মিজানুর রহমান রানা
প্রতি বছর পবিত্র মাহে রমজান এলে চাঁদপুরের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী, ক্রীড়া সংগঠনগুলোর ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয় বেশ বর্ণাঢ্য পরিসরে। তবে এবার এসব ইফতার মাহফিলে কিছুটা ভাটা পড়েছে।
মুসলমানদের সিয়াম সাধনার মাস পবিত্র মাহে রমজান। এ মাহে রমজানে মুসলমানগণ ৩০টি রোজা পালন শেষে তাদের কাক্সিত একটি আনন্দের দিন- পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্যাপন করে। সিয়াম সাধনার এ মাসটি হলো রহমত, বরকত, মাগফেরাত ও নাজাতের মাস। এ মাসটিতে সকলে মিলেমিশে ধর্মীয় কর্মসূচিগুলো পালন করে। একইভাবে এ মাসটিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনেতিক দলগুলোর মধ্যেও সৌহার্দ্যপূর্ণ একটি পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তাই এই পরিবেশ সৃষ্টি করতে গিয়ে সকল রাজনৈতিক দলগুলো, সামাজিক, পেশাজীবী সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠনগুলো ইফতার মাহফিল নামে একটি সংস্কৃতি লালন করে একে অপরের সাথে অথবা এক মতাদর্শের মানুষগুলো অন্য মতাদর্শের মানুষগুলো নিয়ে একসাথে ইফতারের আয়োজন করে। কিন্তু এবারের পবিত্র মাহে রমযানে চাঁদপুরে ইফতার সংস্কৃতিতে ভাটা পড়েছে।
বিগত বছরগুলোতে চাঁদপুরের রাজনৈতিক দলগুলো তাদের জেলা শাখা, উপজেলা শাখা, পৌর শাখা এমনকি বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এবং এদেরও বিভিন্ন ইউনিটগুলো এতো ইফতার সংস্কৃতির আয়োজন করতো, যা ছিলো চোখে পড়ার মতো। কিন্তু ব্যতিক্রম এবারে পবিত্র মাহে রমজানে চাঁদপুরের রাজনৈতিক দলগুলো। দেশের বর্তমান মতাসীন রাজনৈতিক দল ও স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চাঁদপুর জেলা শাখা সহ এ পর্যন্ত কোনো ইউনিটেরই ইফতার মাহফিল আয়োজনের কোনো ল্য দেখা যায়নি। এমনকি কোনো অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠনেরও এখন পর্যন্ত কোনো ইফতার আয়োজন করেনি। ল্য দেখা যায় না। এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের প থেকে সুস্পষ্ট বক্তব্য চাওয়া হলেও শীর্ষ নেতারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
গত সপ্তাহে চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক শহরের জে এম সেনগুপ্ত রোডস্থ মুনিরা ভবনে ইফতার আয়োজন করা হয়। সেটিকে জেলা বিএনপির দলীয় ব্যানারে করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হলেও এই ইফতার মাহফিলে জেলা বিএনপির একটি অংশ ছিলো অনুপস্থিত। তাদের বক্তব্য, জেলা বিএনপির আয়োজনে ইফতার মাহফিল হলে অবশ্যই সেটি কারো বাসভবন নয়, অন্য কোনো স্বতন্ত্র্য স্থানে হতো। সেটি অবশ্যই দলীয় ব্যানারে কারো বাসভবনে কীভাবে একটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়! কারো বাসভবনে দলীয় ব্যানারে ইফতার হয় না বলে তারা জানান। অপরদিকে জেলা বিএনপি বা অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প থেকেও কোনো ইফতার মাহফিল এখন পর্যন্ত আয়োজন করা হয়নি।
একইভাবে বর্তমান প্রধান বিরোধী দল জেলা জাতীয় পার্টির প থেকে বা কোনো ইউনিটের অথবা অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের প থেকেও কোনো ধরনের ইফতার মাহফিল করার উদ্যোগ নেই বলে শীর্ষস্থানীয় এক নেতা জানান। তবে ওয়ার্ড পর্যায়ে জেলা জাপা’র দু’য়েকজন নেতার পিতা বা মাতার মৃত্যুবার্ষিকী অনুষ্ঠানের ইফতার মাহফিল করে সেটিকে ওয়ার্ড ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ইফতার হয়েছে বলে প্রচার করা হয়।
তাছাড়া বর্তমান মতাসীন মহাজোট সরকারের কোনো শরীক দল এবং সাবেক বিরোধী দল বিএনপির কোনো শরীক দলও এবারে ইফতার সংস্কৃতিতে নেই। এমনকি চাঁদপুরের পেশাজীবী সংগঠন, সাংস্কৃতিক সংগঠন, সামাজিক সংগঠন ক্রীড়া সংগঠনগুলোরও ইফতার সংস্কৃতিতে এখন পর্যন্ত দেখা মিলেনি। যদিও পেশাজীবী সংগঠনের মধ্যে একমাত্র চাঁদপুর প্রেসকাবের ইফতার মাহফিলটি ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এ বছরও জাঁকজমকভাবে আয়োজন করেছে এবং বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন এবং চাঁদপুর টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরাম অতীতের ন্যায় এবারও এ আয়োজন করেছে। অর্থাৎ শুধুমাত্র পেশাজীবী সংগঠনগুলোর মধ্যে সাংবাদিক সংগঠনগুলো তাদের ধারাবাহিকতা রা করছে।
সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে অনন্যা নাট্যগোষ্ঠী, চাঁদপুর ড্রামা, চাঁদপুর মঞ্চ, মোহনা শিল্পী গোষ্ঠী, নতুনকুড়ি সহ আরো দু’একটি সংগঠন ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছে এবং ক্রীড়া সংগঠনের মধ্যে নতুনবাজার ক্রীড়া চক্র ও পূর্ব শ্রীরামদী ক্রীড়া চক্র ব্যতীত অন্য কোনো সংগঠন এখন পর্যন্ত এ আয়োজনে দেখা যায়নি। ক্রীড়া সংগঠনগুলোর মধ্যে মূল অভিভাবক জেলা ক্রীড়া সংস্থা। তারাও এ বছর এ আয়োজনে ব্যর্থ হয়েছে। আর স্থানীয় সরকারের অধীনস্থ চাঁদপুর পৌরসভা তাদের বাজেট ঘোষণা অধিবেশনে ইফতার মাহফিল আয়োজন করেছে। ঐতিহ্যবাহী চাঁদপুর কাব এখন পর্যন্ত এ ধরনের আয়োজনের কোনো ল্য দেখা যায়নি।
প্রতি বছর পবিত্র মাহে রমজান এলে চাঁদপুরের রাজনৈতিক সংগঠন, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী, ক্রীড়া সংগঠনসহ বহু সংগঠনের ইফতার আয়োজন ছিলো ভুরি ভুরি। সেখানে এ বছর এ ধরনের আয়োজন না দেখে সচেতন জনগণের মনে অনেকটাই স্বস্তির দেখা মিলেছে। কারণ নামকাওয়াস্তে কিছু ভূঁইফোড় সংগঠন ইফতার আয়োজনের নামে বেশ চাঁদাবাজি করতেও দেখা গেছে। সেটি থেকে অন্তত চাঁদপুরবাসী এ বছর রা পেয়েছে।
শিরোনাম:
শনিবার , ৭ মার্চ, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ২৩ ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।

