হাসানুজ্জামান, চাঁদপুর প্রতিনিধি :
৭১-এ দেশ ও জাতি রক্ষায় যার হাতে হাতিয়ার বুকে ছিলো সাহস আজ তিনি অসহায় একজন মুক্তিযোদ্ধা এ রাষ্ট্র ও সমাজের কাছে। নিজ নামে খরিদা সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সমাজের প্রভাবশালী একটি কু-চক্রি মহলের কাছে। ঘটনাটি চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার দক্ষিণ ঠাকুর বাজারের। জানা যায়, উপজেলার টামটা দক্ষিন ইউনিয়নের ভিংরা বেপারী বাড়ীর মৃত আম্বর আলীর পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা আফাজ উদ্দিন পাটোওয়ারী ১৯৮২ সালে স্থানীয় ঠাকুর বাজারে ১২ শতক জায়গা ক্রয় করে। তিনি ক্রয়সূত্রে মালিক হওয়া স্বত্বে সামনের অংশে পাকা ঘর নির্মাণ করেন এবং পিছনের বৃহৎ অংশটি খালি রাখেন। গত ১৫/১৬ দিন পূর্বে গভীর রাতে কে বা কারা একটি টিনের ঘর তৈরী করে ওই জায়গায়। তারপর সঙ্গবদ্ধ কোনো দলের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে রাতের অন্ধকারে ওই জায়গায় মাটি ভরাট করে। পরস্পর জানা যায়, রায়শ্রী দক্ষিন ইউনিয়নের নোয়াপাড়ার মৃত আঃ মজিদের পুত্র আবুল বাসার খরিদা সূত্রে ওই জায়গার মালিক হন। যে কারনে তিনি সরকারী নিয়মনীতি অথবা ভূমি আইনকে তোয়াক্কা না করে নিজের অর্থ ও প্রতিপত্বির প্রভাব বিস্তার করে রাতের অন্ধকারে গোপনে ওই জায়গায় ঘর নির্মান ও মাটি ভরাট করেছেন এমন অভিযোগই করেন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা। নথি সূত্রে জানা যায়, সিএস ১৮৬ ও এসএ ১৫৬ খতিয়ানে ওই জায়গার মালিক ছিলেন সীতানাথ ভট্রাচার্য। তার পুত্র আদিনাথ ভট্রাচার্যের ছেলে ব্রজলাল ভট্রাচার্য ১৯৮০ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ৬২৭ দাগে ৩৬ শতক জায়গা বিক্রি করেন -মমতাজ উদ্দিন, নুরুল ইসলাম ও নুরুল আমিনের কাছে। বীরমুক্তিযোদ্ধা আফাজ উদ্দিন ১৯৮২/৮৩ সালে নুরুল ইসলামের কাছ থেকে ১০৭৪নং দলিলে ৬২৭ দাগে ৮ শতক জায়গা ক্রয় করেন। ৬২৩৭নং দলিলে ১ শতক ও একই দাগে ২য় দফায় নুরুল ইসলামের কাছ থেকে ২৪৬৯ নং দলিলে ৩ শতক জায়গা সহ সর্বমোট ১২ শতক জায়গা ক্রয় করেন। ক্রয়ের পর আবেদন স্বাপেক্ষে ৩৮৪/৮৫-৮৬ সালে তিনি নিজ নামে নামজারি করান। ক্রয়ের পর যখন জানতে পারেন ওই জায়গা অর্পিত, তখন আফাজ উদ্দিন ১৯৯৫ সালের ৭ মার্চ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব বরাবর আবেদন করলে তিনি সে আবেদন মঞ্জুর করেন। যার প্রেক্ষিতে ২৫/৯৩-৯৪ নং ভিপি মিস কেইচ করলে ১৯১৭ সালের রেকড ম্যানুয়েলের ১২৯নং বিধি মোতাবেক অবমুক্তির আদেশ জারি প্রদান করা হয়। যা ১৬২নং স্বারকের অনুকুলে ১৯৯৫ সালের ১৬ ফেব্র“য়ারী থানা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী সেটেলম্যান্ট অফিসার, মেহার (দঃ) ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও বীর মুিক্তযোদ্ধা আলহাজ্ব আফাজ উদ্দিন পাটোয়ারী শাহরাস্তি, চাঁদপুরকে অবহিত করা হয়। তাছাড়া উপজেলা ভূমি অফিস ২০০৮ সালের ২৩ জানুয়ারী উক্ত জায়গার দখল ও মালিকানার উপর সরেজমিন প্রতিবেদন প্রদান করেন উপজেলা চেয়ারম্যান বরাবর। যার স্মারক নং ৩৬০, তাং- ১২/১২/২০০৭ইং ও ৪-২৪/২০০৮-৫৮। সেখানেও আফাজ উদ্দিন কে প্রকৃতি খরিদা সূত্রে ও ভিপির অন্তভূক্ত হতে অবমুক্তি মূলে দখলদার এবং মালিকদার উল্লেখ করেন। এতদ্বসর্ত্বেও এ ব্যাপারে পক্ষে বিপক্ষে মামলা মোকদ্দমা আদালতে চলমান। সুশীল সমাজের প্রশ্ন, সরকারী রীতি নীতি অনুযায়ী সকল সত্যতা থাকা স্বত্বেও কি ভাবে অন্যেরা এভাবে রাতের অন্ধকারে জায়গা ভরাট করে টিনের ঘর নির্মান করে। এভাবে একজন মুক্তিযোদ্ধা সঠিক পন্থায় থাকার পরও এ সমাজের প্রভাব শালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে অত্যাচারিত হলে সাধারন মানুষের নিরাপত্তা এদের কাছে হীন এমনই অভিযোগ করেন তারা। অন্য দিকে দখলদার আবুল বাসারের পক্ষে তারই ভায়রা ভাই স্থানীয় ঠাকুর বাজার ব্যবসায়ী সৈয়দ আহাম্মদ জানান, রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের নোয়াপাড়ার মৃত আঃ মজিদের পুত্র আবুল বাসার ২০০৯ সালে ৬২৬ দাগে ৭ ও ৬২৭ দাগে ৫ সহ ১২ শতক জায়গা ক্রয় করেন মৃত ধীরেন্দ্রনাথ ভট্রাচার্যের পুত্র অরুন ভট্রাচার্য, ভূলন ভট্রাচার্য (প্রকাশ) এবং বিমল ভট্রাচার্যের কাছ থেকে। সে সুবাদে আবুল বাসার ওই সম্পত্তির মালিক। এ বিষয়ে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি মামলা রয়েছে আদালতে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ক্রয় সূত্রে মালিক হলে দিনে বা রাতের যে কোন সময়ে ওই জায়গার উপর কাজ করাতে পারেন ক্রেতাপক্ষ।
মন্তব্য করা যেতে পারে যে, ভূমি আইনের আওতায় দীর্ঘদিনের সৃষ্ঠ ও জটিলতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন একটু উদার ভূমিকা পালন করলে হয়তো পাওয়া যাবে এর সঠিক সমাধান।
