এম আর ইসলাম বাবু ॥
১৯৯২ সালে একদল উদ্যেমী সাংস্কৃতীক কর্মীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ও প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মৃতীকে নব প্রজন্মের কাছে স্মরন করিয়ে দেওয়ার জন্য চাঁদপুর সরকারি হাসান আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শুরু হয়েছিলো মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা। সারা বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার ইতিহাস বিশ্লেষনে দেখা যায় সর্ব প্রথম চট্রগ্রামে শুরু হয় বিজয় মেলা। এরপর পরই চাঁদপুরের অবস্থান। চাঁদপুরে মেলা শুরুর পর থেকেই মেলা উদযাপন কমিটি মেলাকে শতভাগ স্বচ্ছতা রাখার ব্যাপারে যথেষ্ট আন্তরিক ছিলো। সেই ধারাবাহিকতায় এ যাবৎকাল পর্যন্ত চাঁদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র হাসান আলী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত বিজয় মেলার সার্বিক দিক বিবেচনায় একটি গৌরবগাঁথায় পরিনত হয়েছে। প্রতিবছর মেলা মাঠে একদিকে থাকে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতী সংরক্ষন ফটো প্রদর্শনী, মঞ্চে প্রতিদিন বিকালে মুক্তিযুদ্ধ বিষযক স্কুল শিক্ষার্থিদের আলোচনা পর্ব, সন্ধ্যায় দেশ বরেণ্য বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধকালিন স্মৃতীচারন, গ্রামিণ বাংলার ঐতিহ্য পুতুল নাচ, নাগর দোলা ও রাতে বিভিন্ন নাট্য ও সাংস্কৃতিক দলের পরিবেশনায মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নাটক ও সাংস্কৃতীক অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। সব মিলিয়ে ঐতিহ্যবাহি এ মেলা এ দেশের নব প্রজন্মকে মনে করিয়ে দেয় এক সাগর রক্তের বিনিময়ে মহান মক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে একটি স্বাধিন দেশ উপহার দিয়েছে। এসো মিলি মুক্তির
মোহনায় এ শ্লোগানকে ধারণ করে চাঁদপুরে গত ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী সার্বজনীন বিজয় উৎসব মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা। এ বছরের বিজয় মেলা গৌরবের ২৩ বছর। এ বছর ১ ডিসেম্বও সন্ধ্যায় বিজয় মেলার কার্যক্রমের শুভ সূচনা করেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ ইসমাইল হোসেন ও চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মোঃ আমির জাফরসহ মেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ। মেলা ১ ডিসেম্বর সূচনা হলেও মূলত হানাদারদের হাত থেকে চাঁদপুর মুক্ত হয়েছিলো ৮ ডিসেম্বরঅ তাই প্রতিবছর ৮ ডিসেম্বর চাঁদপুর মুক্ত দিবসে মেলা আনুষ্টানিক উদ্বোধন হয়ে থাকে। ৮ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় বিজয় মেলার উদ্বোধন করবেন চাঁদপুর-৩ আসনের সাংসদ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি। এ পর্বে বিশেষ অতিথি থাকবেন চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেওয়ান মোঃ সফিকুজ্জামান, সিপিবি চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি মনীষা চক্রবর্তী। উদ্বোধনী পর্বে সভাপ্রধান থাকবেন মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার কার্যনির্বাহী পরিষদের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডঃ সেলিম আকবর। বিকেল ৪টায় মেলা মঞ্চে দ্বিতীয় পর্বের উদ্বোধনী আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, চাঁদপুর-২ আসনের সাংসদ মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বীক্রম। বিশেষ অতিথি থাকবেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়া, জেলা প্রশাসক মোঃ ইসমাইল হোসেন, পুলিশ সুপার মোঃ আমির জাফর, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম দুলাল পাটওয়ারী, জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি নুরুল হক হক বাচ্চু
মিয়াজি, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আঃ হামিদ মাস্টার। এতে সভাপতিত্ব করবেন মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার স্টিয়ারিং কমিটির চেয়ারম্যান কমান্ডার জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এমএ ওয়াদুদ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ৮ ডিসেম্বর বিজয় মেলার সাথে সম্পৃক্ত সকলকে উপস্থিত থাকতে অনুরোধ করেছেন বিজয় মেলার মহাসচিব অ্যাডঃ বদিউজ্জামান কিরন। এ বছরও বিজয় মেলার মাঝে ১৩৫টি বাণিজ্যিক স্টল তৈরি করা হয়েছে। ষ্টল গুলোতে কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, সিলেট মৌলভী বাজার কুঁটির শিল্প ও বাণিজ্য মেলাতে দোকান সাজিয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মেলার নামে রাতভর জুয়া, অশ্লীল নারী নৃত্ত সহ নানান অসামাজিক কার্যক্রম চলার কথা প্রায় সময়ই বিভিন্ন পত্র পত্রিকার মাধ্যমে জানাযায়। কিন্তু এ দিক থেকে সম্পূর্ণ ব্যাতিক্রম চাঁদপুরের বিজয় মেলা। এখানে সকল কিছুর উদ্ধে শহীদদের স্মৃতীকে প্রধান্য দেওয়া হয়ে থাক্।ে এ বিষয়ে বিজয় মেলা ২০১৪ উদযাপন পরিষদের মাঠ ও মঞ্চ আহবায়ক হারুন আল রশিদের সাথে আলাপ কালে তিনি জানান, চাঁদপুরের বিজয় মেলা সারা বাংলাদেশের একটি মডেল। আমরা এ মেলাকে সার্বজনিন রুপ দিতে পেরেছি। এখানে মহান মক্তিযুদ্ধের শহীদদেরকে এবং যেসব মুক্তিযুদ্ধারা জীবিত রয়েছেন তাদেরকে গভীর শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করা হয়। এছাড়াও মেলার শৃঙ্খলা, পবিত্রতা রক্ষায় সর্বাত্মক সচেষ্ট মেলা কমিটি। সব মিলিয়ে দেশের সকল জেলা বিবেচনায় চাঁদপুরের মাসব্যাপি বিজয় মেলা একটি স্বচ্ছ মেলা। মেলা মাঠের কয়েকজন ব্যাবসায়ির সাথে আলাপকালে তারা জানায়, চাঁদপুরে বিজয় মেলা মাঠে আমরা যেসব সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা পেয়ে থাকি সার্বিকভাবে তা অন্য কোথাও পাইনা। তাইতো চাঁদপুরের বিজয়মেলায় আমরা ছুটে আসি। চাঁদপুর বাসির প্রত্যাশা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতীবিজরিত এ প্রাণের মেলা চাঁদপুরের বুকে চলমান থাকবে আজীবন।
শিরোনাম:
শনিবার , ২ মে, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ১৯ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।

