
মিজান লিটন
ফরিদগঞ্জ উপজেলায় ২ শতাধিক সমবায় সমিতির মধ্যে ৫৪টির নিবন্ধন বাতিলের জন্যে জেলা সমবায় কর্মকর্তা বরাবরে সুপারিশ করেছে উপজেলা সমবায় অফিস। এর মধ্যে জেলা সমবায় অফিস ৩৪টি সমবায় সমিতির নিবন্ধন বাতিল করেছে। এছাড়া ২০ টিকে অকার্যকর ও কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে উপজেলা সমবায় অফিস।
নিবন্ধন বাতিলকৃত সমবায় সমিতিগুলো হলো : ফরিদগঞ্জ উদয়ন সমবায় সমিতি, পূর্ব ভাওয়াল একতা সমবায় সমিতি, ফরিদগঞ্জ মানবসেবা সমবায় সমিতি লিঃ, রূপসা গ্রামীণ সেবা বহুমুখী সমবায় সমিতি লিঃ, ফরিদগঞ্জ রূপালী বহুমুখী সমবায় সমিতি লিঃ, শাশিয়ালী সোনালী বহুমুখী সমবায় সমিতি লিঃ, স্বপ্নছোঁয়া বহুমুখী সমবায় সমিতি লিঃ, কবিরূপসা আদর্শ বহুমুখী সমবায় সমিতি, অগ্রণী বহুমুখী সমবায় সমিতি, সাহার বাজার আত্মনির্ভর বহুমুখী সমবায় সমিতি, হাঁসা একতা বহুমুখী সমবায় সমিতি, ভাওয়াল সততা বহুমুখী সমবায় সমিতি, কেরোয়া ইসলামী বহুমুখী সমবায় সমিতি, মধ্য চরমথুয়া মানবকল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতি, বাঘড়া বন্ধু কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতি, ভোটাল ফ্রেন্ডস বহুমুখী সমবায় সমিতি, বদরপুর সোনার বাংলা বহুমুখী সমবায় সমিতি, উজ্জীবন বহুমুখী সমবায় সিমিতি, সেঞ্চুরী বহুমুখী সমবায় সমিতি, দক্ষিণ দেইচর লালসালুক বহুমুখী সমবায় সমিতি, নবদিগন্ত পল্লী উন্নয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতি, তাম্রশাসন বহুমুখী সমবায় সমিতি, ফরিদগঞ্জ তারুণ্যের স্বপ্নছোঁয়া বহুমুখী সমবায় সমিতি, আল-আরাধনা সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি, কালিরবাজার বহুমুখী সমবায় সমিতি, গ্রাম সেবা বহুমুখী সমবায় সমিতি, ভাটিয়ালপুর চৌরাস্তা প্রগতি বহুমুখী সমবায় সমিতি, পূর্ব ধানুয়া একতা বহুমুখী সমবায় সমিতি, মূলপাড়া সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি, শুভেচ্ছা সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি, ফাইভ স্টার সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি, ব্রাইট সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি, গোল্ডেন লাইফ সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি, ফরিদগঞ্জ উত্তর সঞ্চয় ও ঋনদান সমবায় সমিতি।
জানা গেছে, দেশের অর্থনৈতিক মন্দার কারণে সমিতিগুলোর মূলধন সঙ্কট, ব্যবসা পরিচালনা করার মতো নিয়মিত লভ্যাংশ না আসা, আয়ের চেয়ে ব্যয়ের খাত বেড়ে যাওয়া এবং ঋণ খাতের খেলাপির হার আশঙ্কা জনক হারে বেড়ে যাওয়ায় অধিকাংশ সমিতির ঋণের পরিবর্তে জমি ব্যবসা বা ক্রয় করে মূলধন সেই দিকে আটক থাকায় এবং জমির ক্রয়-বিক্রয় হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে পড়ায় সর্বোপরি পরিচালনায় অভিজ্ঞতার অভাবে ওই সমিতিগুলো দেউলিয়া হয়ে যায়।
