কচুয়ায় ইউপি নির্বাচনে কয়েকটি কেন্দ্রে সংঘর্ষে আহত-৩০
প্রতিক্ষের হামলার শিকার হয়েও মেম্বার প্রার্থী খোকা বিজয়
শাহায়ারির খান কৌশিক ॥
চাঁদপুর জেলাধীন ৫ম দফা ইউপি নির্বচানে সকল কেন্দ্রে পূর্বের চেয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন হলেও গুটি কয়েকটি কেন্দ্রে মেম্বার প্রার্থীদের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার কচুয়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়েনের ১২৭টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহন সকাল ৮টা থেকে শুরু হলেও দুপুরে বৃষ্টির শুরু হলে গুটি কয়েকটি কেন্দ্রে এ সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ৩০-৩৫ জন আহত হয়েছে। সরেজমিনে কচুয়া উপজেলা নির্বাচনে বেশ কিছু কেন্দ্র গিয়ে দেখা যায়, শর্তস্ফুর্তভাবে মহিলা ও পুরুষ ভোটারা সকাল থেকে ভোট দেয়ার জন্য হুমড়ি খেয়ে কেন্দ্রে আসেন। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সকল কেন্দ্রগুলোতে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন হলেও ৪নং পূর্ব সহদেবপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ২৪নং আইনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মেম্বার প্রার্থীদের উপস্থিতি নিয়ে দু’গ্র“ফের মাঝে সংর্ঘেষের সৃষ্টি হয়। ৮নং ওয়ার্ডের ফুটবল প্রতীক মার্কায় নুরুল আমিন খোকা কেন্দ্রের সামনে গিয়ে জাল ভোট দেয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ করলে তার প্রতিপ মোরগ মার্কা রফিক ইসলাম গাজী তার লোকজন নিয়ে এসে হামলা চালায়। দুপুরে বৃষ্টি শুরু হওয়ার পরেই দু’গ্র“ফের মাঝে বেশ কয়েকবার ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। সাবেক মেম্বার রফিকুর ইসলাম গাজী ভোট কেন্দ্রে সুবিধা নিতে না পেরে ফুটবল মার্কার প্রার্থী নুরুল আমিন খোকাকে বেদম মারধর করে তার পাঞ্জাবি ও পায়জামা ছিড়ে ফেলে। এ ঘটনা জানতে পেরে খোকার লোকজন ঘটনাস্থলে আসলে প্রতিপ রফিকুল ইসলাম গাজীর লোকজন দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে তাদের উপর হামলা চালিয়ে প্রায় ১০ জনকে আহত করে। এসময় গুরুত্বর আহত অবস্থায় শাহজালাল (৩০), নাছিল (২৫), নুরু (৩০), মূসা (২৫), আব্দুল ছাত্তার (৬০), ইব্রাহিম (২৫), কাউছার (২২) কে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কচুয়া কোয়া সরকারি হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করায়। এদের মধ্যে শাহজালালের অবস্থা আংঙ্কাজনক দেখে কর্তব্যরত ডাক্তারা তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে রেফার করে। প্রতিপরে হামলার শিকার হয়েও ঐ কেন্দ্রে ফুটবল প্রার্থী নুরুল আমিন খোকা ৪৭৭ ভোট পেয়ে মেম্বার নির্বাচিত হয়। তার প্রতিপ মোরগ মার্কা রফিকুল ইসলাম গাজী ৩১৯ ভোট পায়। এদিকে বিকেল ৪টায় একই ইউনিয়নের পালাখাল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামীলীগের সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী ও তার লোকজনদের উপস্থিতি দেখে বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীর লোকজন তাদের উপর হামলা চালায়। এসময় আওয়ামীলীগের প্রার্থী যুদ্ধকালীন কমান্ডার আঃ রশিদ পাঠানের একজন কর্মী আহত হয়। ৪নং সহদেবপুর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের প্রার্থী রশিদ পাঠান তার আপন ভাতিজা বিদ্রোহী প্রার্থী ইমাম হোসেন সোহাগের মধ্যে ভোট কারচুপির বিষয় নিয়ে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষের আংঙ্কা দেখা দেয়। এছাড়া কচুয়ায় গুলবাহার কেন্দ্রে সহ গুটি কয়েকটি কেন্দ্রে মেম্বার প্রার্থীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ঘটনা ঘটলেও পূর্বের নির্বাচনের চেয়ে ৫ম দফা নির্বচান অনেকটা সুষ্ঠু হয়েছে বলে ভোটারা জানিয়েছে। অবশেষে উদ্বেগ উৎকুণ্ঠার মধ্যে দিয়ে ১২টি ইউনিয়নের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।
