চাঁদপুরে ঈদ ফেরত মানুষের চরম ভোগান্তি
ট্রেনের ভিতরে ছাড়াও ছাদের উপরে উপচে পড়া ভিড় ॥
ট্রেনের বগি বাড়ানোর দাবি ভোক্তভুগী যাত্রীদের
আসন না থাকায় লক্ষ লক্ষা টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত সরকার
শওকত আলী ঃ
চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রামগামী ট্রেনের যাত্রীদের ভোগান্তির শেষ কোথায় তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সচেতন মহলের। ঈদের ৬ দিন পরেও এ রুটের ঈদ ফেরত হাজার হাজার যাত্রীরা কর্মস্থলে যোগদিতে ট্রেনের আসন থাকা টিকেট না পেয়ে ট্রেনের ভিতরে মেঝেতে বসে ও ছাদের উপর উপচে পড়া ভিড় উপেক্ষা করে যাত্রী হয়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে যাত্রা করতে দেখা যাচ্ছে। এতে করে অতিদ্রুত গতির ট্রেনের উপর থেকে পড়ে যে কোন সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছে ভোক্তভোগী যাত্রী ও সচেতন মহল। তবে যাত্রীদের দাবী এরুটে ট্রেনগুলোর আসন পেতে ট্রেনের বগি বাড়িয়ে দেওয়া একান্ত প্রয়োজন। এ দিকে বাংলাদেশ রেলওয়ের পুলিশ, নিরাপত্তা বাহীনি, আর্ম পুলিশ, আনাসার বাহীনি সহ যারা এ সময় দায়িত্ব পালন করছে তারা ছাদে যাত্রী উঠার কোন বাঁধা প্রয়োগ করছেনা। রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় স্টেশন মাষ্টার সহ কর্মকর্তারা রাত ভর যাত্রী সেবা দিতে রাত জেগে কাজ করতে দেখা গেছে। ভোর রাত সাড়ে ৩ টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত প্রতিটি ট্রেনে ছিলো অসংখ্য যাত্রীর ভিড়। উপচে পড়া ভিড়ের মধ্যে যাত্রীরা ছাদের উপরে উঠেও তাদের কর্মস্থলে যেতে দেখা গেছে।
সরজমিনে গতকাল শুক্রবার গভির রাতে চাঁদপুর বড় স্টেশন গিয়ে দেখা যায়, স্টেশন এলাকায় শিশু, নারী, যুবক-যুবতি, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও মহিলা সহ শত শত যাত্রী লাইনে দাড়িয়ে মাটিতে বসে রয়েছেন ট্রেনের টিকেটের আশায়।
যাত্রীরা জানায়, দক্ষিনাঞ্চলীয় বরিশাল, ভোলা, লালমহন, চরফেশান, পাতার হাট, পয়সার হাট, ফিরোজপুর, ভান্ডারিয়া, ঝালাকাঠি, কালাইয়া, লেতরা, আমতলী ও বরগুনা সহ বভিন্ন স্থান থেকে সকালে লঞ্চে উঠে দাড়িয়ে ও ডেকের মধ্যে কষ্ট শিকার করে চাঁদপুর এসেছে। এখানে এসে লাইনে দাড়িয়ে আসন সারা টিকেট ক্রয় করতে হচ্ছে। আসন থাকা টিকেট দিনের বেলায় স্থানীয় যাত্রীরা নিয়ে গেছে। আসন না পেয়ে ট্রেনের ভিতরে মেঝেতে বসে ও দাড়িয়ে চট্টগ্রাম যেতে হচ্ছে ৫ ঘন্টা কষ্ট শিকার করে। অনেক যাত্রী টিকেট ক্রয় করে আসন না পেয়ে ও অনেকে বিনা টিকেটে মই দিয়ে ছাদের উপরে উঠে কষ্ট শিকার করে শিশু, মহিলা ও পুরুষ যাত্রী গন্তব্যর উদ্দেশ্যে যাত্রা করছে।
ভোক্তভোগী যাত্রীরা জানায়, তাদের এ দূর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে ট্রেনের আসন বাড়াতে প্রতিটি ট্রেনের বগির সংখ্যা বাড়িয়ে দেওয়ার দাবী রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।
অপরদিকে শুক্রবার রাত সাড়ে ৩টায় শুধুমাত্র চাঁদপুর স্টেশন থেকে ঈদ স্পেশাল ট্রেনে চট্টগ্রাম যেতে ৫শ’ ৮৯ জন যাত্রী টিকেট করেছে। এতে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ৫৭ হাজার ৮শ’ ৮৫ টাকা। ভোর ৫টায় আন্তঃনগর মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেনে চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ১ হাজার ২৩ জন যাত্রী টিকেট ক্রয় করেছে, এতে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ১লক্ষ ৬০ হাজার ৮শ’ ৭০ টাকা। ঈদ স্পেশাল-২ ট্রেনের টিকেট বিক্রি হয়েছে ৩শ’ টি, এতে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ৩০ হাজার টাকা।
৩টি ট্রেনে যে পরিমান টিকেট বিক্রি করে সরকার রাজস্ব আয় করেছে, তার চাইতে ৩-৪ গুন বেশি যাত্রী ভিতরে মেঝেতে বসে, দাড়িয়ে ও ছাদে উঠে চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রামে তাদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে গিয়েছেন। এতে করে বগি সংকটের কারনে সরকার লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
অন্যদিকে চাঁদপুর স্টেশন থেকে প্রতিটি ট্রেনে উপচে পড়া ভিড় পরিলক্ষিত হলেও চাঁদপুর ছাড়াও চাঁদপুর-লাকসাম এর মধ্যবর্তি স্টেশনগুলি থেকে ও লাকসাম থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে বিরতি স্থানের স্টেশন থেকেও শত শত যাত্রী এসব ট্রেনগুলোতে উঠে দূর্ভোগের মধ্য দিয়ে তাদের গন্তব্যে গিয়েছে বলে রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানান। এ ব্যাপারে জরুরী ভিত্তিতে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন হয়ে পরেছে।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর স্টেশন মাষ্টার মোহাম্মদ হোসেন মজুমদার জানান, ঈদের পর থেকে প্রতিদিন রাতেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। যাত্রী নিরাপত্তা ও যাত্রী সেবার স্বার্থে অন্য কেউ না আসলেও আমাকে দায়িত্ব পালন করার জন্য আসতেই হচ্ছে, চাঁদপুর স্টেশনে ঈদের ৬দিন পরেও শুক্রবার যাত্রী চাপ অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। আমার স্টেশন এলাকায় দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সঠিক ভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এছাড়া আইন নিয়ন্ত্রনকারী কর্তৃপক্ষের সদস্যরাও তাদের দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করছে।
