
রফিকুল ইসলাম বাবু ঃ
প্রায় ২শ’ বছর পূর্ব থেকে চাঁদপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী বানিজ্যিক কেন্দ্র পুরাণ বাজার এলাকায় বানরের বিচরণ। সময়ের সাথে ও মেঘনা নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে এই এলাকার ভৌগলিক পরিবর্তন এসেছে। বহুবছর ধরে পুরাণ বাজার খাদ্য সামগ্রীর আড়ৎ ও কারখানার গুলোর আশপাশে অবস্থান করে বানরগুলো খাদ্য গ্রহন করতো। কিন্তু এখন খাদ্য অভাবে অনেক বানর মরে বিলুপ্ত হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। চাঁদপুর মেঘনা পাড়ের পুরানবাজার ছিলো বানরের অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র। বানিজ্যিক এলাকা হওয়ার কারণে এখানে ভূষা মালের আড়ৎ (ধান, চাল, গম, ডাল) এবং বিভিন্ন খাদ্য সমাগ্রীর কারখানা গড়ে উঠে। এসব কারখানাগুলো খুব কাছাকাছি। পুরাণ বাজার খোলা স্থান খুবই কম। মানুষের বসবাসের স্থানগুলোও ঘনবসতি। বানরগুলো দীর্ঘদিন ওইসব এলাকায় পরিত্যাক্ত ঘরবাড়িতে অবস্থান নিয়ে থাকা শুরু করে। আস্তে আস্তে তাদের বংশ বৃদ্ধি হয়। ব্যবসা বাণিজ্যও বাড়তে থাকে। আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থানরত বানরগুলো পরিত্যক্ত খাবার গ্রহন করতো। কিন্তু গত ১ যুগ ধরে এ বাণিজ্যিক কেন্দ্রে ব্যবসায়িক অনেক প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানা বন্ধ হয়ে যায়। এতে খাদ্য সংকটে পড়ে বানরগুলো। সহ¯্রাধিক এ বানর সংরক্ষণে সরকারী কিংবা বেসরকারি ভাবে কেউই উদ্যোগ গ্রহন করে নাই। প্রাকৃতিক ভাবেই বানরগুলো এ এলাকায় বিচরণ করে। বর্তমানে খাদ্য অভাবে বানরগুলো জনবসতী এলাকায় বেশী আনাগোনা করতে দেখা যায়। বানরগুলো মানুষের বাড়ী ঘরে জামা-কাপড়, খাবারের হান্ডি-পাতিলসহ বিভিন্ন জিনিস আটক করে খাদ্যের জন্য জিম্মি করে। এছাড়া খাবারের দোকানেও তারা খাদ্য পেতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে। তাদের খাদ্য দিলে নিয়ে যাওয়া জিনিসগুলো ফেরৎ দিয়ে দেয়। স্থানীয় এলাকার মহিলা পুরুশ জানান,চাঁদপুরের প্রাচীন শহর পুরানবাজারে এখন কত বানর রয়েছে, তার সঠিক হিসাব কারো কাছে না থাকলেও এ সংখ্যা হাজারের বেশি বলে ধারণা স্থানীয়দের। বানরের খাদ্য সংকট নিরসনে সরকারি কিংবা বেসরকারি ভাবে নেই কোন উদ্যোগ। বন বিভাগ কর্মকর্তা বলেন,খাদ্যের সন্ধানে প্রতিদিনই লোকালয়ে বানর ডুকে পরে। এতে প্রায়ই মারা যায় বানর। বানরের খাদ্য সমস্যা নিরসনে সরকারি ভাবে উদ্যোগ নেয়ায় দাবী জানালেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিও। চাঁদপুর পৌরসভা প্যানেল মেয়র বলেন,পদ্ম-মেঘনা-ডাকাতিয়ার মিলনস্থল নদী বন্দর চাঁদপুরের পুরাণবাজারে নানা রঙ ও ধরণের বেশ কয়েক প্রজাতির বানর রয়েছে। এসব বানরের অস্থিত্ব রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার এখনই সময় বলে অভিমত দিয়েছেন স্থানীয়রা।
