স্টাফ রিপোর্টার:
গোল্ডেন সমবায় সমিতির ১১ জন শেয়ার মালিক রয়েছে। এটি পরিচালনার জন্য আহছানুজ্জামান মন্টুকে সভাপতি ও হাছান আহমেদ দুলালকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। এ দু’জন ছাড়াও মালিক পক্ষে আরো ছিলেন মোস্তফা কামাল, সাজু, কবির হোসেন, আকবর হোসেন উল্লেখযোগ্য। শহরের গোল্ডেন সমবায় সমিতি পরিচালিত গোল্ডেন বাজারটি নাম পরিবর্তন হওয়ায় সমিতির গ্রাহকদের মাঝে নানা ধরনের প্রশ্ন জমাট বেঁধেছে। তারা বলছেন, গোল্ডেন সমবায় সমিতির প্রায় ৫ শতাধিক গ্রাহকের টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে। খবর নিয়ে জানা যায়, ২০০৭ সালে চাঁদপুরে গোল্ডেন সমবায় সমিতি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ৫ বছর এই সমিতি ভালোভাবে চলে। গ্রাহকরা বিভিন্নভাবে সুবিধা ভোগ করে। গ্রাহকের পাশাপাশি সমিতিও লাভবান হতে থাকে। ২০১২ সালে গোল্ডেন সমবায় সমিতি শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিজস্ব অর্থ ও গ্রাহকের টাকা দিয়ে প্রায় ৩ একর সম্পত্তি ক্রয় করে। ওই সম্পত্তিতে গ্রাহকের প্রায় ৪ কোটি টাকা ছিল। কিন্তু সমিতির নামে ক্রয় করা সম্পত্তিগুলো বিক্রি করা যাচ্ছিল না। ৩ কাঠার মধ্যে ২টি প্লট বিক্রি করা গেলেও বাকী সম্পত্তি এখনো পরে রয়েছে। যার জন্য সমিতিতে গ্রাহকের অর্থ আটকা পড়ে আছে। গোল্ডেন সমবায় সমিতির ১১ জন মালিকের মধ্যে কবির হোসেন জানান, সমিতির কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে। ২০০৭ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত চাঁদপুরে জমির ব্যবসা ভালো ছিল। কিন্তু ২০১২ সালে জমির ব্যবসা ধস নেমে আসে। গোল্ডেন সমবায় সমিতির প্রায় ৩ একর সম্পত্তি ক্রয় করে সামান্য কিছু সম্পত্তি বিক্রি করতে পেরেছে। বাকী সম্পত্তি এখন পর্যন্ত বিক্রি করা যাচ্ছে না। যার জন্য জমি ক্রয় করে সমিতির অর্থ আটকে যায়। এর মধ্যে টাউন হল মার্কেটে গোল্ডেন সমবায় সমিতি নিজস্বভাবে পরিচালনার জন্য গোল্ডেন বাজার প্রতিষ্ঠা করে। গ্রাহকরা সমিতির কার্যালয়ে গিয়ে কিছু করতে না পারায় তারা গোল্ডেন বাজারে এসে টাকার জন্য চাপাচাপি শুরু করে। এজন্য আমরা গোল্ডেন বাজারটি মালিকানা আবুল খায়ের ভূঁইয়া নামে জনৈক ব্যক্তির কাছে ভাড়া দিয়েছি। মালিকানা পরিবর্তন হওয়ায় গোল্ডেন বাজারের নাম পরিবর্তন হয়ে ভূইয়া বিগ বাজার হয়েছে। কবির হোসেন আরও জানান, আমরা মাঠ পর্যায়ে গ্রাহকের কাছে প্রায় আড়াই কোটি টাকা লোন দিয়েছি। তা গ্রাহকরা পরিশোধ করতে গড়িমশি করছে। আমরা বেশ কিছু গ্রাহকের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রক্রিয়া নিয়েছি। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত গোল্ডেন সমবায় সমিতির কার্যালয় প্রতিদিন গ্রাহকের জন্য খোলা রাখা হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোল্ডেন সমবায় সমিতির কয়েকজন গ্রাহক জানান, সমিতির কর্মকর্তারা গত মার্চ মাস থেকে নিজেরাই গা ডাকা দিতে থাকে। নানান অজুহাতে চাঁদপুরে থাকলেও সমবায় সমিতির কার্যালয়ে আসেনি। অনেককে ফোন করলেও সঠিকভাবে কোনো উত্তর খুঁজে পাইনি। সমিতিতে ১১ জন মালিকানা থাকার কারণে একজন অপরজনকে দেখিয়ে নিজে বাঁচার চেষ্টা চালাচ্ছেন। একটি সূত্র থেকে জানা যায়, মালিক ১১ জন থাকলেও এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে চাঁদপুর মেডিকেল হল তথা টাউন হল বিল্ডিংয়ে থাকা বিশাল দোকানের মালিক কবির হোসেন। যে কিনা মাসে ৯০ হাজার টাকা ভাড়ায় এবং অর্ধ কোটি টাকা এডভান্স নিয়ে গোল্ডেন বাজার নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি ভাড়া দেন। যা কিনা লাভের উপর সোয়াসের। মূলতঃ গোল্ডেন বাজার সমিতির গ্রাহকের গচ্ছিত অর্থ বেশির ভাগটাই সমিতির অন্যতম কর্ণধার জমি বেচা-কেনার নামে আটকিয়ে রেখেছেন বলেও অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। সমিতিতে থাকা ২/১ জন পরিচালক অর্থলোভী না হয়েও এখন গ্রাহকের টাকা দিতে পারেননি বলে অনেকটা গা ডাকা দিয়েছেন। কিন্তু যে সবচে’ বেশি লাভবান হয়েছেন সেই অর্থলোভী পরিচালক তিনি দিব্যি প্রকাশ্যে অবস্থান করছেন। এই সমিতিতে আমরা লক্ষ লক্ষ টাকা জমা রেখেছি। সেই টাকাও তারা ফিরিয়ে দিচ্ছে না। গত ৩০ মার্চ থেকে সমিতির কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। আমরা ভুক্তভোগী গ্রাহকরা এর সুষ্ঠু সমাধান চায়।
