শওকত আলী =
মহান মুক্তিযুদ্ধে শাহাদাত বরণকারী ৯ জন শহীদ এর কবরস্থান তথা স্মৃতিস্তম্বকে ঘিরে প্রতিষ্ঠিত নাসিরকোট শহীদ স্মৃতি ডিগ্রি কলেজ। সেই কলেজে আচমকা উড়ে এসে দাতা সদস্য বনে গেলেন সিরাজুল ইসলাম নামের এক প্রভাবশালী ব্যাক্তি। জাতীয় বিশ্ব বিদ্যালয়ের নীতিমালানুযায়ী তিনি দান ছাড়াই এখন দাতা সদস্য! এর পূর্বে তিনি সু-কৌশলে এই প্রতিষ্ঠানটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছিলেন।
ইতোমধ্যে এই দাতা সদস্যের বিরুদ্ধে সাবেক অধ্যক্ষ মো. হামিদুল হক মুন্সী একটি অভিযোগ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও কুমিল¬া শিক্ষা বোর্ডসহ সংশি¬ষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণ করেছেন। ওই অধ্যক্ষ ১২ মার্চ ২০১৭ তারিখের গভর্নিং বডির সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের পরও অধ্যক্ষের বেতন বিল সই না করা সংক্রান্ত বিষয়টি উত্থাপন করেন।
এছাড়াও তিনি অভিযোগ লিপিতে উল্লে¬খ করেছেন, ১ জুলাই ২০১৩ তারিখে গভর্নিং বডির যে সভা হয়েছিল সেখানে দাতা সদস্য বানানোর কোন এজেন্ডা ছিল না, সিদ্ধান্তও হয়নি। রেজুলেশনের মূল খাতা পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে যে, একটি রেজুলেশনের উপর অপর একটি রেজুলেশন লিখে দাতা প্রসঙ্গ লিখে পেষ্ট করা হয়েছে মাত্র।
ওইসময় কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে বিএমকোর্স চালুর আবেদন করা হলেও বোর্ডের শর্ত পূরণের জন্যে কৌশলে সিরাজুল হক দানসূত্রে প্রাপ্ত অকেজো ১০ টি কম্পিউটার ৬০ হাজার টাকা মূল্য দেখায়। পরবর্তীতে কারিগরি বোর্ড কর্র্তৃক পরির্দশন শেষ হলে রেজুলেশনের মাধ্যমে দাতা হবার প্রসঙ্গটি কেটে দেয়া হয়। বিষয়টি তখন তিনি অবহিত ছিলেন। সেই কারণে তখন গভর্নিং বডির নির্বাচনে দাতা হিসেবে শুধু মাত্র মকবুল হোসেনের নাম ছিল। সিরাজুল হকের নাম ছিল না।
বর্তমান কমিটি গঠনের জন্য নির্বাচনী তফসীল ঘোষিত হলে সাবেক সভাপতি সিরাজুল হক নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘাটতির কারণে পুনরায় সভাপতি হতে পারেনি। এতে সুকৌশলে তিনি দাতা সদস্যের পদটি লুপে নেন। তাঁর ব্যবসার পুরাতন ন্যূনতম তিন লাখ টাকার মেশিনারি দ্রব্য দিয়ে দাতা হবার প্রতিশ্র“তি দেন এবং দাতা ভোটার তালিকায় নাম লেখেন। অথচ তিনি ওই শর্ত পূরণ করেনি। এ বিষয়ে তাঁকে লিখিতভাবে অবহিত করা হলে পূর্বের দেয়া কম্পিউটারের কথা উলে¬খ করেন। যেই কম্পিউটারগুলো সম্পন্ন অকোজো অবস্থায় কলেজের একটি গোডাউনে স্তুপাকারে রাখা হয়েছে।
সাবেক এই অধ্যক্ষের অভিযোগে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমোতাবেক শর্ত পূরণ না করায় সিরাজুল হক নাসিরকোট শহীদ স্মৃতি ডিগ্রি কলেজের বৈধ দাতা সদস্য ছিলেন না, এখনও নেই। তিনি অবৈধভাবে দাতা সদস্য হিসেবে কলেজে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হরিশচন্দ্র সাহা বলেন, কীভাবে সিরাজুল হক দাতা সদস্য হলেনÑ তা আমার জানা নেই। অধ্যক্ষ চলে যাওয়ার পর রেজুলেশনের মাধ্যমে আমাকে দায়িত্ব দেয়া হয়।
কলেজের বিদোৎসাহী সদস্য মো. শহিদুল¬াহ মিয়া বলেন, সিরাজুল হক দাতা সদস্যের বিষয়ে আমার কোন ধারণা নেই। সবেমাত্র একবার মিটিংয়ের দাওয়াত পেয়ে উপস্থিত ছিলাম। এরপর থেকে কলেজের কবে কখন মিটিং হয় তাও জানি না। এখন কোন চিঠিও পাই না।
প্রতিষ্ঠাতা সদস্য অমল রায় চৌধুরী। তিনি মুঠোফোনে বলে প্রায় তিন বছর ধরে সিরাজুল হকের কর্মকান্ড দেখে আসছি। তিনি কিভাবে দাতা সদস্য হলেনÑ এটা জানা নাই। মনগড়াভাবে তিনি দাতা সদস্য পরিচয় বহন করে আসছেন। তিনি কলেজে তিন লাখ টাকা দেয়নি। আর তা নিয়ে সাবেক অধ্যক্ষের সাথে হট্টগোল হয়। দেই-দিচ্ছি বলে আর ওই টাকা দেয়নি সিরাজুল হক।
কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও সদস্য সচিব মো. হামিদুল হক মুন্সী মুঠোফোনে বলেন, এই সিরাজুল হকের সাথে সচিব শাহ কামাল সাহের ঘনিষ্ট সর্ম্পক। আর এতে সিরাজুল হকের মুখোশ উম্মোচন করতে পারিনি। অবশেষে চাকরীর শেষ সময়ে মুখোশ উম্মোচনের জন্য অভিযোগ দায়ের করে গিয়েছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাসিরকোট শহীদ স্মৃতি ডিগ্রি কলেজের সভাপতি এবং দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. শাহ কামাল মুঠোফোনে প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেয়ার পূর্বেই তিনি এই প্রতিশ্র“তি দিয়েছিলেন। বিষয়টি জানার পর সিরাজুল হক আমার কাছ থেকে সময় চেয়েছেন। শিগগির তিনি প্রতিশ্র“তি দেয়া তিন লাখ টাকা কলেজ তহবিলে জমা দিবেন।’
এদিকে টানা সাতদিন ধরে এই দাতা সদস্য পরিচয়বহনকারী সিরাজুল হকের ব্যবহৃত দুইটি মুঠোফোনে ডায়াল করে সংযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে প্রতিবেদনের তাঁর বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি।
