
শওকত আলী:
আন্ত:র্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র মতলব আইসিডিডিআরবিতে (কলেরা হাসপাতাল) ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১১ মাসে প্রায় ২৬ হাজার ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা সেবা নিয়েছে। প্রতিদিনই ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে। ১২ মাসেই ডায়রিয়া আক্রন্ত রোগী কম বেশি ভর্তি হয়ে থাকে। তন্মোধ্যে বছরের স্বাভাবিক সময়ে অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৫৫ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী এ হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকে। বিশেষ করে বছরের ৩টি সময়ে অধিক মাত্রায় ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায় বলে জানান হাসপাতালের চিকিৎসকরা। তন্মোধ্যে মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে গড়ে ৭০ জন, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে ৮০ জনের ঊর্ধ্বে এবং ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে গড়ে শতাধিক ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হতে দেখা যায়। বছরের দু’টি মাসে অর্থাৎ ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে রোটা ডায়রিয়া শিশু রোগীর সংখ্যাই বেশি। হাসপাতালের দেয়া তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ১০ মাসে মতলব আইসিডিডিআরবি হাসপাতালে ২৫ হাজার ৩শ’ ৯২ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা সেবা নিয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় অধিক। গত ২০১৫ সালে জানুয়ারি মাস থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত অর্থাৎ ১০ মাসে ২১ হাজার ৮২ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা সেবা নিয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে বিভিন্ন বয়সী রোগী রয়েছে। তন্মোধ্যে শূণ্য থেকে ২ বছরের শিশু ৬৮.২%, ২ বছর থেকে ৫ বছর বয়সী শিশু ৫.৫%, ৫ বছর থেকে ১৫ বছর বয়সী ২.১% এবং ১৫ বছর থেকে সর্বোচ্চ বয়সী রোগীর সংখ্যা ২৪.২%। মতলব ডায়রিয়া হাসপাতালে চাঁদপুর জেলা, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালীর চাটখিল, শরীয়তপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা রোগীরা চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে। হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা যায়, ৭০ বেডের হাসপাতালে ১৫০ জন রোগীকে চিকিৎসা সেবা প্রদানের ধারণক্ষমতা রয়েছে। হাসপাতালে আসা রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদানে নিয়মিত ৫ জন ডাক্তার ৬ জন নার্স ও ১৮ জন এটেনডেন্স্ দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত থাকে। হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা লক্ষ্মীপুর জেলার মরিয়ম আক্তার, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আমেনা আক্তার, নোয়াখালী চাটখিলের আব্বাস প্রধান ও চাঁদপুর হাইমচরের সফিউল্লাহ জানান, আমরা দুর থেকে আসলেও হাসপাতালের চিকিৎসকরা আন্তরিকভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। রোগী সুস্থ্য না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতালের ডাক্তার ও নাসরা (সেবিকা) রোগীদের খোঁজ-খবর নেন। হাসপাতালের সিনিয়র চিকিৎসক চন্দ্র শেখর জানান, এ হাসপাতালে প্রতিদিনই ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়ে থাকে। বছরের ৩টি সময় এ রোগের কিছুটা বৃৃদ্ধি পেয়ে থাকে। তন্মোধ্যে ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসেই সবচেয়ে বেশিই এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কারণে ডায়রিয়া রোগের সৃষ্টি হয়ে থাকে। দুষিত খাবার, দুষিত পানি, খোলা খাবার, পঁচা ও বাসি খাবার খাওয়ার কারণে ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে থাকে। শিশুদের ক্ষেত্রে ৬ মাস পর্যন্ত বাচ্চাকে বাইরের খাবার থেকে বিরত রাখা, মায়েদের বুকের দুধ খাওয়ানো, সময় মতো ইপিআই টিকা দেয়াএকান্ত প্রয়োজন বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
শিরোনাম:
বুধবার , ২২ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ৯ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
