
শাহরিয়ার খাঁন কৌশিক ॥
চাঁদপুরে আলুর বস্তার নিচে চাপা পরে জাকির(৩০) নামে এক শ্রমিকের করুন মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনা পুলিশকে না জানিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে রাতের আধাঁরে লাশ দাফন করার খবর পাওয়া গেছে। গত রবিবার বিকেল সাড়ে ৩ টায় পুরানবাজারের আড়ৎ পট্টিতে রশিদ আখনের ছেলে ফরিদ আখনের ব্যাবসায় প্রতিষ্টানে এই ঘটনা ঘটে। গুরুত্তর আহত অবস্থায় তাকে স্থানীয় দোকানীরা উদ্ধার করে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার তার অবস্থা আশংঙ্খাজনক দেখে ঢাকায় রেফার করে। কিন্তু ব্যাবসায় প্রতিষ্টানের মালিক ফরিদ আখন অবহেলা করে তাকে ঢাকায় না নিয়ে হাসপাতালে রাখে। পরে শ্রমিক জাকির নিস্তেজ হয়ে পরলে অবশেষে রাত ১ টায় তাকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। জানা যায়, জাকিরকে মতলব পর্যন্ত নেওয়ার পর সে মৃত্যুর কোলে ঢুলে পরে। পরে তাকে চাঁদপুরে নিয়ে আসা হয়। নিহত জাকির সদর উপজেলার চাঁন্দা ইউনিয়নের বাখরপুর গ্রামের মৃত কাশেমের ছেলে। নিহত জাকিরের স্ত্রী জানায়, দির্ঘদিন যাবত সে পুরানবাজারের ফরিদ আখনের আড়ৎ দোকানে শ্রমিকের কাজ করে আসছিলো। ঘটনার দিন বিকেলে আলুর বস্তার খামাল ঘায়ে পরে সে গুরুত্তর আহত হয়। তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তার ঢাকায় রেফার করলে দোকান মালিক চিকিৎসার কোন টাকা না দেওয়ায় ঘটনার পর পরই তাকে ঢাকায় নেওয়া সম্ভব হয়নি। অবষেশে তাকে রাতে ঢাকায় নেওয়ার পথে মতলবে যাওয়ার পর চিকিৎসার অভাবে তার করুন মৃত্যু হয়। পরে তারা ঘটনা ধামাচাপা দিতে মালিক পক্ষ কাউকে বুঝতে না দিয়ে রাত ২ টায় নিহত জাকিরকে গ্রামের বাড়ি বাখরপুরে নিয়ে যায়। জাকিরের পরিবারের বাবা ও মা কেউ বেঁচে নেই। এখোন তার দুই সন্তান নিয়ে কিভাবে বাঁচবো।
এদিকে জাকিরের এই করুন মৃত্যুতে তার পরিবারের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। এলাকাবাসি এই মৃত্যুর ঘটনায় দোকান মালিককে দোষি করেন। কারন ঘটনার পর পরই ঢাকায় নেওয়া হলে তাকে বাঁচানো সম্ভব ছিলো। মূলত সে চিকিৎসার অভাবে মারা গেছে।
