প্রতিনিধি
ঢাকা-বরিশাল নৌপথে প্রায় ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত জাহাজ ‘এমভি বাঙালি’র চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি)। নির্মাণ-ত্রুটির কারণে জাহাজটিকে ডকে পাঠানো হয়েছে।
গত ২৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই নৌপথে জাহাজটির উদ্বোধন করেন। ১০ এপ্রিল থেকে জাহাজটি যাত্রী পরিবহন শুরু করে। মাত্র ১৭ দিন পর গত সোমবার জাহাজটির চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, জাহাজটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণী এবং চেয়ার এলাকায় নির্মাণ-ত্রুটি ধরা পড়েছে। এ ছাড়া প্রথম শ্রেণী ও চেয়ারের যাত্রীসেবার মানেও ত্রুটি ধরা পড়ায় সোমবার যাত্রী পরিবহন বাতিল করা হয় এবং গতকাল মঙ্গলবার জাহাজটি এর নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিমিটেডে পাঠানো হয়।
সূত্র জানায়, ২০১২ সালের অক্টোবর মাসে দুটি জাহাজ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় বিআইডব্লিউটিসি। এর মধ্যে এমভি বাঙালির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। জাহাজটি নির্মাণে খরচ হয়েছে ২৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। জাহাজটির যাত্রী ধারণক্ষমতা ৭৫০ জন।
জানতে চাইলে এমভি বাঙালির প্রকল্প পরিচালক ও বিআইডব্লিউটিসির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়াউল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, জাহাজটি চালু হওয়ার পর যাত্রীরা কিছু অভিযোগ দিয়েছেন। বিশেষ করে দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণী এবং চেয়ার এলাকায় বাতাস চলাচল না করার সমস্যা রয়েছে। এসব ত্রুটি সংস্কারের জন্য সার্ভিস বন্ধ রাখা হয়েছে।
বরিশাল শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি এবং লঞ্চ মালিক সমিতির সহসভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, ‘আমাদের এক হাজার ২০০ জন ধারণক্ষমতার বিলাসবহুল জাহাজ তৈরিতে খরচ পড়ে সাড়ে আট থেকে ১০ কোটি টাকা। অথচ ৭৫০ জন ধারণক্ষমতার বাঙালি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা।’
এ বিষয়ে মো. জিয়াউল ইসলাম দাবি করেন, এমভি বাঙালি তৈরিতে দামি যন্ত্রপাতি ও উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন লঞ্চমালিক বলেন, ‘সরকারি কাজ। এক টাকার কাজ, তিন টাকা দেখানো হয়। কাজের কাজ হয় না। সরকারের কোটি কোটি টাকা গচ্ছা যাওয়া ছাড়া কাজের কাজ কিছুই হবে না।’
