
স্টাফ রিপোর্টার ॥
কচুয়া উপজেলার কাদলা গ্রামের আদম ব্যবসায়ী প্রতারক ঠকবাজ শাহ আলম ২০ বছর পূর্বে গ্রামের সহজ সরল মানুষকে বিদেশ নেওয়ার কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে তিনি নিজেই বিদেশে পাড়ি জমায়। ২০ বছর পর দেশে ফিরেও প্রতারনা ও বন্ডামি থামেনি। প্রতারক শাহ আলম ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে পুলিশ সুপার বরাবর এক ভূক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ ও ভূক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর সদর উপজেলার ৫নং রামপুর ইউনিয়নের সকদি পাঁচগাঁও গ্রামের বাসিন্দা নূরুল ইসলাম মাষ্টারের ছেলে ইয়ার আহমেদ লিকসনকে ১৯৯৫ সালে (দক্ষিণ কোরিয়া) নেওয়ার কথা বলে প্রতারক শাহ আলম ২ লাখ ১৫ হাজার টাকা চেক ও অন্যান্য প্রমানাধির মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়ে তিনি নিজেই বিদেশ (রোমানিয়া) পাড়ি জমায়।
গত ২০ বছর ধরে তার কোন খোঁজ পাওয়া যায় নি। বহু মানুষকে পথে বসিয়ে ও নিস্ব করে তৎকালিন সময়ে লাখ লাখ টাকা নিয়ে ফালিয়ে যায়। ভোক্তভোগীরা তাদের বাড়িতে গেলে পরিবারের লোকজন জানায়, তার সাথে তাদের কোন যোগাযোগ নেই। কিন্তু আসলে মানুষের টাকা পরিশোধ করতে হবে বলে তারা এই মিথ্যার আশ্রয় নেয়। অথচ তাদের সাথে প্রতিনিয়তই যোগাযোগ ছিলো। কয়েক বছর পর প্রতারকের দু’ ছেলে মাহবুব ও কাহারকে বিদেশ নিয়ে যায় এবং দু’ মেয়ে শাহানাজ ও সোহানাকে ব্যায় বহুল টাকা খরচ করে বিয়ে দেয় এবং তার গ্রামে, কচুয়া ও ঢাকায় কোটি কোটি টাকার সম্পদ জোড়ায়। কিন্তু ভোক্তভোগী অসহায় সহজ সরল ও নিরিহ মানুষের টাকা অদ্যবধি পরিশোধ করে নাই। পাওনা টাকা চাইতে গেলে মানুষকে মোবাইলে ও বিভিন্ন লোকজন দিয়ে ভয়ভিতি দেখিয়ে হুমকি ধমকি প্রদান করে বলে বহু ভোক্তভোগী পরিবার জানায়।
গত ১৫ মে রবিবার পুলিশ সুপার বরাবর টাকা আত্মসাত ও প্রতারণার বিষয়ে শাহ আলম ও তার স্ত্রী রেনু বেগমের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভোক্তভোগী এক পরিবার। অভিযোগের প্রেক্ষিতে গোয়েন্দা শাখার এস. আই মনিরুল ইসলাম উভয় পক্ষকে ডাকেন এবং বিষয়টি মিমাংসার জন্য বৈঠক হয়। বৈঠকে টাকা নেওয়ার কথা উপস্থিত সকলের সম্মুখে স্বীকার করেন ও টাকা দিবে বলে আস্বস্থ করেন। বিষয়টি মিমাংসার জন্য ঈদুল ফেতরের দুই দিন পর নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু প্রতারক শাহ আলম সেখানে আর হাজির হননি। এরপর থেকেই শাহ আলম প্রতারণার নতুন কৌশল অবলম্বন করে ভন্ডামি ও কান্ড কৃত্তি শুরু করেন। তিনি তার লোকদেরকে দিয়ে একাধিকবার বৈঠকের কথা বলে ভোক্তভোগী ইয়ার আহমেদ লিকসনকে চট্টগ্রাম থেকে এনে অযথা হয়রানি করেছেন বলে জানা যায়। বর্তমানে তিনি দরবেশ সেজে তাদের নিজের প্রতিষ্ঠিত একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করছেন। এছাড়াও তার দু’ ছেলে মাহবুব ও কাহার তাদের এলাকার বহু লোকজনকে বিদেশ নেওয়ার কথা বলে বহু টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও জানা যায়। তাদের এই প্রতারণা ফাঁদে পড়ে নুরুল ইসলাম নামে এক লোক হার্ড এ্যাটাক করে মারা যায়।
