
শওকত আলী:
চাঁদপুরের কচুয়ায় আয়মা সরকারি বিদ্যালয়ে তিন বছর ধরে খোলা আকাশের নিচে চলছে পাঠদান। বিদ্যালয়টি পরিত্যাক্ত ঘোষণাও করা হয়েছে বহুদিন আগে। কিন্তু শ্রেণি কক্ষের অভাবে কখনো খোলা আকাশের নিচে, কখনো ঝুকিপূর্ণ ভবনের বারান্দার নিচে ও খোলা মাঠে চলছে শিক্ষাকার্যক্রম। কয়েক বছর আগে বিদ্যালয়টিতে প্রায় ২শতাধিক শিক্ষার্থী থাকলেও বর্তমানে কমতে কমতে এখন এক শতেরও নিচে নেমে এসেছে। এর কারণ অধিকাংশ শিক্ষার্থী প্রাণহানি ও বড় ধরনের দুর্ঘনার আশংকায় বিদ্যালয়ে আসা ছেড়ে দিয়েছে। এমনি ভয়াবহ আকার ধারন ও একাডেমিক ভবন, বিদ্যুৎ সংযোগ, ব্রিজ, যাতায়াতের রাস্তা না থাকা ও আসবাব পত্রের অভাবে চরম সমস্যার বোঝা মাথায় নিয়ে চলছে এ বিদ্যালয়টি। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ১৯৯৫ সালের তৎকালীন সময়ে এলাকার শিক্ষানুরাগী ও ব্যবসায়ী সুবল চন্দ্র দাস এলাকার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় ৪১ শতাংশ ভূমিতে বিদ্যালয়টি স্থাপন করেন। বর্তমানে শিক্ষক রয়েছেন ৫ জন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জহিরুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়টি একটি দ্বীপের মাঝখানের মতো। কেননা এর চারদিকে খাল। এসব খালে ব্রিজ না থাকায় ও এলাকাটি নিচু হওয়ায় বছরের অধিকাংশ সময় মাঠে জলাবদ্ধ থাকে। বিশেষ করে বিদ্যালয়টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনায় মারাত্বক ব্যাঘাত সৃস্টি হচেছ। বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ব্যাংকার বিহারী সাহা জানান, বিদ্যালয়টি স্থানীয় প্রশাসন অনেক আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছেন। কিন্তু প্রশাসনের কাছে বারবার চেষ্টা তদবির করেও কোন সুফল পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে কচুয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার হেমায়েতুল ভূইয়া ফারুক জানান, কচুয়ায় যে কয়টি ঝুকিপূর্ণ বিদ্যালয় রয়েছে আয়মা সপ্রাবিও একটি। ঝুকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলো তালিকা করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।
