চাঁঁদপুর সংবাদদাতা॥ চাঁদপুরে মার্চ-এপ্রিল ২মাস চাঁদপুর নৌ-সীমানায় জাটকাসহ সকল ধরনের মাছ ধরা থেকে বিরত থাকার জন্য চাঁঁদপুর নৌ-পুলিশের আয়োজনে উঠান-বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত শহরের বড় স্টেশন এলাকার টিলাবাড়ীতে এক উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এতে অংশ গ্রহন করেন স্থানীয় জেলে,মৎস্য ব্যবসায়ী, মৎস্য জীবি ও নৌ-কমিউনিটি সদস্যরা। উঠান বৈঠকে স্থানীয় ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: শাহ আলমের সভাপতিত্বে মৎস্য জীবি নেতা মো: শাহআলম মল্লিকের পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর নৌ-থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আবুল হাসিম লিটন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন,সরকার নিষিদ্ধ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে জাটকাসহ যে কোন মাছ ধরার চেস্টা করা হলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। জাতীয় সম্পদ রক্ষায় আমরা কঠিন অবস্থানে থাকবো। আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন,আওয়ামী মৎস্য জীবি লীগের সভাপতি মো: মালেক দেওয়ান,মো: শাহ আলম বেপারী। এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন, মৎস্য জীবি নেতা মো: তছলিম বেপারী,মো: হাসেম দর্জি,সোবান চোকদার,মো: রফিকুল ইসলাম মিয়াজী,জামাল হোসেন প্রমুখ।
উল্লেখ্য, জাটকা রক্ষা ও ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাস ইলিশসহ সকল ধরনের মাছ আহরণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে শুরু করে লক্ষ্মীপুর জেলার চরআলেকজেন্ডার পর্যন্ত ১শ’ কিলোমিটার অভয়াশ্রম এলাকা হিসেবে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। এ সময় ইলিশসহ যে কোন মাছ আহরন, মওজুদ, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন করা যাবে না।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, জেলার মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিন, চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলায় ৫১ হাজার ১শ’ ৯০জন তালিকাভুক্ত জেলে রয়েছে। এসব জেলেদেরকে এই দুই মাস বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে সরকারের পক্ষ থেকে সেলাই মেশিন, গবাদি পশু অন্যন্যা সমাগ্রী প্রদান করা হবে। এছাড়াও ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ৪ মাস প্রত্যেক জেলেকে ৪০ কেজি করে চাল দেয়া হবে। যাতে করে জেলেরা জাটকা নিধন না করেন।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুল বাকি জানান, জাটকা রক্ষার দুই মাসের এই কর্মসূচী বাস্তবায়নের লক্ষে ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে সচেতনতামূলক প্রচার প্রচারণা শুরু হয়েছে। আমরা জেলে, জেলে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধিসহ সকল কমিউনিটি লোকদের সাথে মতবিনিময় করেছি। নদী উপকুলীয় এলাকায় জাটকা নিধন না করার জন্য মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও ব্যানার সাঁটানো হয়েছে। দুই মাস নদীতে জেলা টাস্কফোর্স নিয়মিত দায়িত্ব পালন করবেন। এরপরও যদি কোন জেলে আইন অমান্য করে মাছ আহরণ করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে মৎস্য আইনে ৫হাজার টাকা জরিমানা, ২ বছরের সশ্রম কারাদন্ড অথবা উভয় দন্ড দন্ডিত করা হবে।
চাঁদপুর অঞ্চলের নৌ-পুলিশের পুলিশ সুপার সুব্রত কুমার হালদার জানান, আমরা জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, জনপ্রতিনিধি, কোস্টগার্ড ও জেলে নেতৃবৃন্দের সাথে ইতোমধ্যে আলোচনা ও সমন্বয় করেছি। আইন অমান্য করে জাটকা আহরণ করলে আটক করে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে। নৌ-এলাকার সকল থানা ও ইউনিটের পুলিশ নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষনিক দায়িত্ব পালন করবে।
চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সবুর মন্ডল বলেছেন, ইলিশ দিয়েই চাঁদপুর জেলা ব্র্যান্ডিং হয়েছে। তাই এই ইলিশ রক্ষার দায়িত্ব চাঁদপুরের সিকি কোটি মানুষের। আমরা সকল শ্রেনী পেশার লোকদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা করেছি। জাটকা নিধনের সাথে জড়িত কাউকেই কোন ভাবে ছাড় দেয়া হবে না। আমরা চাঁদপুরের বিগত দিনের সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে চাই। সকলের সহযোগিতা থাকলে অবশ্যই দুই মাসের এ কমূর্সচী সফল হবে।
শিরোনাম:
শুক্রবার , ১৭ জুলাই, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ২ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
