মৎস্যজীবি মিলন বেপারী চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। এ ঘটনায় ফরিদগঞ্জ থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, চাঁদপুর জেলাধীন ফরিদগঞ্জ উপজেলা ৭নং পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নে কামালপুর গ্রামের মৃত অলি বেপারী ছেলে মিলন বেপারী পুকুরে, ডোবা ও নদীতে মাছ ধরে জীবিকা অর্জন করতো। গত ২১ জুলাই সোমবার গভীর রাতে মৎস্যজীবি মিলন বেপারী মাছ ধরে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা গলায় গামছা পেচিয় ও দেশিয় অস্ত্র দিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা চালায়। গত দু’ মাস পূর্বে মৎস্যজীবি মিলন বেপারী বড় মেয়ে তানিয়াকে (১৩) একই এলাকার মিজান বেপারীর মালিকানাধীন ট্রাক্টর চালক খোরশেদের ছেলে জসিম (২৭) প্রেম নিবেদন করে উত্যক্ত করে আসছিলো। মেয়েকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় ও এ ঘটনা জসিমের মালিক মিজান বেপারীকে জানালে সে উত্তেজিত হয়ে তানিয়ার বাবা মিলন বেপারীর উপর চড়াও হয়। এ নিয়ে এলাকায় জানাজানি হলে মিজান বেপারী কৌশলে মৎস্যজীবি মিলন বেপারী ও তার ছেলে রাশেদকে ফাঁসাতে থানায় একটি মিথ্যা নারী নির্যাতন মামলা দায়ের করে। প্রায় ১ মাস রাশেদ নিরাপরাধ হয়েও জেল খেটে বের হয়।
গত ২১ জুলাই সোমবার রাতে মৎস্যজীবি মিলন বেপারীর সাথে তার ঘনিষ্ট আত্মীয় সুলতান আহমেদের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩০)-এর সাথে বাজারে বাকবিতন্ডা হয়। লম্পট মিজান বেপারী ও তার ট্রাক্টর চালক মিজান বেপারী আনোয়ার হোসেনকে ফাঁসানোর জন্য ঘটনার দিন সোমবার রাত দেড়টায় কামালপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের রাস্তায় ৫-৬ জন নিয়ে ওঁৎ পেতে থাকে। মৎস্যজীবি মিলন বেপারী বেল দিয়ে খাল থেকে মাছ শিকার করে বাড়ি ফেরার পথে ওঁৎ পেতে থাকা মুখোশধারী সন্ত্রাসীচক্র তার উপর হামলা চালায়। এ সময় তারা মিলন বেপারীকে গলায় গামছা পেঁিচয় ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে স্কুলের পাশে কুয়াতে ফেলে দেয়। হামলাকারীরা মিলন বেপারীর মৃত্যু হয়েছে ভেবে ঘটনাস্থল থেকে চলে আসে। এর কিছুক্ষণ পর ঐ এলাকার মৎস্যজীবি ইসমাইল রাস্তা দিয়ে যাওয়ার পথে অজ্ঞান অবস্থায় মিলন বেপারীকে কুয়ায় পরে থাকতে দেখে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঘটনার দিন রাতেই চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালে এনে ভর্তি করায়। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মিজান বেপারী পূর্ব শত্র“তার জের ধরেই মিলন বেপারীকে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা চালিয়ে অন্যকে ফাঁসানোর জন্য অপপ্রচার চালায়। মিলন বেপারীর জ্ঞান ফেরার পর প্রকৃত হামলা কারীদের সম্পর্কে প্রকৃত ঘটনা জানা যায়।
এ ব্যাপারে আহত মিলন জানায়, ঘটনার দিন রাতে মিজান বেপারী, জসিম বেপারী, ফারুক বেপারীসহ আরো কয়েক জন তাকে জানে মেরে ফেলার জন্য পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকে। এর মধ্যে ৩ জনকে দেখে চিনে ফেলায় তারা গলায় গামছা পেছিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে ভেবে স্কুলের পাশের কুয়ায় ফেলে রেখে চলে যায়। জসিম বেপারী অন্যকে ফাঁসাতে এ ঘটনা ঘটিয়ে এলাকায় অপপ্রচার করে নিজেই ফেঁসে গেছেন।
শিরোনাম:
শনিবার , ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ১১ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।

