ফাহিম শাহরিন কৌশিক
চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের কমলাপুর-লক্ষ্মীপুর গ্রামে ৬০নাম্বার লডে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুত সমিতির আওতায় বিদ্যুত লাইন সংযোগ সম্পন্ন হয় দীর্ঘ দু’ বছর পূর্বে। এরপর প্রায় এক বছর পূর্বে চাঁদপুর-৩ আসনের সাংসদ ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বর্তমানে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডাঃ দীপু মনি কিছু গ্রাহকের মিটার সংযোগের পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যুত লাইনের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর দীর্ঘ এক বছর অতিবাহিত হলেও এ দু’ গ্রামের দু’শ’ গ্রাহক মিটারের টাকা জমা দিয়েও এখনও বিদ্যুৎ সংযোগ পাচ্ছে না। যার কারণে ঐ দু’শ’ পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহক চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম-এর সাথে যোগাযোগ করলেও মিটার নাই বলে তাদের ফিরিয়ে দেন। বিষয়টি নিয়ে বহুবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম খান একাধিকবার যোগাযোগ করেন। অথচ এরই মধ্যে আশপাশের বেশ ক’টি ইউনিয়নে বিদ্যুৎ মিটার সংযোগ দিয়ে চাঁদপুরের ডিজিএম লাইন সচল করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। কী অপরাধে কমলাপুর-লক্ষ্মীপুর পল্লী বদ্যুৎ গ্রাহকরা বিদ্যুৎ পাচ্ছে না, তা বোধগম্য হচ্ছে না। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, অফিসিয়াল ভাবে মোটা অঙ্কের উৎকোচের কারণে তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী মিটার সংযোগে এ সকল অনিয়ম ও দুর্নীতি স্থায়িত্ব পেয়েছে।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর সদর পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের ডিজিএম মোঃ মুহিতের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি কিছুই বলতে পারবো না। সবকিছুই চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুতের জিএম সাহেব জানেন। তিনি বলেন, মিটার সংযোগের ব্যাপারে কোনো প্রকার অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়নি। চাহিদা মোতাবেক মিটার না পাওয়া গেলে, সেক্ষেত্রে তাদের কিছুই করার থাকে না। ইতিমধ্যে কিছু মিটার এসেছে তা নিয়মানুযায়ী সংযোগ প্রদান করা হবে। বর্তমানে তার কাছে ১শ’ মিটারের বরাদ্দ এসেছে। চাহিদা এবং গুরুত্বানুসারে এ সকল মিটার সংযোগ দেয়া হবে। এক প্রসঙ্গে কমলাপুর-লক্ষ্মীপুরের বিদ্যুৎ সংযোগ উদ্বোধনের বিষয়টিকে তিনি অনেকটা হালকা করে বলেন, স্থানীয় সাংসদ উদ্বোধন করেছেন সত্যি! কিন্তু সেসময়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার মতো অবস্থা সৃষ্টি হয়নি। বিষয়টির প্রসঙ্গে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম মোহাম্মদ আবু ইউসুফ-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গতকাল চাঁদপুরের ডিজিএমকে ১শ’ মিটার বরাদ্দ দিয়েছি। সম্ভবতঃ বরাদ্দকৃত এ সকল মিটার ১শ’ ২১ নাম্বার লডে চাঁদপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ বালিয়া গ্রামে ৬০টি মিটার সংযোগ দেয়ার কথা বলা হয়েছে। বাকি ৪০টি মিটার অন্যান্য গ্রামগুলোতে সংযোগ দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অথচ চাঁদপুর সদরের লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের ৬০ নাম্বার লডকে ডিঙ্গিয়ে কমলাপুর গ্রামের পাশের গ্রাম দক্ষিণ বালিয়ায় ১শ’ ২১ নাম্বার লডে মিটার সংযোগ রহস্যজনক মনে হচ্ছে।
এব্যাপারে সরজমিনে সাধারণ জনগণের সাথে কথা বলে জানা যায়, আগের লড কমলাপুর-লক্ষ্মীপুর গ্রাম। সেকারণে দক্ষিণ বালিয়া গ্রামে মিটার সংযোগ দেয়া হলে এ দু’ গ্রামের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সম্ভাবনা রয়েছে এবং । এ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের জন্যে দায়ী থাকবেন চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম মোঃ আবু ইউসুফ ও চাঁদপুর সদর পল্লী বিদ্যুত সমিতির ডিজিএম মোঃ মুহিত। সচেতন মহল মনে করেন, চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে সদ্য বরাদ্দকৃত ১শ’ মিটার তা দু’টি গ্রামে সমপরিমানে ভাগ করে সংযোগ দেয়া হলে এ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ থেকে উত্তোরণ পাওয়া যেতে পারে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম খানের সাথে আলাপ করা হলে তিনি জানান, আমার ১০নং লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নে ৬০ নাম্বার লডের জনগণ প্রায় দেড় বছর ধরে তাদের মিটারের টাকা জমা দেয়ার পরও পল্লী বিদ্যুতের আলো থেকে বঞ্চিত রয়েছে। চাঁদপুর সদর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম-এর কাছে ১শ’ মিটার এসেছে তা আমি জেনেছি। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত সমাধানের জন্য চাঁদপুর-৩ আসনের মাননীয় সাংসদ ডাঃ দীপু মনি, পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও মাননীয় বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর নিকট আমার ইউনিয়নের বিদ্যুৎ গ্রাহকের মিটারের টাকা জমাদানকারীদের স্বাক্ষর সম্বলিত অভিযোগ নিয়ে দেখা করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, গ্রামাঞ্চলে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি ও বিদ্যুৎ মিটার সংযোগের নামে যে অর্থনৈতিক লেনদেন হচ্ছে, তার প্রমাণাদি নিয়ে তাদের দ্বারস্থ হবো। –
শিরোনাম:
শনিবার , ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ১১ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
