প্রতিনিধি
শাহ্রাস্তির ভোলদিঘি কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওঃ দেলোয়ার হোসেনের অপসারণের দাবিতে স্থানীয় এলাকাবাসী বিক্ষোভ ও ঝাড়ু মিছিল করেছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় স্থানীয়দের উদ্যোগে মিছিলটি উপজেলার মেহের দক্ষিণ ইউনিয়নের ভোলদিঘি পশ্চিম বাজার থেকে শুরু হয়ে বাজারের বিভিন্ন সড়ক ও অধ্যক্ষের বাড়ির সম্মুখ প্রদক্ষিণ করে মাদ্রাসা গেটে শেষ হয়। ওই সময় উত্তেজিত জনতা অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেনের অপসারণসহ তার সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, অধ্যক্ষ মাওঃ দেলোয়ার হোসেন একক আধিপত্য বিস্তার করে নিজের মনগড়া মতো মাদ্রাসা পরিচালনা করছেন। মাদ্রাসার যে কোনো সিদ্ধান্ত তিনি নিজেই নিয়ে থাকেন। যাতে মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদকে কিঞ্চিৎ পরিমাণ জানানোর প্রয়োজন মনে করেন না।
মাদ্রাসার যে সকল বিষয়ে তার অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে তার মধ্যে ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষার প্রবেশপত্র ফি ৫০ টাকার স্থলে ৩শ’ ৫০ টাকা, ৮ম শ্রেণির তথা জেডিসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র ফি ৩শ’ টাকার স্থলে ৫শ’ টাকা নিয়েছেন অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন। এ বিষয়ে কোনো অভিভাবক প্রতিবাদ জানালে বা বাড়তি টাকা নেয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি প্রতিবাদী অভিভাবকদের লাঞ্ছিত এমনকি অশালীন ভাষায় কথা বলেন। অভিভাবকরা কোনো বিষয়ে তার কাছে গিয়ে ভালো আচরণ পায়নি। গত ২১ নভেম্বর দি স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের বৃত্তি পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে মাদ্রাসাটি ব্যবহার করলেও এ বিষয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি কিংবা প্রশাসনের কোনো লোক বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নয়। তিনি নিজ স্বেচ্ছাচারিতায় কাউকে কিছু না বলে তাদের মাদ্রাসা ব্যবহারের অনুমতি দেন।
এছাড়া তিনি মাদ্রাসা থেকে হজ্বের ছুটি নিয়ে ভোলদিঘি এতিমখানার নামে বিভিন্নজনের কাছ থেকে যে অনুদান উত্তোলন করেন তার সঠিক কোনো হিসেব কাউকে দেন না এমনকি কেউ জানতে চাইলে তাকে দেয়ার কোনো প্রয়োজন মনে করেন না। যার ফলে অনুদানপ্রাপ্ত অর্থের হিসেব না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। ভোলদিঘি কামিল মাদ্রাসা সংলগ্ন ভোলদিঘি জামে মসজিদে নামাজ আদায়কারীদের তিনি বেদায়াতী বলে ঘোষণা করেন।
সম্প্রতি মাদ্রাসার এক ছাত্র ১০ মিনিট দেরিতে আসায় তিনি ওই ছাত্রকে কিল-ঘুষি মেরে রক্তাক্ত জখম করেন। যা স্থানীয় বেশ কটি দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। ওই ঘটনার পরও তিনি নিজ দাম্ভিকতায় মাদ্রাসা পরিচালনা করে আসছেন। এমন অপকর্মধারী, অশালীন ভাষা ব্যবহারকারী, স্বেচ্ছাচারী, অর্থলোভী অধ্যক্ষের দ্রুত অপসারণ দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
প্রসঙ্গতঃ বিক্ষোভ ও ঝাড়ু মিছিলকালে বিক্ষোভকারীরা ‘অধ্যক্ষের দুই গালে-জুতা মারো তালে তালে’, ‘দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষের অপসারণ চাই’, ‘জামাত-শিবিরের আস্তানা জ্বালিয়ে দাও-পুড়িয়ে দাও’সহ বিভিন্ন শ্লোগান দেয়। বিক্ষোভ ও ঝাড়ু মিছিলে উপজেলার ভোলদিঘি, পদুয়া, ফতেপুর, মালরা, দারুণকরা, সোনাপুর, কাজিরকাপ, কাজিরনগর, দেবকরা ও নিজমেহার গ্রামের লোকজন অংশগ্রহণ করে।
