
কচুয়া (চাঁদপুর) সংবাদদাতা: এনজিও পুষ্পরেনুর নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে কর্মকর্তারা লাপাত্তা। চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার আশ্রাফপুর ইউনিয়নের চাংঙ্গীনি গ্রামের বড় বাড়ির মৃত হাসান আলীর ছেলে ছায়েদ আলী ছাদু, পার্শ¦বর্তী বরুড়া উপজেলার হরিশপুরা গ্রামের সোহাগ হোসেন পুষ্পরেনু বহুমূখি সমবায় এনজিও’র গ্রাহকদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে গ্রাহকদের পক্ষ থেকে। অর্থ আত্মসাৎ কারীদের অন্যতম হোতা পয়ালগাছা গ্রামের কলিম উদ্দিনের ছেলে নজরুল ইসলাম নজু প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে।
ভূক্তভোগি গ্রাহকরা জানান, প্রতি লাখে দুই হাজার টাকা করে লাভ দেবে বলে তাদের কাছ থেকে টাকা নেয়া হয়। ওই অর্থ দিয়ে পয়ালগাছা এবং কুমিল্লা পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় উল্লেখিত এনজিও’র তিন কর্মকর্তার নামে জমিজমা কিনে বহু সম্পত্তির মালিক হয়ে প্রায় ৫ বছর হয় কর্মকর্তারা অফিস ছেড়ে চলে যায়। ছাদু ও সোহাগকে খুঁজে না পাওয়া গেলেও কিছু দিন পূর্বে নজরুল ইসলাম নজু এলাকায় আসে। সে বর্তমানে প্রভাবশালীদের ছত্র ছায়ায় এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তার কাছে টাকা চাইতে গেলে সে দেই দিচ্ছি করে বিভিন্ন তালবাহানা করে আসছে।
সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, পয়ালগাছা ডিগ্রী কলেজ সংলগ্ন পুষ্পরেণু এনজিও প্রতিষ্ঠানের রয়েছে ৩ তলা বিশিষ্ট অফিস কক্ষ। অফিসটি ওই ৩ কর্মকর্তার নামে। বর্তমানে বই নিকেতন এন্ড পেপার হাউজ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে তাদের অফিস কক্ষ।
ভবনের মালিক আনিছুর রহমান জানান, এনজিও’র লোকেরা ভাড়া বাবৎ প্রায় ২৬ লক্ষ টাকা দিতে না পারায় আমরা এ অফিস দখল করে নিয়েছি।
নজরুল ইসলাম নজু জানায়, ২০১৬ ইং সালে আমাদের কাছে মানুষের আমানত প্রায় ৬ কোটি টাকা থাকা অবস্থায় বিভিন্ন সমস্যার কারনে এনজিও বন্ধ হয়ে যায়। পরে বড় বড় অংকের পাওনাদারদেরকে টাকা দিতে না পারায় এনজিও’র নামে ক্রয় করা ভূমি তাদের দিয়েছি। আরো প্রায় ১ কোটি টাকা দেনা রয়েছে। ছাদু এবং সোহাগকে পাওয়া গেলে এ টাকা এক বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে পারবে বলেও জানান।
গ্রাহক কতৃক তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের বিষয়ে জানতে চাইলে নজু জানায়, ৩ টি মামলার মধ্যে ২ টি মামলা খারিজ হয়ে গেছে। আরো ১ টি মামলায় আদালত আমাদের ৩ জনকে এক বছর করে সাজা দেয়। মামলায় আমি গত-বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার হওয়ার পর ৭ দিন জেল খেটেছি এবং তা আপিল করে জামিনে এসেছি। নজু ১ কোটি টাকা দেনা থাকার কথা বললেও গ্রাহকরা বলছে এর পরিমান কয়েক কোটি টাকা।
ভূক্তভোগী আমানতকারীরা তাদের মূল টাকা ফেরত পেতে প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করছেন।
চাঁদপুরনিউজ/এমএমএ/
