এম. সাখাওয়াত হোসেন মিথুন
আমরা বর্তমানে ওয়ানটাইম সংস্কৃতিতে আক্রান্ত্ম। সকল কিছু ওয়ানটাইম ভালবাসতে বাসতে জীবনটা নিয়েও আমরা এমনটি ভাবছি। আমরা চাচ্ছি এক সাপ্তাহের মধ্যে আমাকে রোগাবদখত নয় সুদর্শন দেখাবে। শক্তি সালি পুরুষ বা নারী মনে হবে। শুধু মনে হবে তাই নয় আমি প্রমান করবো আমি একজন শক্তি শালি পুরুষ বা নারী। আমাদের শরীরে আমরা সব সময় পূর্ণ শক্তি পূর্ণ জোয়ার কামনা করছি। আমরা চাচ্ছি হতে জগত শ্র্েষ্ঠ বডি শোয়ার, শক্তি সালি যুবক যুবতীদের একজন হতে। আর তার জন্য আমরা নির্ভর করছি। বর্তমান সেবা দানকারি কিছু অসাধু অমানবিক ডাক্তার, হেকিম, কবিরাজ, ক্লিনিক ব্যবসায়ীর প্রতি বাংলাদেশের সরল সহজ মানুষদের শ্রেণী বিভাগে যার যার মত অধিক মুনাফার আশায় জীবন নাশের বিভিন্ন ফাঁদ পেতেছে। পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই বলে এক শ্রেণী সাধারণ মানুষের বাজার দখল করে আছে। সরল প্রাণ মানুষের ধারণা গাছ গাছড়া থেকে যে ঔষধ তৈরি হয় তাতে ভেজাল থাকার কথা নয়। আর এই ঔষধই এখন হারবাল চিকিৎসা নামে খ্যাত। হারবাল চিকিৎসা এখন বাংলাদেশে বিভিন্ন নামে পরিচিত। দেশীয় লতা পাতা গাছ গাছড়া গাছের শিকড়,বাকল থেকে তৈরী করে বিভিন্ন নামে দেশীয় ঔষধ বিদেশী নামে চালিয়ে যাচ্ছে। যেমন আমেরিকান, জার্মান, ইন্ডিয়ান, চায়ানা, কুরিয়ান, মাদ্রাজ, প্যারিস এই রকম বিদেশী নামে অসংখ্য হারবাল প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে গড়ে উঠেছে। তাদের পূজি বড় বড় সাইনবোর্ড, বেনার, লিপলেট, এবং বিভিন্ন বেসরকারী টিভি চ্যানেল গুলোতে আকর্শনীয় বিজ্ঞাপন যার মাধ্যমে প্রচার করছে কুরুচি পূর্ণ পরমর্শ আপনি কি স্থায়ী ভাবে মোটা হতে চান! সুস্বাস্থের অধিকারি হতে চান, চিকন স্বাস্থ্য স্থায়ী ভাবে মোটা করা হয়। আপনি কি বিশেষ মূহুর্তে দূর্বল! আপনি কি গর্ভাবন্ধা, বিয় করতে ভয় পাচ্ছেন, পুরুষ ও মহিলাদের যাবতীয় গোপন সমস্যা। আপনাকে আরো লাবণ্য ময়ি আরো আকর্ষণীয় করর্তে আজই চলে আসুন। ৩ ঘন্টায় ফলাফল! ৭ দিনে চিরমুক্তি! ওপেন চ্যালেঞ্জ! বিফলে মূল্য ফেরৎ! এই সমস্যাগুলি মুখে মুখে বলা মাত্রই যেন সমাধান হয়ে গেল ঠিক বলতে না বলতেই যেমনটি প্রত্যাশা রোগিদের যে আমি এখনি সুস্থ্য। নিয়মিত তারা শিরক করছেন। যত জটিল ও কঠিন রোগই হোক তারা সারানোর ক্ষমতা রাখে। কোন ডাক্তার, হেকিম কবিরাজ কি ৩ দিন ৫ দিন ৭ দিনে রোগ সারাবেই এমন চ্যালেঞ্জ একি স্রষ্টার হাত ধরা নয়! স্রষ্টা মুক্তি না দিলে কারো রোগ কি কখনো সারে। সরলতার সুযোগ নিচ্ছে কিছু গলাবাজ অসাধু নামধারী হেকিম, কবিরাজ, ডাক্তার, ক্লিনিক ব্যাবসায়ীরা। নামধারী এই সকল ঔষধ তৈরি হয় বিভিন্ন হেকিম, কবিরাজের বাসায়।