কচুয়া উপজেলার নোয়াদ্দা গ্রামে স্বামী পক্ষের লোকজনের যৌতুকের চাহিদা মেটাতে না পারায় গৃহবধূকে মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই গৃহবধূ ফাতেমা আক্তারের শাশুড়ি জয়ফুলেরনেছা ও ননদ রোকেয়া আক্তারের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠে।
সরজমিনে জানা গেছে, উপজেলার বরুচর গ্রামের নিরীহ খোরশেদ আলমের মেয়ে ফাতেমা আক্তার (২২)কে প্রায় ৪ বছর পূর্বে একই উপজেলার নোয়াদ্দা গ্রামের মৃত ইদ্রিস আলীর পুত্র নবীর হোসেনের সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর নবীর হোসেন ও ফাতেমা আক্তারের দাম্পত্য জীবন কিছুদিন সুখে শান্তিতে কাটলেও এক সময় নবীর হোসেন ওমান চলে যায়। হতভাগ্য গৃহবধূ ফাতেমা আক্তারের দরিদ্র বাবা খোরশেদ আলম জানান, বিয়ের সময় মেয়ের ভবিষ্যতের সুখের কথা চিন্তা করে নগদ ৮০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র, গহনাসহ ৩ লক্ষাধিক টাকার মালামাল দেয়া হয়। এছাড়া নবীর হোসেনকে বিদেশ যাওয়ার সময় নগদ ৫০ হাজার টাকা দেয়া হয়। এতো কিছুতেও মন ভরেনি পাষণ্ড স্বামী নবীর হোসেন ও শাশুড়ি-ননদের। কারণে-অকারণে আমার মেয়ে ফাতেমা আক্তারকে তারা বিভিন্ন সময় মারধর করে রক্তাক্ত জখম করে। এছাড়া ফাতেমার স্বামী যৌতুকলোভী নবীর হোসেন বর্তমানে প্রবাসে থেকে তাদেরকে মোবাইলে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে বলে জানান।
এদিকে গত সোমবার নবীর হোসেনের গ্রামের বাড়ি নোয়াদ্দা অলি মেম্বারের বাড়িতে গেলে স্থানীয় অধিবাসী আয়েত আলী, আলী হোসেন, দুলু মিয়া, হাবীব উল্যাহসহ আরো অনেকে জানান, গৃহবধূ ফাতেমা আক্তারকে তার শাশুড়ি জয়ফুলেরনেছা ও রোকেয়া বেগম গত সোমবার অন্যায়ভাবে বেদম মারধর করে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। ফাতেমাকে মারধর করার বিষয়ে স্থানীয়ভাবে বেশ ক�বার সালিস হয়েছে বলেও এলাকাবাসী জানায়। অথচ গৃহবধূ ফাতেমা আক্তার বাড়ি থেকে পালিয়েছে বলে দাবি করে তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে থানায় উল্টো অভিযোগ দায়ের করা হয়। এ ব্যাপারে ফাতেমা আক্তারের শাশুড়ি অভিযুক্ত জয়ফুলের নেছা পুত্রবধূকে মারধরের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ঘটনার দিন সে আমার ঘরে থাকা ১০ হাজার টাকা নিয়ে বাপের বাড়ি যাওয়ার সময় তাকে আটক করে টাকা উদ্ধার করি। তবে বর্তমানে সে কোথায় আছে এ বিষয়ে কিছুই বলেননি তিনি। অপরদিকে গৃহবধূ ফাতেমা আক্তারকে মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত শাশুড়ি ও ননদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। এ ঘটনায় গৃহবধূ ফাতেমার পরিবারের পক্ষ থেকে কচুয়া থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
