
চাঁদপুর শহর ও দূরবর্তী এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে গেছে। শহরের অনেক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চুলা ঠিকমতো জ্বলছে না। গত দুই সপ্তাহ যাবৎ সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গ্যাসের প্রেসার থাকছে খুবই কম-এমনটাই জানালেন শহরের অনেক ভোক্তভুগী গ্রাহক। বাধ্য হয়ে গ্যাসের অনেক আবাসিক গ্রাহক কাঠ বা সিলিন্ডার গ্যাস কিনে বিকল্প চুলায় রান্না করছে।
বাখরাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড চাঁদপুর শহরে গ্যাস সরবরাহ করে। বাখরাবাদ গ্যাসের স্থানীয় অফিস সূত্র জানায়, এ প্রতিষ্ঠানের অধীন চাঁদপুরে প্রায় ২৪ হাজার আবাসিক ও ২৩০জন বাণিজ্যিক গ্রাহক রয়েছেন। এছাড়া হাজীগঞ্জ পর্যন্ত রয়েছে ৫টি সিএনজি ফিলিং স্টেশন।
সরেজমিনে ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চাঁদপুর শহরের বকুলতলা, কোড়ালিয়া, স্ট্র্যান্ড রোড, মহিলা কলেজ রোড, বাগাদী সড়ক, পুরাণবাজারের জাফরাবাদ, রামদাসদীসহ আরো অনেক এলাকায় গ্যাস সঙ্কট চলছে। সকাল আটটা থেকে দুপুর দুইটা-আড়াইটা পর্যন্ত গ্যাসের চাপ কমে গিয়ে চুলা খুব অল্প অল্প করে জ্বলে। সকালের নাস্তা ও দুপুরের জন্য রান্না করতে বিড়ম্বনায় পড়েন গৃহিণীরা। শহরবাসীর অভিযোগ, সঞ্চালন লাইনে চাপ কম থাকার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালেও কোনো প্রতিকার মিলছে না।
বাখরাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড চাঁদপুর কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মহিবুর রহমান জানান, জাতীয় গ্যাস গ্রীড থেকেই স্বাভাবিকভাবে চাঁদপুরে গ্যাসের প্রেসার কম। বিশেষ করে সকাল আটটা থেকে বেলা বারোটা পর্যন্ত পিকআওয়ারে গ্যাসের সমস্যা হচ্ছে।
ফিশারী টিবিএস ট্রান্সমিশন থেকে শহরে গ্যাস সাপ্লাই হয়। গত মাসেই আমরা চাঁদপুরের গ্যাস সমস্যার বিষয়টি
জাতীয় গ্যাস গ্রীড পরিচালনায় নিয়োজিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। গত সপ্তাহে বাখরাবাদ এমডি ও জিএম (মার্কেটিং) কে অবগত করা হয়েছে।
কোড়ালিয়া এলাকার বাসিন্দা মুক্তিযুদ্ধকালীন বিএলএফ কমান্ডার মোঃ হানিফ পাটওয়ারী বলেন, আমাদের এলাকায় গত ক’দিন ধরে গ্যাসের সঙ্কট চরম আকার ধারণ করেছে। বাসায় সকাল আটটা থেকে দুপুর পর্যন্ত গ্যাস থাকে না। গ্যাস কিছুটা নিভু নিভু অবস্থায় জ্বলে। আমরা খুব সমস্যায় আছি।
চাকুরিজীবী পরিবারের গৃহিণীরা জানান, গ্যাস পাওয়া যাওয়ার সময়ের সাথে মিলিয়ে রান্না করতে হয়। কখনো কখনো এমনও হয়েছে, মাঝরাতে ঘুম থেকে উঠে রান্না শেষ করছেন তারা।
অন্যান্য গ্রাহকের অভিযোগ, টানা দুই সপ্তাহ ধরে গ্যাসের সঙ্কট চলছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়েও প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে গ্যাস বিতরণ কোম্পানী সূত্র বলছে, চাহিদার তুলনায় গ্যাস সরবরাহ কম হওয়ায় এ সঙ্কট দেখা দিয়েছে।
