রাকিবুল হাসান
কচুয়া পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে সাবেক পল্লী বিদ্যুৎ ভবনের পশ্চিম পাশে দাদাভাইয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ‘লাল সবুজের সমঝোতা’র নামে চলছে রাতভর জমজমাট জুয়ার আসর। উপজেলা পরিষদ ও থানা থেকে মাত্র আধা কিলোমিটার দূরে প্রশাসনের নাকের ডগায় জমজমাট এ জুয়ার আসর সাজিয়ে বসেছে চাঁদপুরের কুখ্যাত জুয়া সম্রাট আইয়ুব আলী ও কচুয়ার নাম মাত্র সাংস্কৃতিক সংগঠন কচুয়া থিয়েটারের সভাপতি আঃ সালাম ওরফে দাদাভাই। প্রতিদিন রাত ৯টা থেকে শুরু করে ভোর রাত পর্যন্ত চলা এ জুয়ার আসরে অংশ নিচ্ছে বৃহত্তর কুমিল্লা, চান্দিনা, বরুড়া, দাউদকান্দি, দেবিদ্বার, হাজীগঞ্জ, শাহ্রাস্তি, মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ ও কচুয়াসহ বিভিন্ন এলাকার জুয়াড়িরা।
বিশেষ করে সমগ্র কচুয়া উপজেলার অনেক যুব ও ছাত্র সমাজ অংশ নিচ্ছে এ জুয়ার আসরে। উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাসব্যাপী জাতীয় পতাকা আঁকা (লাল সবুজের সমঝোতা), মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-ঐতিহ্য, দেশীয় সংস্কৃতির উপর প্রতিনিয়ত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করার কথা বলে জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করে কথিত দাদাভাই আব্দুস সালাম এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপিকে ভুল বুঝিয়ে আবেদনে তাঁর সুপারিশ নেয়। প্রশাসন বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে নামমাত্র তদন্ত করে কথিত দাদাভাইকে মাসব্যপী অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেয়। অনুমতি পেয়ে কোনো প্রকার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জাতীয় পতাকা আঁকা (লাল সবুজের সমঝোতা), মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-ঐতিহ্য, দেশীয় সংস্কৃতির উপর প্রতিনিয়ত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা না করে অনুমতির শর্ত ভঙ্গ করে জুয়ার আসর চালু করে।
জুয়া চালু হওয়ার ১ দিনের মাথায় কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আলমগীর হোসেন মজুমদারের নেতৃত্বে পুলিশ জুয়াড়িদের ধাওয়া দিয়ে তা বন্ধ করে দেয়। বেশ কিছুদিন বন্ধ থাকার পর গত ১২ অক্টোবর রাত সাড়ে দশটায় স্থানীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে কথিত দাদাভাইয়ের নিকটাত্মীয় উপজেলা অওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মোতাহার হোসেন দুলালকে দিয়ে নামমাত্র উদ্বোধন করে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উক্ত স্থলে কোনো প্রকার জুয়া চলবে না এমন অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বক্তারা বক্তব্য দিলেও উদ্বোধনের ২০ মিনিট পর বীরদর্পে জমজমাট জুয়ার আসর চালু করা হয়। এরপর থেকে প্রতিনিয়ত রাত ৯টা থেকে ভোর রাত পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে পরিচালিত হয়ে থাকে এ জুয়ার আসর। এছাড়া দিনভর অটোরিক্সা (সিএনজি) ও রিক্সায় চড়ে মাইকিং করে লটারি বিক্রি করে কচুয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। দিন শেষে সন্ধ্যা রাতে লটারি বিক্রির টাকায় নামমাত্র পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, জুয়ার বোর্ডে কচুয়া পৌর ও বিভিন্ন এলাকার অনেকেই সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। এলাকায় বেড়ে যাচ্ছে চুরি, ছিনতাইসহ অসামাজিক কার্যকলাপ। এদিকে দাদা ভাই ও জুয়াড়ি আইয়ুব আলীর এহেন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় কচুয়া বিশ্বরোড এলাকার শ’ শ’ মানুষ প্রতিবাদ মিছিল করে। এ ব্যাপারে কচুয়া থানা অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন মজুমদার জানান, প্রশাসনের অগোচরে রাতের আঁধারে মেলার ফাঁকে ফাঁকে জুয়ার বসার খবর পাওয়া যায়। জুয়ার বিষয়ে সচেতন জনগণের জেগে ওঠাকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে পুলিশ হানা দিয়ে জুয়াড়িদের ধাওয়া করে তা বন্ধ করে দেয়।
