
চাঁদপুর শহরের বড় বড় মার্কেটের দোকানপাট আস্তে আস্তে খুলতে শুরু করেছে।
নামীদামি দোকানগুলোও খুলছে। যানবাহন চলাচল ও মানুষের বিচরণ দিন দিন বাড়ছে।
যদিও নির্দেশনা ছিলো কোনো ধরনের যানবাহন চলবে না, অতীব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া
মানুষ ঘর থেকে বের হবে না, ঔষধের দোকান এবং কাঁচা বাজার ছাড়া অন্য সকল
দোকান বন্ধ থাকবে। কিন্তু বাস্তবতা সব উল্টো। অটোবাইক, সিএনজি অটোরিকশা,
সকল ধরনের রিক্সা, পণ্যবাহী (খাদ্য পণ্য ব্যতীত) যানবাহন সবই শহরে বলতে
গেলে বিনা বাধায়ই চলছে। কোনো কোনো সময় শহরের কালীবাড়ি ও পালবাজার ব্রীজের
গোড়ায় আগের মতো যানজটও লেগে থাকতে দেখা যায়। স্ট্র্যান্ড রোডের রড ও টিনের
দোকানগুলোতেও এখন মালামাল লোড আনলোড হচ্ছে। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে চাঁদপুরে
করোনাভাইরাসের কোনো পরিস্থিতি নেই। এ জেলা করোনাভাইরাস মুক্ত! মানুষের
মাঝে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের কোনো ভয়ই নেই। মানুষগুলো যেনো নির্ভয় নির্ভিক।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাও শিথিল। তবে সন্ধ্যা থেকে চিত্র থাকে সম্পূর্ণ
ভিন্ন। সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়, মানুষজনও রাস্তায় তেমন একটা থাকে
না। রিক্সা বা অন্যান্য যানবাহনও তখন রাস্তায় খুব কম দেখা যায়। দিন ও রাতের
এই বৈপরীত্য পরিবেশ কী কারণে তা এখনো শহরবাসীর অজানা।
চাঁদপুর জেলাকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত জেলা হিসেবে চিহ্নিত করে গত ৯
এপ্রিল থেকে এই জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। এর আগে বলতে গেলে ছিলো অঘোষিত
কারফিউ। জেলা প্রশাসক গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে মানুষের চলাচলসহ দোকানপাট,
ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সব কিছু খোলা রাখার বিষয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করেন। মানুষ
প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হলেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখবে। শুরুর দিকে এটি খুব
ভালোভাবে মানা হলেও আস্তে আস্তে এটি হ্রাস পেতে থাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
শুরুর দিকে অনেকটা কঠোর থাকলেও পরে আস্তে আস্তে শিথিল হতে দেখা যায়। আর
বর্তমান অবস্থা তো একেবারেই ঢিলেঢালা।
গতকাল চাঁদপুর শহরের চিত্র দেখা গেছে অনেকটা ভিন্ন রূপে। লকডাউন বা
করোনাভাইরাসের কোনো লক্ষণই এখন শহরে পরিলক্ষিত হচ্ছে না। যেসব দোকান এতোদিন
খুলেনি, সেসব দোকানও গতকাল আস্তে আস্তে খুলতে দেখা গেছে। যানবাহন ও
মানুষের চলাচল অনেক গুণ বেড়েছে। দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, অটো চালক,
রিক্সা চালক অনেকের সাথে কথা হয় এই প্রতিনিধির। তাদের বক্তব্য একটাই- ‘ভাই
করোনার ভয়ের চেয়ে ক্ষুধার জ্বালা ভয়ঙ্কর। আর কতোদিন। ক্ষুধার জ্বালায় আর
ঘরে থাকতে পারি না। তাই রাস্তায় বের হয়ে এসেছি। সরকারি সহায়তা সম্পর্কে
তারা বলেন, ভাই এই সহায়তা আর কতোদিন চলে? নিরুপায় হয়েই রাস্তায় নেমেছি। এসব
করোনা ফরোনার ভয় আর নাই।’
