প্রতিনিধি
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ ও ফরিদগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। এ কারণে দলীয় ধানের শীষ প্রতীকের দুই মেয়র প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। বিএনপি ও এর বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোট যোগ করলে তা আওয়ামী লীগের বিজয়ী প্রার্থীদের চেয়ে অনেক বেশি হয়। বিএনপির স্থানীয় নেতারা এভাবেই তাঁদের পরাজয়ের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন।
জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আনোয়ার প্রথম আলোকে বলেন, ভোটের হিসাবে দেখা যায়, বিএনপি জয়লাভ করেছে। তবে দলে দুই বিদ্রোহী প্রার্থী এই দুটি পৌরসভায় ধানের শীষ প্রতীককে ডুবিয়ে দিয়েছেন।
গত বুধবার অনুষ্ঠিত ভোটের বেসরকারিভাবে পাওয়া ফলাফল হিসাব করে দেখা যায়, হাজীগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আসম মাহবুব উল আলম ১২ হাজার ৯৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী আবদুল মান্নান খান পেয়েছেন ১২ হাজার ১৭৬ ভোট। এখানে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী (জগ প্রতীক) হেলাল উদ্দিন মজুমদার পেয়েছেন ২ হাজার ১৫৪ ভোট। বিএনপির প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর ভোট যোগ করলে দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৩৩০ ভোট। এই তিন প্রার্থী ছাড়া এই পৌরসভায় মেয়র পদে অপর তিন প্রার্থী জাতীয় পার্টির (জাপা) এম এ সেলিম পেয়েছেন ১১৩ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শাহজাহান মিয়াজী ৪১৩ ভোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী চৌধুরী ওমর ফারুক পেয়েছেন ১৬৬ ভোট।
বিদ্রোহী প্রার্থী হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘জেলা বিএনপির শীর্ষ দুই নেতার পরামর্শে এবং এলাকাবাসীর অনুরোধে আমি প্রার্থী হয়েছিলাম।’
এদিকে ফরিদগঞ্জ পৌরসভায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন মঞ্জিল হোসেন পাটওয়ারী। এই পৌরসভায় বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. মাহফুজুল হক। তিনি পেয়েছেন ৬ হাজার ৪২২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী হারুন অর রশিদ পেয়েছেন ৪ হাজার ৯১০ ভোট ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মঞ্জিল হোসেন পেয়েছেন ৪ হাজার ৭৯০ ভোট। বিএনপি ও বিদ্রোহী প্রার্থী পেয়েছেন ৯ হাজার ৭০০ ভোট। এখানে অপর মেয়র প্রার্থী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দেলোয়ার হোসেন পেয়েছেন ৯৪২ ভোট।
বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মঞ্জিল হোসেন ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে নির্বাচনী ক্যাম্পে গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা তিনটার দিকে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে অভিযোগ করেন, ‘ভোট জালিয়াতি হয়েছে। তা না হলে আমি জয়লাভ করতাম।’
ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সাংসদ হারুনুর রশিদ বলেন, দলীয় ভোট ভাগ হয়েছে। বিএনপির প্রার্থীর পরাজয়ের এটাও একটা কারণ। এ ছাড়া ভোট জালিয়াতির কারণেও সমস্যা হয়েছে।
শিরোনাম:
মঙ্গলবার , ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ২৮ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
