সাখাওয়াত হোসেন শামীম ঃখানাখন্দ ভরা চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ ও লক্ষ্ণীপুরের রামগঞ্জ সড়কটি কয়েকমাস ধরে যানবাহন চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে সড়কটি দিয়ে প্রতিনিয়ত চলাচল করা হাজার হাজার যাত্রীকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এখানকার যাত্রী সাধারণের প্রশ্ন হয়ে দাড়িয়েছে হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ সড়কটির দুঃখ গেল না। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ সড়কের মোট দৈর্ঘ্য ১৮ কিলোমিটার। এর মধ্যে পুরো সড়কটি অত্যধিক ঝুকিপূর্ণ ও খানাখন্দে ভরা। এ ছাড়া সড়কের বেশির ভাগ অংশের কাপেটিং উঠে গেছে। হাজীগঞ্জ সড়ক ও জনপথ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১০-১১ অর্থ বছরে জরাজীর্ণ এই সড়কটি পূর্ণঃ নির্মাণের জন্য ৪ কোটি ৩৬ লাখ ৯৬ হাজার ৭০৯ টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়। মেসার্স রানা বিল্ডার্স কনষ্ট্রাকশন নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সড়কটি পূর্ণঃ নির্মাণের কাজ পায়। গত বছরের জুন মাসে ঠিকাদারকে পূর্ণঃ নির্মান কাজ করার জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু সড়ক ও জনপথ কার্যালয়ের ফান্ডে এ সড়কের বিপরীতে কোন অর্থ বরাদ্ধ না আসায় ঠিকাদার কাজ শুরু করেননি বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ ১৮ কিলোমিটার সড়কের বেশির ভাগ অংশই ভাঙ্গাচুরা ও খানাখন্দ ভরা। এর মধ্যে জিয়া নগর, বেলচোঁ বাজার, সেন্দ্রা বাজার, চালিয়া পাড়া, মনতলা, কাটাখালি, খলিফারদজ্জা ও সোনাপুর এলাকা যানবাহন চলাচলের সম্মূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন চলাচলকারী হাজীগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের ছাত্র মোঃ দিদার হোসেন ও মোঃ আল আমিন বলে, ভাঙ্গাচুরা এই রাস্তাটি দিয়ে আসা যাওয়া করতে করতে আমাদের অবস্থাও সড়কটির চেয়ে নাজুক হয়ে পড়েছে। হাজীগঞ্জ উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা ভারত চন্দ্র সরকার প্রতি সপ্তাহে এ সড়ক দিয়ে গ্রামের বাড়ীতে যান। তিনি বলেন, সড়কটির খানাখন্দের কথা মনে হলে অসুস্থ্য শরীর নিয়ে আর বাড়ি যেতে ইচ্ছা হয় না। এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী একাধিক যাত্রী অভিযোগ করেন, সড়কটি ভাঙ্গাচুারা হওয়ায় যাত্রীদের কাছ থেকে ২০ টাকার ভাড়া ৩০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। আর হাজীগঞ্জ থেকে রামগঞ্জ যেতে ৪০ মিনিট সময়ের জায়গায় এখন দেড় ঘন্টা সময় লাগছে।
চাঁদপুর জেলা সদর ও লক্ষ্ণীপুরের রামগঞ্জের মধ্যে চলাচলকারী বৈশাখী পরিবহনের চালক কামরুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন প্রায় শ’খানেক বাস এই সড়কে চলাচল করে। সড়কটি ভাঙ্গাচুরা হওয়ায় জনগনের দুর্ভোগের পাশাপাশি যানবাহনের যান্ত্রিক ত্রুটি দিন দিন বাড়ছে। রামগঞ্জ থেকে ঢাকা গামী আল-আরাফাহ পরিবহনের একজন চালক বলেন, এ সড়কে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা প্রতিনিয়ত যানবাহনে যাত্রী পরিবহন করছি। প্রতিদিন ছোটখাট অসংখ্যা দূর্ঘটনা এই সড়কে ঘটে। কিন্তু সড়কটি মেরামতের কোন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ সড়ক ও জনপথ উপ-বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোঃ আব্দুল মতিন বলেন, ঠিকাদার অর্থ বরাদ্ধ না পাওয়ায় কাজটি করছেন না। বিষয়টি আমি উর্ধ্বতন দপ্তরে লিখিত ভাবে জানিয়েছি। তিনি আরো জানান, আগামী বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত প্রকল্পটির মেয়াদ আছে। পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্ধ এলে আমরা ঠিকাদারকে দিয়ে কাজটি করাতে পারব। এেিদক এখানকার যাত্রী সাধারণের অভিযোগ আগামী বর্ষা মৌসুমের পূর্বে সড়কটি সংস্কার না হলে সম্পূর্ণরূপে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। তাদের প্রশ্ন হয়ে দাড়ায় আর কত ক্ষত সৃষ্টি হলে কর্তৃপক্ষ নজর দিবেন।
শিরোনাম:
শুক্রবার , ১৩ মার্চ, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ২৯ ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
