প্রতিনিধি
কচুয়ায় এক গৃহবধুকে (২৮) পালাক্রমে গণধর্ষণ করেছে দুর্বৃত্তরা। উপজেলার নাউলা গ্রামের সরকার বাড়ি নামের একটি হিন্দু বাড়ির পরিত্যক্ত ঘরে দুর্বৃত্তরা ওই গৃহবধূকে আটকে রেখে গত শনিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ বর্বরোচিত ঘটনা ঘটায়।
এ ঘটনায় রোববার সন্ধ্যায় ধর্ষিতার স্বামী বাদী হয়ে কচুয়া থানায় ৮ জনকে আসামী করে ধর্ষণ মামলা দায়ে করেছেন। মামলা নম্বর-০৯/১৪।
এ ঘটনায় এজহারভুক্ত ২ ধর্ষককে গতকাল রোববার রাত ৮টার দিকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলো : ওই গ্রামের নোয়া বাড়ির মোঃ আবদুস ছোবহানের ছেলে শাখাওয়াত হোসেন (৩২) এবং একই গ্রামের মুন্সির বাড়ির লনি মিয়ার ছেলে আমির হোসেন (২৮)।
ধর্ষিতার স্বামীর বাড়ি কুমিল্লা জেলার বরুড়া উপজেলার মহিদপুর গ্রামে। ওই দম্পতি গত ৬ মাস ধরে কচুয়া উপজেলার নাউলা গ্রামে মফিজুল ইসলাম মফুর বাড়িতে ভাড়া থাকেন। স্বামী পেশায় একজন রং মিস্ত্রি।
মামলার এজাহারে জানা যায়, শনিবার দুপুরে মামলার এজাহারভুক্ত আসামী আমির হোসেন, শাখাওয়াত হোসেন, খোকন মিয়া, মানিক মিয়া, আবু সুফিয়ান, জয়নাল আবেদীন, সফিক ও জাকির হোসেন ওই দম্পতির ঘরে ঢুকে। ঘরে ঢুকেই বলে তাদের বিয়ের কাবিননামা দেয়ার জন্যে। এরপর তারা ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। এক পর্যায়ে তারা গৃহবধূর স্বামীকে আটক করে মারধর করে অন্য একটি ঘরে বেঁধে রাখে। পরে সরকার বাড়ির একটি পরিত্যক্ত ঘরে গৃহবধূকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে তারা। এক পর্যায়ে গৃহবধূ অসুস্থ হয়ে গেছে ভেবে তাকে ফেলে তারা সবাই পালিয়ে যায়। পরে গৃহবধূ নিজে স্বামীর হাতের বাঁধন খুলে দিলে তারা দুজনেই স্থানীয় ডাক্তারের কাছে গিয়ে ব্যথার ঔষধ সেবন করে। পরে কিছুটা সুস্থ হলে রোববার সন্ধ্যায় কচুয়া থানায় এসে স্বামী ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আলমগীর হোসেন মজুমদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি ঘটনার প্রাথমিক সত্যতার প্রমাণ পেয়েছেন বলে জানান।