২/৪টা ভালো মানের প্রোডাক্ট ডিস্প্লে করে বাকি সবই অত্যন্ত্ম নিম্ন মানের ও মানহীন ঔষধ নামের পানিয় দিয়ে চলছে ব্যবসা। অনেক অনেক হেকিম কবিরাজ হকার গর্ভবোধ করে বলে এটা আমার হাতে তৈরি দীর্ঘ্য ৩০, ৪০, ৫০ বছর আমি এই কাজ টুকুই করছি। তারা সর্ব রোগের মহৌষধ বিক্রয় করে থাকে। আমাদের দেশে হকাররাও ঔষধ উৎপাদন ও বিক্রয়ে যথেষ্ট পারদর্শি। তাদেরও চালন চাপাবাজি হাটে, বাজারে, গাঁয়ে গঞ্জে গিয়াও মানুষের সাধারণ যে সকল সমস্যা সচরাচর সে গুলি তুলে ধরে বিভিন্ন ভাবে সরল মানুষদের ধোকা দিচ্ছে। সাপ ও মানুষের মিলনের ছবি, দু একজন খ্যাত নামা মানুষের বানী প্রচার করে মাইক, সাউন্ড বঙ্ বা মুখে মুখে বলে চলছে তাদের ঔষধ ব্যবসা বিক্রয় হচ্ছে সাপ, জোঁক, কেঁচো ও মাছের তেল। বিভিন্ন গাছ গাছরা লতা পাতা দেখিয়ে এক ধরণের বড়ি। বিক্রয় হচ্ছে বিভিন্ন জাতের কচু দিয়ে তৈরি এক ধরণের বড়ি। অবাধে বিক্রি করছে যৌন উত্তেজন বড়ী, টনিক, সিরাপ, বিভিন্ন মাদকও। হাটে বাজারে ভ্রাম্যমান কৌতুক মঞ্চ্য, ভ্রাম্যমান গান বাজনা করে লোক জমিয়ে তার পর তারা স্বার্থ সিদ্ধি করে চলে আসছে। কিন্তু সরল প্রাণ যারা নির্ভর হল ঔ সব ঔষধে তাদের পরিনাম কি? হাতে গোনা কয়েকটি বড় কোম্পানী ছাড়া বাকি সব গুলি কোম্পানী নিম্ন মানের ঔষধ উৎপাদন ও বাজারজাত করে চলছে অবাধে। মানহীন এই সব পন্য ডাক্তার মেডিসিন, ব্যবসায়ীদের দিয়ে খাওয়াইয়ে দিচ্ছে সাধারণ মানুষদের। মানহীন এই সব ঔষধের উপকারিতা থাক অপকারিতার পরিনাম কতো ভয়াবহ তাই বিবেচ্য বিষয়। আমরা কেউ নির্ভর করছি বিদেশি ঔষধের উপর মোটা হতে এরিকটিন, ফ্রুকটিন (লাল, সাদা) ডেকাসন, ডেঙ্ামিন যৌন সমস্যায় টার্গেট, আগ্রা, সেনাগ্রা, বায়াগ্রা, নানা বিধ জীবন নাশক ঔষধের প্রতি এগুলো কতুটুকু উপযোগী আমাদের দেহের জন্য তা আমরা দেখছিনা। দুঃখ জনক বিহিঃবিশ্ব ঔষধ উৎপাদন করে পরিক্ষা মূলক ভাবে আমাদের জন্য পাঠায় জার ঝুকি পূর্ণ ব্যবহার আমাদের দিয়ে শুরু। যার উপকার ক্ষতির পরিমাণ আমাদের দারাই নির্দিষ্ট হবে। কিন্তু এই বাণিজ্য এতই ব্যপক সকল সচেতন মানুষেই দেখছে কত নিম্ন মানের মানহীন অবৈধ নামধারী ঔষধের সরবরাহ ক্রয় বিক্রয় সর্বত্র। যারফলে অকাল মৃত্যু, অকাল বার্ধক্য, দৃষ্টি হীনতা, অজ্ঞহানী, পঙ্গুত্য ক্যান্সার পুরষত্ব হীনতা নারীত্ব হীনতা মেহ প্রমেহ, হাপানী, যক্ষা, আলস্য ইত্যাদি ব্যাধিতে আক্রান্ত্ম হচ্ছে। আমরা হারাচ্ছি বাল্ব, কিডনী, ফুসফুস, কলিজা, দূর্বলতা, স্বাস্থ্য হীনতা আমাদের নিত্য সঙ্গি আমাদের রোগ সারছে না বরং রোগাক্রান্ত্ম থেকে রোগাক্রান্ত্ম হচ্ছি। জগত শ্রেষ্ঠ সম্পদ মানব সম্পদ। আর সু-স্বাস্থ্য, সুস্থ্যতা সকল সুখের মূল মানুষের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। আজ সে মানুষের দেহ ও জীবন নিয়েই চলছে ছিনি মিনি বাণিজ্য। সরকার প্রশাসনেরও বিষয়টি জ্ঞাত। তথাপিও এসব নিধনের যৎসামান্য উদ্যোগ থাকলেও কার্যকরি ভূমিকা নেই বলে শিক্ষিত সমাজের দাবি। মানুষকে সুস্থ্য সুন্দর ভাবে বাঁচাতে এসব মূল থেকে নিধনে সরকার ও প্রশাসনের দ্রুত সচেষ্ট হওয়া সচেতন মহলের প্রত্যাশা। আমরাও ব্যক্তি পরিবার থেকে সচেতন হবো।
শিরোনাম:
মঙ্গলবার , ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ২৮ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
