
শওকত আলী:
নৌ-সীমানার পদ্মা -মেঘনা নদীতে হাজার –হাজার জেলে অভয়াশ্রমের পর নদীতে ইলিশ আহরনের জন্য নদীতে চষে বেড়ালেও তারা তাদের আশানুরুপ কাংখিত ইলিশ পাচেছনা। বর্তমান এ ভর মৌসুমে এ বছর ইলিশের আকাল চলছে চাঁদপুর এলাকায়। যার ফলে ইলিশের রাজধানি হিসেবে খ্যাত চাঁদপুরের প্রায় শতাধিক আড়তের দাদন ও আড়তদাররা তাদের আড়তে বসে এক প্রকার অবসর সময় কাটাতে দেখা যোচেছ। এ সব আড়তের শত শত শ্রমিক ইলিশের পর্যাপ্ত আমদানী না হওয়ায় বেকার হয়ে পড়েছে। তারা কস্ট শিকার করে জীবন জীবিকা উপভোগ করছে তাদের সন্তাদের নিয়ে। যে পরিমান ইলিশ পাওয়া যাচেছ তার ও দাম অনেক বেশী।যা,সাধারন মানাষের ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে। ইলিশ ্এখন দুষপাপ্য সম্পদে পরিনত হয়েছে।১ মন চাউলের দামে ১ কেজি ইলিশ ক্রয় করতে হচেছ।
চাঁদপুরের পদ্মা -মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে নৌকা যোগে ঘুরে ও জেলেদের সাথে আলাপ কালে তারা বলেন,বর্তমান ভর মৌসুমে নদীতে প্রচুর পরিমান ইলিশ ধরা পড়তো। এতে করে জেলেরা এ সময় ইলিশ মাছ ধরা ও বিক্রি নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হতো। ইলিশ বিক্রির আয় দিয়ে সংসারের খরচ মিঠিযে অতিরিক্ত অর্থ জমা রাখা যেত। এ বছর এক
শ্রেনীর অসাধু জেলে ও দাদনদাররা সরকারের জাটকা মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গোপনে প্রচুর জাটকা নিধন করে নিজেরা লাভবান হয়েছে। এ জাটকা নিধনের ফলে এ বছর নদীতে ইলিশের দেখা মিলছেনা। জেলেরা যে পরিমান ইলিশ পাচেছ তাতে তাদের পরিবারের খরচ মিটাতে পারছেনা।মনে হচেছ নদী যেন ইলিশ শূন্য ভান্ডারে পরিনত হয়ে পড়েছে। নদীতে গিয়ে হতাশ হয়ে ফিরছে জেলেরা। আর তাই বাড়ছে ঋণের বোঝা, জেলে পল্লীতে চলছে হাহাকার
আর তাই বাড়ছে ঋণের বোঝা, সংশ্লিষ্ঠ বিভাগ বলছে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। নদীতে ¯্রােত প্রবাহ বৃদ্ধি ও বর্ষা শুরু হলে মাছ ধরা পড়তে শুরু করবে। । সরকারের তালিকা ভুক্ত প্রায় ৪২হাজার জেলে ছাড়া ও অসংখ্য জেলে এখন হতাশার মধ্যে তাদের সময় অতিবাহিত করছে। এ ছাড়া ইলিশের রাজধানী হিসেবে খ্যাত মৎস্য আড়তে গিয়ে মহাজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়,বর্তমান এ সময় আড়ৎ গুলো সরগরম থাকার কখা। হাজার হাজার মন ইলিশ নিয়ে জেলে ও পাইকাররা আসতো। লক্ষ লক্ষ টাকা লেনদেন হতো । ইলিশের দাম যে পরিমান থাকতো তাতে প্রতিটি মানুষ তাদের চাহিদা অনুযায়ী ইলিশ ক্রয় করতে পারতো।
