
মিজান লিটন
চাঁদপুর মেঘনা মোহনা থেকে শুরু হয়েছে ডাকাতিয়া নদী। সদর উপজেলা, ফরিদগঞ্জ, হাজীগঞ্জ উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন অংশে বহমান এই নদী। কিন্তু ডাকাতিয়া নদীতে প্রকাশ্যে দখলদারদের ডাকাতির কারণে আয়তন ছোট হয়ে আসছে ক্রমান্বয়ে। নদীর মাতৃত্বরূপ না বুঝে এক ধরনের অসাধু ব্যবসায়ী ও মানুষ প্রতিনিয়ত নদীর বিভিন্ন পাড় দখল করে আসছে। এসব দখল বন্ধ করার যেন কেউ নেই।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, হাজীগঞ্জ উপজেলার ডাকাতিয়া পাড় থেকে শুরু করে চাঁদপুর শহর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নদীর পাড়গুলো মানুষ দখল করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। আবার অনেকেই শুরু করেছে বালু কিংবা অন্যান্য মালামালের ব্যবসা। আবার কেউ কেউ নিজেদের ক্রয়কৃত সম্পত্তি দাবী করে বাড়ী ঘর তৈরীর জন্য প্লট তৈরী শুরু করেছেন। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ৫নং ঘাট, ৩নং ঘাট, ১০নং ঘাট, চৌধুরী ঘাট ও নতুন বাজার এলাকার নদীর দু’পাড়ে শত শত পাকা বিল্ডিং ও পাকা টিন সেট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘর নির্মান করে ডাকাতিয়া পাড় দখল করায় শহরে পানি নিষ্কাশনে বাঁধা গ্রস্থ হচ্ছে এবং নদী পূর্বের চাইতে অনেকগুন ছোট হয়ে গেছে। ডাকাতিয়া দখল সম্পর্কে স্থানীয়, জাতীয় দৈনিক ও বেসরকারি টেলিভিশনগুলোও বহুবার প্রতিবেদন প্রকাশ ও প্রচার করে। কিন্তু এখন পর্যন্ত দৌরাত্ম্য থামেনি দখলদারদের। শহরের বাগাদী রোড বিআই ডাব্লিউটিএর মোড়ে বালু ব্যবসা অনেকটা বন্ধ হলেও একটু দক্ষিণে গিয়ে আবার একটি সংঘবদ্ধ চক্র শুরু করেছে বালু ব্যবসা। কিন্তু তারা নিজেদের সম্পত্তি দাবী এবং প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ হয়েছে বলে দাবী করেন। নতুন করে দখল শুরু হয়েছে চাঁদপুর-রায়পুর সড়কের চাঁদপুর সেতুর উত্তর ও পশ্চিম পাশে। এখানে বিশাল আয়তন নিয়ে নদীর পাড় দখল করে শুরু হয়েছে বালু ব্যবসা। সরকারের কোন দপ্তর তাদের নদী দখলের অনুমতি দিয়েছে এমন প্রশ্নের জবাব মিলেনি তাদের কাছ থেকে। শ্রমিকদের প্রশ্ন করা হলে কোন সঠিক জবাব দিতে পারেনি। ওই স্থানে একটি ড্রেজার পাইপ রেল লাইন সুরঙ্গ করে মাটি কাটার কাজ করছে। যারা এসব দখল বাণিজ্যে রয়েছেন, তাদেরকেও দিনের বেলায় পাওয়া অসম্ভব।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, এসব বালু ব্যবসায়ীরা বেশীরভাগ রাতেই বিচরণ করেন বেশী। শহরের চৌধুরীঘাট এলাকায় প্রশাসন নদীর পাড় দখল মুক্ত করার জন্য গত বছর এবং এ বছর কয়েকবার অভিযান চালায়। কিন্তু কয়েকদিন পর আবারও দখলদাররা অবৈধ দখলে মেতে উঠে। নদীটি আয়তনে কমে আসার কারণে মালবাহী নৌ-যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা এবং বর্ষার মৌসুমে পানির প্রবাহ বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে। ধীর গতিতে পানি নামার কারণে অস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে করে বেড়িবাধেঁর বাহিরের মানুষগুলো ফসলের ক্ষতি ও জলাবদ্ধতায় চরম দূর্ভোগের শিকার হন। জেলা সদরের মাঝখান দিয়ে বহমান এই নদীর মাতৃত্বরূপ টিকিয়ে রাখতে নদী তীরবর্তী বসবাসকারী জনগন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গ ও প্রশাসন সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। সচেতনতা, সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে আত্মপরিচয় হারাবে ঐতিহ্যের ডাকাতিয়া নদী।
শিরোনাম:
শুক্রবার , ৮ মে, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ২৫ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
