শাহরিয়ার খান কৌশিক ॥
চাঁদপুর শহরে দূর দুরান্ত থেকে প্রতারক চক্ররা স্বামী স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে ফ্ল্যাট বাসা ভাড়া নিয়ে পতিতা ব্যবসা, মাদক সেবন, বিক্রি ও অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। ইদানিং কালে শহরে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই দিন দিন বেড়েই চলছে। প্রতারক চক্ররা সঙ্গবদ্ধ হয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট বাসা ভাড়া নিয়ে রাতের আধারে এসব কর্মকান্ড নির্বিগ্নে চালিয়ে যাচ্ছে। চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ, ডিবি পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বেশ কিছু ফ্ল্যাট বাসায় অভিযান চালিয়ে কিছু প্রতারক চক্রদের আটক করতে সক্ষম হলেও মুল হোতারা রয়েছে অন্তরালে। ব্যাপক অনুসন্ধ্যানে জানা যায়, চাঁদপুরের অন্যান্য উপজেলা থেকে আসা সুন্দরী মেয়েরা স্বামী স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ফ্ল্যাট বাসা ভাড়া নিয়ে এসব কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের অধিকাংশরাই মুলধন ছাড়া রমরমা পতিতা ব্যবসা করে মাসে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এদের মধ্যে বেশ কিছু চক্র অন্যান্য জেলা থেকে চাঁদপুর এসে ফ্ল্যাট বাসায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড করে যাচ্ছে। তেমনি গত কয়েকদিন পূর্বে নতুন বাজার কদমতলা স্কুল সংলগ্ন পাঁচ তলা ভবনের নিচের তলায় মোশারফ ও রাবেয়া আক্তার রুমি নামের ২ জন স্বামী স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে বাসা ভাড়া নেয়। ওই বাসার মালিকের ছেলে জাহিদের একটি মটর সাইকেল চুড়ি হওয়ার পর থেকে ভাড়াটিয়া মোশারফ ও রাবেয়া আক্তার রুমি বাসায় তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়। মোশারফ ও তার নামধারী রাবেয়া আক্তার রুমি বাসা ভাড়া নিয়ে পতিতা ব্যবসা সংগঠিত কর্মকান্ড সংঘটিত করার পর বাড়ির মালিক জানতে পেরে বাসা ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলে। মোটর সাইকেল চুরি হওয়ার পর থেকে বাসায় না
আসায় পুলিশ মোশারফকে গ্রেফতার করলে সে পতিতা ব্যবসার কথা শিকার করে। জানা যায়, মতলব উত্তর ফরাজিকান্দি সর্দার পাড়ার মাইনুদ্দিন মালেক সিকদারের মেয়ে রাবেয়া আক্তার রুমি ২০১১ সালে চাঁদপুরে তার ঝেঠাতো জিনিয়া বাসায় এসে মহিলা কলেজে পড়ালেখা শুরু করে। চাঁদপুর আসার পর থেকেই সে কিছু দুষ্ট প্রকৃতির সাথে পরিচয় হয়ে অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়ে। আদালত পাড়ার এক ব্যবসায়ীক ছেলেকে ফাঁদে ফেলে প্রতারণা করে বিয়ে করার কিছু দিন পর ২ লক্ষ টাকা নিয়ে তাকে ডিভোর্স দেয়। তার পর থেকেই উত্তর গুণরাজদী টেলু ভুইয়ার ছেলে ইন্স্যুরেন্স কর্মী মোশারফের সাথে পরিচয় হয়ে পতিতা ব্যবসা ও মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। চাঁদপুর সরকারি কলেজের বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী রাবেয়া আক্তার রুমি তার বাবা মার অবাদ্ধ হয়ে বাড়ি থেকে স্বর্ণালঙ্কার টাকা পয়সা লুট করে চাঁদপুরে এসে এ অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়ে। লোমহর্সকর এ ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছে রাবেয়া আক্তার রুমির বাবা মাইনুদ্দিন মানিক সিকদার। তিনি জানান, বাবা মার অবাদ্ধ হয়ে রাবেয়া আক্তার রুমি পড়া লেখার কথা বলে চাঁদপুরে আসে। তারপর থেকে ইন্স্যুরেন্স কর্মী মোশারফ এর সাথে পরিচয় হওয়ার পর আরও খারাপ হয়ে যায়। কিছুদিন পূর্বে দ্বিতীয় বিয়ে করবে বলে বাড়িতে এসে স্বর্ণালঙ্কার টাকা পয়সা লুট করে নিয়ে পালিয়ে যায়। তার পর থেকে তার কোন সন্ধান মিলেনি।
একটি সূত্র জানায়, কলেজ ছাত্রী রাবেয়া আক্তার রুমি তার স্বামী পরিচয়ধারী মোশারফ ভূইয়া চাঁদপুর শহরের রহমতপুর আবাসিক কলোনী, আলিম পাড়া, প্রফেসর পাড়া, ওয়্যারলেছ বাজার, চানখার দোকান, সর্বশেষ শাহরাস্তি এলাকায় ফ্ল্যাট বাসা ভাড়া নিয়ে পতিতা ব্যবসা চালিয়ে যায়।
বাবা মার অবাদ্ধ চাঁদপুরে আরেক সেবী রাবেয়া আক্তার রুমি এ যাবতকালে অনেক স্কুল ও কলেজ ছাত্রীকে জোড় পূর্বক পতিতার কাজে জড়িয়ে তাদের জীবন নষ্ট করেছে। তার মুখোষ উন্মোচিত হওয়ায় এখন চাঁদপুর থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত রাবেয়া আক্তার রুমির মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সকল অভিযোগই মিথ্যা। তবে পরিবারের সাথে দীর্ঘদিন যাবত দন্দ চলে আসছে তাই তাদের সাথে যোগাযোগ নেই। কদমতলা পাঁচতলা ভবনের নিচে ভাড়া থাকা অবস্থায় সমস্যা হওয়ায় সেখান থেকে শাহরাস্তি ধোয়া ভাঙ্গা বান্দবির বাসায় চলে এসেছি। এভাবেই চাঁদপুরে বিভিন্ন এলাকায় মুখোষদারী ভদ্রবেশী প্রবাসীর স্ত্রী ও কলেজ পড়–য়া ছাত্রীরা প্রতারক চক্রের সাথে আত্মার সম্পর্ক রেখে তাদের স্বামীর পরিচয় দিয়ে তাদের অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন টিউনো অভিযান চালালে অপরাধের প্রভনতা অনেকাংশ কমে যাবে বলে সচেতন মহলের অভিমত।

