাংচুর করে সাংগঠনিক কর্মকান্ডে ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে উঠে পড়ে লেগেছে।
এ ব্যাপারে ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি খালেদ মোশারফ বলেন, দীর্ঘদিনের অবহেলিত ইউনিয়ন শ্রমিক লীগ পুনঃ জাগ্রত হয়ে এলাকার বিভিন্ন সমস্যা গুলো সমাধান কল্পে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এরই সাথে গণ-প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর সু-যোগ্য কণ্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদ, ইভটিজিং, বাল্য বিয়ে-বহু বিয়ে, মাদক এবং জামায়াত শিবিরের অপ-তৎপরতা প্রতিহত করতে ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সকল সদস্য যখন দক্ষতা ও সাহসীকতার সাথে কাজ করে তখনই একটি মহল ওই সকল ভালো কাজে বাধা প্রয়োগ করে। বর্তমানে ওই চিহ্নিত মহলটি ঘরের মালিকের সাথে আতাত করে আমাদের সাংগঠনিক অফিসটি উচ্ছেদ করার অপচেষ্টা করছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গরা এ ঘটনায় স্বয়ংক্রিয় ভাবে জড়িত। সে তার লোকবল নিয়ে শ্রমিক লীগের আঞ্চলিক কার্যালয়ে হামলা চালায় এবং আমাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দসহ বিভিন্ন হুমকি-ধমকি প্রদান করে। এ সময় কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক দুলাল হোসেন, ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি খোরশেদ আলম, স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা জাবেদ হোসেন ও আবুল বাসার। এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ককে অবহিত করা হয়েছে। আমি এ বিষয়ে দলীয় নীতি-নির্ধারকদের কাছে সু-বিচার কামনা করি।
১নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, শ্রমিক লীগ মূল দলের একটি অংশ। তাদের বিপদাপদে মূল দল এগিয়ে আসবে এটাই স্বাভাবিক। রাতের অন্ধকারে যখন শ্রমিক লীগের কার্যালয় অবৈধ দখলের জন্য যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন ও স্থানীয় জসিম উদ্দিনসহ অজ্ঞাতনামা ১৫/২০ জন লোক যাচ্ছিল তখনই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই এবং সে বার কোনো মতে তার প্রতিহত করতে সক্ষম হই। দলীয় লোক হয়ে দলের অঙ্গ-সংগঠনের কার্যালয়ে হামলা করা দলের শৃংখলা ভঙ্গের সামিল বলে তিনি মনে করেন।
ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক শাহরিয়ার সুমন বলেন, পদ পাওয়ার পর যারা নিজেকে বিপদে ঠেলে দেয় তারা সাধারণ মানুষের কাছে ভয়ংকর হয়ে উঠে। ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক তারই একটি চিত্র। তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে বেশ কিছু অভিযোগ উঠেছে। যে গুলোর মধ্যে জায়গা দখল, দোকান দখল, অর্থের বিনিময়ে চুক্তিবদ্ধ কাজ উল্লেখযোগ্য। এ ধরনের ব্যক্তির ব্যাপারে যুবলীগের নীতি-নির্ধারকদের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।
