কচুয়া প্রতিনিধিঃ
কচুয়া উপজেলায় জেএসসি পরীক্ষার্থীদের নিকট থেকে ব্যাপক অনিয়মে ফি আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা জানান, কেন্দ্র ফি (প্রবেশপত্র) বাবদ সাড়ে ৩‘শ থেকে ৫‘শ টাকা হারে নিচ্ছে। এছাড়াও তাদের মূল্যায়ন পরীক্ষার সময় প্রতিজন থেকে ২‘শ ৮০ টাকা থেকে ৩‘শ টাকা করে নিয়েছে। বুধবার সরজমিন উপজেলার রহিমানগর বিএবি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হোসেন পাটওয়ারীর নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, শিক্ষাবোর্ডের নির্ধারিত ফি ২‘শ ৫০ টাকা হলেও ১‘শ টাকা বাড়িয়ে সাড়ে ৩‘শ টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করেছেন। বাড়তি কেন নিচ্ছেন-প্রতিউত্তরে বলেন-ঢাকা থেকে প্রশ্ন আনার জন্য চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক কে দিতে হয় ২০ হাজার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে দিতে হয় ২০ হাজার, কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত সকল শিক্ষকদের সম্মানি দিতে হয় ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা ও সাংবাদিকদের দিতে হয় ১০ হাজার টাকা । প্রকৃতঅর্থে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড কুমিল্লা বিজ্ঞপ্তি নং ৫০/২০১৫ সনের জেএসসি পরীক্ষার ফরম পূরনের বিজ্ঞপ্তি কেন্দ্র ফি (প্রবেশপত্র) প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর জন্য নির্ধারন রয়েছে ১‘শ ৫০ টাকা এবং মূল্যায়ন পরীক্ষার ফি ছিল ১‘শ টাকা।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক আব্দুস সবুর মন্ডল কে ২০ হাজার টাকা দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে-এ প্রতিনিধিকে জানান, কেন যে তারা এসব কথা বলে আমি নিজেও জানি না। আমার জানামতে প্রশ্ন আনতে কিছু টাকা খরচ হয়। তবে কত দিতে হয় বা নির্ধারন রয়েছে তা আমার জানা নেই। কচুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন-কোথাও অনিয়ম ঘটলে প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিশ হাজার টাকা দেয়ার বিষয়টিও সম্পূর্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এদিকে কচুয়া উপজেলা খাজুরিয়া লক্ষ্মীপুর পীর ছোবহানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহালম ও কহুলথুড়ী হামিদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়াকুব আলী জানান, জেএসসি পরীক্ষায় রহিমানগর বিএবি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রতিজন থেকে সাড়ে ৩‘শ টাকা হারে আদায়ের কথা স্বীকার করেন। শিক্ষাক্ষেত্রে এমনি দুর্নীতি অনিয়মে গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দুর্ভোগের অন্ত নেই বলে ভুক্তভোগীরা জানান। এদিকে সিএনএনবিডি ও গতকাল বৃহস্পতিবার দৈনিক চাঁদপুর দর্পন পত্রিকায় উল্লেখিত সংবাদ প্রকাশ পাওয়ায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ তোলপাড়ে পরীক্ষার্থীদের নিকট থেকে আদায়কৃত অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দেয়া সহ দুর্নীতি-অনিয়মের বিচার দাবী করেছে এলাকা তথা দেশের সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী-অভিভাবকবৃন্দ।