এখানকার শত শত শ্রমিক থাকতো কর্মব্যস্ত । তারা বছরের এ সময় শ্রম দিয়ে যে অর্থ উপার্যন করতো তাতে তাদের সংসারের ব্যয় মিঠিয়ে সঞ্চয় করতে পারতো। যা দিয়ে অন্য সময় বেচেঁ থাকার সহায়ক হতো। বর্তমানে শতাধিক আড়তে প্রতিদিন গড়ে ১৫/২০ মন ইলিশ আসলেও দাম প্রচুর । যা সাধারন ক্রেতার ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে । গত ১সপ্তাহ পূর্বে হঠাৎ জেলেদের জালে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়েছিল। যার পরিরমান ছিল প্রতি দিন ২শ হতে ৩শ মন পর্যন্ত ইলিশ আমদামী হয়েছে। তখন প্রতি কেজি ৮শ ৯শ
টাকায় বিক্রি হয়েছে। সে সব ইলিশ মজুতদাররা কোল্ড স্টোরে ফিজিং করে রেখেছে অধিক দামে বিক্রির আশায়। নদীতে মাছ নেই, নৌকা নিয়ে নদীতে গেলে জ্বালানী/ তৈল খরচ-ই উঠে না বলে জানালেন জেলেরা। সাধারণত এটা ইলিশের মৌসুম না তারপরেও যা ধরা পড়ছে, তা দিয়ে প্রমান করে নদীতে মাছ আছে। আর তাছাড়া নদীতে নব্যতা সংকট বুড়িগঙ্গার পানি এ নদী দিয়ে প্রবাহিত হয় বলে মাছের উৎপাদনে বাধা হচ্ছে। তারপরেও আশা করা হচ্ছে এবছর ইলিশের উৎপাদন বাড়বে। মৎস্য বিভাগ বলছে জেলেদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। এখন মাছ কম ধরা পড়লেও কিছুদিন পর নদীতে প্রচুর মাছ ধরা পড়বে। মৎস্য গবেষণা ইসষ্টিটিউট সুত্রে জানা গেছে, চলতি বছর প্রায় ২৯ হাজার কোটি জাটকা জনতায় যুক্ত হয়েছে। যা গত বছর ছিলো ২৭ হাজার কোটি। গত বছর সাড়ে তিন লাখ মে.টন ইলিশ উৎপাদন হলেও এ বছর ইলিশ উৎপাদন চার লাখ মে.টন ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
বর্তমানে ১ কেজি সাইজের ইলিশের মন ৬৮ হাজার টাকা ,কেজি১৭শ টাকা। ১ কেজি৫০০গ্রাম ইলিশের মন ৮০/৮৫ হাজার টাকা, কেজি ২হাজার টাকা হতে ২২শ টাকা। ৮/৯ শ গ্রাম ইলিশে মন ৪০ হাজার টাকা, কেজি ১হাজার টাকা। ৫/৬গ্রাম ইলিশের মন ২৮হাজার টাকা, প্রতি কেজি ৭শ টাকা।
চাঁদপুর মৎস্য বনিক সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান কালু ভুঁইয়ার সরকার ফারুক দর্জি জানান,বছরের এ সময় প্রচুর ইলিশ ধরা পড়তো। এ বছর জাটকা নিধনের ফলে ইলিশে ভর মৌসুমে ইলিশে আকাল চলছে। যে পরিমান ইলিশ ঘাটে আসছে, তা দিয়ে গদি খরচ হচেছনা।
প্রবীন মৎম্য ব্যবসায়ী হাজী সিরাজ চোকদার জানান,এ ব্যবসা করি জীবনের ৭০বছর, ভর মৌসুমে এ রকম আকাল দেখিনি। এ রকম একই কথা জানলেন, ব্যবসায়ী-মালেক খন্দকার,মেজবা মাল,আনোয়ার হোসেন গাজী,সেলিম বেপারী ও মোকলেছ ভুঁইয়া।
