শিরোনাম:
বুধবার , ২২ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ৯ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
চাঁদপুর সদর উপজেলার ১২ নং চান্দ্রা ইউনিয়নের মদনা গ্রামে মাজুদা বেগম নামে এক এতিমের বসতঘর সন্ত্রাসী কায়দায় ভেঙে লুটপাট করে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
খোলা আকাশের নিচে ছয় সন্তান সহ মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে এতিম মাজুদা বেগম।
বসতঘর ভেঙে লুটপাট করার ঘটনা ৪ মাষ পেরিয়ে গেলেও এখনো বিধবা মাজুদা বেগমের নিজের জায়গায় বসতঘর উঠেতে দেয়নি সন্ত্রাসীরা।
১ বছর পূর্বে তার স্বামী তাজুল ইসলাম মারা যাওয়ায় শিশু সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্টে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে।
মদনা গ্রামে বাবার বাড়িতে এসে দুই কড়া সম্পত্তি ক্রয় করে দেড় বছর পূর্বে বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছিল।
সেই সম্পত্তির উপর চোখ পড়ে স্থানীয় দুই ভূমি দস্যু মন্নান খানের ছেলে নয়ন খান ও তার ভাই খোকন খানের।
বিধবা নারী মাজুদা বেগমের বসত ঘর তোলার সময় এই দুই ভূমিদস্যু তার কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে। চাঁদার টাকা না দেওয়ায় তাদের উপর চলে অমানুষিক নির্যাতন।
৪ মাষ পূর্বে বিধবা নারীর সাথে বাকবিতন্ড সৃষ্টি হলে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে এই দুই ভূমিদস্যু নয়ন ও খোকন প্রকাশ্যে ফিল্মি স্টাইলে বিধবা মাজুদা বেগম এর ঘর ভেঙ্গে তছনছ করে ফেলে। তার বসতঘরের মালামাল পাশের পুকুরে, ডোবায় ফেলে দেয় ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করে নিয়ে যায়। এ সময় তাদের বাধা দিলে বিধবা মাজুদা বেগমের তিন মেয়ের উপর শারীরিক নির্যাতন চালায়।
এই ঘটনাটি একাত্তুরের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি পাক হানাদার বাহিনী যেভাবে বাংলার অসহায় মানুষের উপর হামলা ও নির্যাতন চালিয়েছে তাকেও হার মানিয়েছে।
ঘটনার পর বিধবা মাজুদা বেগম বাদী হয়ে চাঁদপুর মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
এই নির্মম সহিংস ঘটনায় বিচারের দাবিতে বিধবা মাজুদা বেগম মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। ঘটনার ৪ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো হামলাকারী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি এবং বিধবা নারীর বসতঘরটি তুলতে দেওয়া হয়নি।
বিধবা মাজুদা বেগম জানায়, স্বামী মারা যাওয়ার পর ছয় সন্তানকে সাথে নিয়ে বাবার বাড়িতে এসে জায়গা ক্রয় করে ঘর নির্মাণ করেছি। এই জায়গা আত্মসাৎ করার জন্য নয়ন ও খোকন হামলা চালিয়ে ঘর বাড়ি তছনছ করে ফেলে। এই সন্ত্রাসীরা আমার মেয়ে ও আমার উপর নির্মম ভাবে হামলা চালিয়েছে। খোলা আকাশের নিচে এখন ছেলে সন্তানদের নিয়ে বসবাস করছি।
বসতঘর ভেঙে লুটপাট করে উল্টো সন্ত্রাসী খোকন বাদী হয়ে আদালতে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। এছাড়া এই ঘটনায় যারা সালিশি করেছে এদের মধ্যে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহআলম জমাদারকে মামলায় জড়িয়েছে।
বিচারের দাবিতে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। কোথায় গেলে হবে আমার এই ঘটনার সমাধান।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই এসআই জাহাঙ্গীর জানান, বিধবা মাজুদা বেগমের ঘরটি ভেঙেছে তার ঘটনা সত্য।
তিনি আদালতে মামলা করলে হামলাকারী খোকনের বিরুদ্ধে অবশ্যই প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
