স্টাফ রিপোটার ঃ চাঁদপুর জেলার কচূয়ার উপজেলার পলাশপুর এলাকায় ডিবি পুলিশ কর্তৃক কষ্টি পাথরের শিবলিঙ্গ মূর্তি উদ্ধার এবং আসামী গ্রেফতার নিয়ে নানা ধ্রুম্যজাল সূষ্টি হয়েছে । তবে মূর্তি উদ্ধার এবং আসামী আটকের এ ঘটনাটি চাঁদপুরের স্থানীয় পত্রিকায় এবং জাতীয় ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ব্যাপক প্রচারিত হয় । কিন্তু এ ঘটনার ৫ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো কচুয়া থানায় এ ঘটনায় এজহার করা হয়নি । শুধুমাত্র দায়সারা ভাবে এ ঘটনাটি কচুয়া পুলিশ সাধারন ডায়রীভুক্ত করা হয়েছে । আর কষ্টি পাথরের শিবলিঙ্গ মূর্তিটি কচুয়া থানায় সাধারণ ডায়রীভুক্ত প্রেক্ষিতে জব্দ দেখানো হয়েছে । জানা গেছে, কষ্টি পাথরের শিবলিঙ্গ মূতি উদ্ধার নিয়ে গত ২ এপ্রিল চাঁদপুর গোয়েন্দা শাখার এস আই মোঃ ফিরোজ আলম ১৯৭৪ইং সনের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫-খ কচুয়া থানায় একটি এজহার দাখিল করেন । কিন্তু কোন কারন ছাড়াই কচুয়া থানা পুলিশ এজহারটি আমলে নেইনি । সেই সাথে এ ঘটনায় আটক শ্রী মনিন্দ্র কামলা(৫৫) পলাশপুর কচুয়াকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ । তাই এ নিয়ে বিশেষ করে কচুয়া থানা পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে । এ নিয়ে পুলিশ ও ডিবি পুলিশের ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে । চাঁদপুর ডিবি পুলিশ থেকে এ ব্যাপারে কেউ মুখ খুলছেন না । জব্দকৃত কষ্টি পাথরের শিবলিঙ্গ মূর্তিটির বাজার মূল্য ৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা । তবে বর্তমানে এ ঘটনাটি নিয়ে কচুয়ার সর্বত্র আলোচনার ঝড় বইছে । এ ব্যাপারে চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় এখনো কোন মামলা হয়নি । আমি সরজমিনে গিয়েছি । জিডিমূলে তদন্ত চলছে । কষ্টি পাথরের শিবলিঙ্গ মূর্তিটি কচুয়া থানায় জব্দ করা হয়েছে । কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ ইব্রাহীম খলিল জানান, বিষয়টি মাননীয় পুলিশ সুপারের নির্দেশে থানা পুলিশ তদন্ত করছে । আবার ডিবি পুলিশও তদন্ত করছে । এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডিবির তরফ থেকেই বলা হয়েছে অভিযোগটি স্থগিত করতে । অর্থাৎ এজহার করতে না । অধিকতর তদন্তের স্বার্থে । আর শর্তসাপেক্ষে এ ঘটনায় আটক আসামী শ্রী মনিন্দ্র কামলাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে । কষ্টি পাথরের শিবলিঙ্গ মূতিটি বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছে । এ ঘটনায় কে দোষী আর কে দোর্ষী না তা নিয়ে ধ্রুম্যজাল সূষ্টি হয়েছে । তাই ব্যাপক তদন্ত চলছে । এ ঘটনায় ডিবির ওসি বলেন, ডিবির তরফ থেকে এজহার দাখিল করা হয়েছে । এখন বিষয়টি কচুয়া থানা পুলিশ দেখছে ।
এ ব্যাপারে পলাশপুর কালি মন্দিরের জমি দাতা দাবীদার সাবেক কমিশনার পলাশপুর গ্রামের অধিবাসী নিধু রাম সরকার বলেন আমরা কখনো আমাদের কালী মন্দিরে শিব পূজা করিনি। অতএব এ মন্দিরে শিবলিঙ্গ উদ্ধারের বিষয়টি হাস্যকর।
মন্দিরের সেবক ধীরেন্দ্র কামলা (ধীরু) বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে মনিন্দ্র কামলা ও তার স্ত্রী রাতের বেলায় শিবলিঙ্গটি মন্দিরের ভিতরে কালী মূর্তির পিছনে রেখে যায়, আর দিনের বেলায় নিয়ে তার পূজা করে। মন্দিরের পাশের ফুল ব্যবসায়ী পলাশপুর গ্রামের অধিবাসী সঞ্জয় সরকার বলেন, আমাদের কালী মন্দিরে কোনদিন শিব পূজা হয়েছে বলে আমার জানা নেই, তবে গত শুক্রবার রাতে ডিবি পুলিশ মনিন্দ্র কামলাকে একটি কষ্টি পাথরের শিব মূর্তি সহকারে গ্রেফতার করেছে। সে সময়ে পুলিশের একটি কাগজে আমি স্বাক্ষর দিয়েছি।
শিরোনাম:
শুক্রবার , ৯ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ২৪ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
চাঁদপুর নিউজ সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