এ ব্যাপারে উপজেলার বেশ কটি সমিতির পরিচালক জানান, একটি সমিতির অনিয়মের কারণে অন্য ভালো সমিতিগুলোকে বিপাকে পড়তে হয়। এর সাথে হুজুগে গ্রাহকরা ভালমন্দ না বুঝে বেশি মুনাফার আশায় নামকাওয়াস্তে সমিতি বা যুবক, ডেসটিনি, বিডিলিংক, স্পীক এশিয়া, এইমওয়ে, ইউনিপে-২, রেবেনেক্সসহ বিভিন্ন নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানে আমানত রেখে তা না পেয়ে এখন আর কাউকেই বিশ্বাস করছে না। উপজেলা সদরের বড় সমিতি জনকল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতি আবাসন খাতে বিনিয়োগকৃত টাকা উত্তোলন করতে না পারায় গ্রাহক তাদের অবিশ্বাস শুরু করে। ফলে হুড়মুড় করে সকলেই তাদের জমানো আমানত নিতে ভিড় করায় বিপাকে পড়ে এই সমিতিটি। বর্তমানে টাকার পরিবর্তে ফ্ল্যাট বা জমি গ্রাহককে বুঝিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে সেবা বহুমুখী সমিতি নামে আরেকটি সমিতির মালিক পক্ষের একজনের বিরুদ্ধে বিপুল অংকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এবং গ্রাহকদের আমানতের টাকা দিতে না পারায় সমিতিটি প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। এ ব্যাপারে ওই সমিতির মালিক পক্ষের একজন স্বপন জানান, আমাদের কাছ থেকে গ্রাহকরা যেভাবে আমানতের টাকা পাওনা তেমনি আমরাও প্রায় সমপরিমাণ টাকা গ্রাহকদের কাছ থেকে ঋণ বাবদ পাওনা। সকলেই গ্রাহকের আমানতের টাকা ফেরতের জন্য চাপাচাপি করলেও সমিতির পাওনা টাকা উদ্ধারে কোনো ব্যবস্থা নেই। ওই সমিতির গ্রাহক প্রতিমা রাণী দাস জানান, তার স্বামীর কষ্টার্জিত ২ লক্ষ টাকা সেবা সমিতিতে পড়ে আছে ৩-৪ বছর যাবৎ। পার্শ্ববর্তী রূপসা গ্রামীণ উন্নয়ন সমবায় সমিতির চেয়ারম্যান খোকন দেবনাথ নামে এক ব্যক্তি গ্রাহকের আনুমানিক ৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গ্রাহকদের পাওনা টাকা না দেয়ার অভিযোগে কয়েকদিন পূর্বে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ খোকন দেবনাথকে আটক করে রাতে অদৃশ্য কারণে ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। উদয়ন সমবায় সমিতির গ্রাহক মিজানুর রহমান পাটওয়ারী জানান, উদয়ন সমিতি ও প্রতিশ্রুতি সমিতি গ্রাহকের আমানতের টাকা যেভাবে দেনা রয়েছে সেভাবে মাঠে ঋণের টাকাও পাওনা রয়েছে। সমবায় অফিস দায়িত্ব নিয়ে আমানত ও ঋণ উত্তোলনের ব্যবস্থা করলে সকলেই উপকৃত হবে। ফরিদগঞ্জ উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা ফারুকুল ইসলাম জানান, ২০০১-২০০২ (সংশোধনী ২০১৩) অধ্যাদেশ অনুযায়ী যে সমবায় সমিতি ১ বছর নিষ্ক্রিয় থাকবে সেই অনুযায়ী এই ৩৪টি সমবায় সমিতির নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক দুরবস্থার চিত্র কাটলে সমিতিগুলো তার আগের অবস্থানে ফিরে আসবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
