
রাকিবুল হাসান
কচুয়া পৌরসভার প্রাণকেন্দ্র সাবেক পল্লী বিদ্যুৎ ভবনের পশ্চিম পাশে কথিত দাদা ভাইয়ের ‘সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লাল সবুজের সমঝোতার’ নামে রাতভর জমজমাট জুয়ার আসর চলছে। নীরব ভূমিকায় রয়েছে প্রশাসন। আর এ জুয়ার আসর চালু রাখার পক্ষে-বিপক্ষে সংঘর্ষে অন্তত ৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে কোয়াচাঁদপুর গ্রামের মকবুল হোসেনের পুত্র কাউছার (২২) কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমেপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বাকিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমেপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে জুয়ার আসর চালু করলে স্থানীয় কোয়াচাঁদপুর গ্রামের বেশকিছু লোক তা বন্ধের চেষ্টা করে। এ সময় কড়ইয়া গ্রামের কিছু লোক জুয়ার বোর্ড চালু রাখার পক্ষে অবস্থান নিলে দু’ দল গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
এদিকে কুখ্যাত জুয়াড়ি ও বিভিন্ন স্থানে জুয়ার আয়োজনকারী আইয়ুব আলী এবং কথিত দাদা ভাই কিছুটা কৌশল পাল্টিয়ে প্রতিদিন রাত ৯টার স্থলে সাড়ে ১১টা থেকে শুরু করে ভোর রাত পর্যন্ত পরিচালনা করছে জুয়ার আসর।
উল্লেখ্য, উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাসব্যাপী জাতীয় পতাকা আঁকা (লাল সবুজের সমঝোতা), মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-ঐতিহ্য, দেশীয় সংস্কৃতির উপর আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করার কথা বলে মাসব্যাপী অনুষ্ঠান পরিচালনার আবেদন করে নামসর্বস্ব সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘কচুয়া থিয়েটারের’ কথিত সভাপতি ভাই আব্দুস সালাম ওরফে দাদা ভাই। প্রশাসন থেকে অনুমতি পেয়ে শর্ত ভঙ্গ করে কোনোপ্রকার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ছাড়াই জুয়ার আসর চালু করে। জুয়া চালু হওয়ার ১ দিনের মাথায় পুলিশ জুয়াড়িদের ধাওয়া দিয়ে তা বন্ধ করে দেয়। কিছুদিন বন্ধ থাকার পর গত ১২ অক্টোবর রাত সাড়ে দশটায় স্থানীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে কথিত দাদা নিকটাত্মীয় উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক মোতাহার হোসেন দুলালকে দিয়ে নামমাত্র উদ্বোধন করে পুনরায় জুয়ার বোর্ড চালু করে।
এদিকে দাদা ভাই ও জুয়াড়ি আইয়ুব আলীর এহেন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে গত বুধবার সন্ধ্যায় কচুয়া বিশ্বরোড এলাকার শ’ শ’ মানুষ প্রতিবাদ মিছিল করে জুয়ার বোর্ড বন্ধ করে দেয়। পরে বৃহস্পতিবার রাতে জুয়াড়ি আইয়ুব আলী ও কথিত দাদা ভাই জুয়ার বোর্ড পুনরায় চালু করলে দু’ দল গ্রামবাসীর মধ্যে পক্ষে-বিপক্ষে সংঘর্ষ হয়।
এ ব্যাপারে কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়া আহমেদ সুমন জানান, প্রশাসনের অগোচরে রাতের আঁধারে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নামে শর্ত ভঙ্গ করে জুয়ার আসরের খবর পেয়েছি। ইতিমধ্যে থানার অফিসার ইনচার্জকে তদন্ত সাপেক্ষে তা বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
