
খোরশেদ আলম শিকদার ঃ
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেপরোয়া দূর্নীতিতে অভিভাবক ও শিক্ষার্থী তাদের নিকট জিম্মি হয়ে পড়েছে। তাদের নানান খাতের ও অতিরিক্ত বেতন,ফি’র দিতে না পেরে ও তিরস্কার সইতে না পেরে অনেক শিক্ষার্থী লেখাপড়া বন্ধ করে দিয়েছে। আবার নতুন মাত্রায় আত্ব হত্যার ঘটনা যোগ হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এসব বেপরোয়া দূনীতি ও অনিয়ম নিয়ন্ত্রন করার যেন কেউ নেই ?
ক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, আমরা ছেলে মেয়ে জন্ম দেয়ার পর তাদেরকে মানুষের মত মানুষ করে তুলতে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় ভর্তি করি। ভর্তির পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ধার্য্যকৃত মাসিক বেতন, পূনঃ ভর্তি, নতুন ভর্তি, ভর্তি ফরম, কোচিং ফি, প্রগতি বিবরণী, মার্কশীট, ছাড়পত্র, প্রত্যয়ন পত্র, খেলাধূলা, স্কাউট, গার্লস গাইড, দরিদ্র তহবিল, মিলাদ, সাময়িকী, পাঠাগার, সিলেবাস, পরীক্ষার ফি,পরীক্ষায় অনউপস্থিত ও শ্রেণীকক্ষে অনউপস্থিতির জরিমানা, প্রসপেকটাস, প্রশংসা পত্র, সার্টিফিকেট ফি, বিজ্ঞানাগার, কম্পিউটার, প্রযুক্তি ফি, স্কুলের নির্ধারিত নোট বই, গাইড বই, খাতা বাবদ, ডায়েরী বাবদ, পরিচয়পত্র বাবদ, পিকনিক ফি, ঈদ পূর্নরমিলনী ফি, বৎসরে ৩ বার মডেল টেষ্ট পরীক্ষার ফি, ৩বার মিডটার্ম পরীক্ষার ফি, ৩বার সেমিষ্টার পরীক্ষার ফি, তাদের নির্ধারিত নোট বই, গাইড বই, খাতা, সিট, সিলেবাস, ড্রেস, অন্যান্য/বিবিধ ফিসহ প্রায় অর্ধশত প্রকারের খাত বা বিবরন দেখিয়ে শুধু টাকা আর টাকাই আদায় করে থাকে। এসব খাত দেখিয়ে শুধূ টাকাই নিয়ে থাকেন এর কিছুই করেনি।
এদিকে আবার প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফি, জেএসসি/জেডিসি এবং এসএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপ, এসব পরীক্ষার ফরম ফিলাপে গলাকাটা ফি নেয়ার অপেক্ষায় অধীর আগ্রহে বসে থাকে। ফরম ফিলাপ করার পর প্রবেশ পত্র দেয়ার সময় মোটা অংকের অর্থ আদায় করে থাকেন।
অভিভাবকরা আরো বলছে আমরা বাধ্য হয়ে প্রতিষ্ঠানে ছেলে-মেয়েদের ভর্তি করতে হয়। একজন সন্তান ভর্তি হলেই তার বেতন, বই, ফি দিয়ে সংসারে আর চাল ডাল ছাড়া কিছুই খাইতে পারিনা। এর মধ্যে ২/৩জন সন্তান থাকলে তাদের বেতন, ফিসহ নানান খাতের টাকা দিয়ে চাল ডাল ও জোগাড় করা কঠিন।
অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি শ্রেনীতে ৬/৭শ শিক্ষার্থী থাকলে ঐ ক্লাশে শিক্ষকরা কি পড়ায়। তাদের অভিযোগ কি সরকারী, কি বেসরকারী, কি কিন্ডার গার্টেন সর্বত্রই চলছে দূনীতি আর অনিয়ম।
সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাধ্যমিক স্কুলে ম্যানেজিং কমিটিতে আসতে অনেকে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যায় করেন। তারা ম্যানেজিং কমিটিতে আসার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এসব দূর্নীতির বিরুদ্ধে কোন প্রতিবাদ করেননি। বা লেখাপড়ার মান বৃদ্ধি নিয়ে কোন মাথা ব্যাথা দেখা যায় না।
এদিকে কিন্ডার গার্টেনের মালিকরা তাদের ইচ্ছা মতো নানান খাত দেখিয়ে অভিভাবকদের নিকট থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ঐ প্রতিষ্ঠানের মালিক তার নিজের লোকদেরকে দিয়ে নামে মাত্র কমিটি দেখায়। মূলতঃ ঐসব ম্যানেজিং কমিটির লোকজন তারা নিজেরাও জানেনা আদৌ সে কমিটিতে আছে কিনা বা থাকলে কোন পদে আছে আর পদ জানলেও তার কি করনীয় আছে।
