চাঁদপুর শহরের তালতলা বকাউল বাড়ি রোডে ল্যান্ড ব্যবসা সমবায় সমিতির প্রজিম হাউজিং লিমিটেড এর মোহছেনা গার্ডেন এর নব নির্মিত ৮ তলা ভবনের একাশং ধসে পড়ায় বড় ধরনের দুঘর্টনার আংশকা দেখা দিয়েছে। চাঁদপুর শহরের প্রাণ কেন্দ্রে এই ৮ তলা ভবনটি নিন্মমানের ইট, বালু, সিমেন্ট দিয়ে নির্মান করে প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে এপ্রার্টমেন্টের বেশ কয়েকটি ফ্লাট বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। চাঁদপুর ল্যান্ড ব্যবসা সমবায় সমিতির ফরিদগঞ্জের গুটি কয়েকজন লোক শহরের বিভিন্ন স্থানে জমির মালিকদের সাথে চুক্তি করে এই ধরণের নিন্ম মানের ভবন নির্মাণ করে মানুষের সাতে এই প্রতারণা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তেমনি তালতলা বকাউল বাড়ি রোডে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে হঠাৎ করে মোহছেনা ৮তলা ভবনের ৪র্থ তলার একাংশ ভেঙে পড়ে। এতে করে বকাউল বাড়ি রোড দিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন পথচারী অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পায়। ভবন ধসের ঘটনাটি জানাজানি হলে তালতলা কিছু লোকজন এসে ভবনের গেইট তালা মেরে ল্যান্ড ব্যবসার সমিতির সদস্য ও দায়িত্বে থাকা ফরিদগঞ্জের নূর মোহাম্মদের ছেলে আমির হোসেন (৪০) কে আটকে রেখে মারধর করে।
পরে এলাকার কিছু যুবক এসে মোাহছেনা গার্ডেনের জমির মালিক ও ল্যন্ড ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি এবং প্রজিম হাউজিং লিমিটেডর এর কর্মকর্তাদের সাথে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য চেষ্টা করে। এলাকার শত শত মানুষ ভবন ধসের ঘটনা জানতে পেরে প্রতিবাদ করে। পরে তাদের পক্ষ হয়ে ঐ যুবকরা প্রতিবাদী লোকদের প্রতিহত করে। ঘটনার পর পর প্রিন্ট মিডিয়ার কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর প্রথমত তাদেরকে ভবনে উঠতে বাধা প্রদান করে ও কোন তথ্য নিয়ে সংবাদ প্রচার না করার জন্য হুমকী দেয়। ঘটনার সময় প্রতক্ষদর্শী চাঁদপুর পৌরসভার সাবেক পৌর মেয়র সফিকুর রহমান ভূইয়ার খালাতো ভাই স্বপন জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় তালতলা বকাউল বাড়ি রোড দিয়ে আত্বিয়ের বাসায় যাওয়ার পথে হঠাৎ করে মোহছেনা ভবনের ৪র্থ তলার একাশং ভেঙ্গে রাস্তায় পরে। অল্পের জন্য মহিলা পুরুষ ও শিশু সহ কয়েকজন প্রাণে রক্ষা পায়। ঘটনার পরপরই এলাকাবাসী জরো হয়ে এপ্রার্টমেন্টের দায়িত্বে থাকা আমির হোসেন কে মারধর করে। পরে এলাকার উশঙ্খল যুবকদের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর ল্যান্ড ব্যবসার সমবায় সমিতির পরিচালক ফরিদগঞ্জের আশফাক আহমেদ সহ কয়েকজন মিলে তালতলা বকাউল বড়ি রোডে খোরশেদ আলমের ৬শতাংশ জায়গায় এগ্রিমেন্ট করে মালিকপক্ষকে ৪০% ও এপ্রাটমেন্ট মালিকরা ৬০% নিবে বলে চুক্তি হয়। গত দুই বছর যাবত এই ৮তলা ভবনের কাজ শুরু করে। চাঁদপুর পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার জাহিদ ও ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার শামীমের মাধ্যমে ডিজাইন করে এই ভবনের কাজ শেষ করে। এই ভবনের ফাউন্ডেশন কম নিয়ে ৮তলা তৈরি ও নিন্মমানের খোয়া, সিমেন্ট ইট, সামগ্রী দিয়ে প্রস্তুত করার কারণে হঠাৎ করে ৪র্থ তলার একাশং ধসের ঘটনা ঘটেছে। ইতি পূর্বে এই ভবনের বেশ কিছু ফ্লাট ৪০ থেকে ৪৫ লক্ষ টাকা বিক্রি করে গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা করে ফ্লাট বুঝিয়ে না দেওয়ায় বেশ কয়েকবার তাদের সাথে বাকবিদন্ড সৃষ্টি হয়েছে। এব্যাপারে চাঁদপুর ল্যান্ড ব্যবসায় সমতি ও প্রজিম হাউজিং এর পরিচালক আশফাক আহমেম্দে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৮তলা ভবনের অতিরিক্ত কাজ করায় সেখানে কিছু অংশ ভেঙে পড়েছে। তাতে কোন সমস্যা হবে না। ফ্লাট বিক্রির কথা জিজ্ঞাসা করলে তিনি এই বিষয়ে এড়িয়ে গিয়ে সংবাদ প্রচার না করার জন্য অনুরোধ জানায়। এদিকে তালতলা বকাউল বাড়ি মোহছেনা ভবনের ধসের ঘটনায় তাদের সাথে এলাকার কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাদের সাথে বেশ কয়েকবার বৈঠক হয়ে রফাদফা হয়। এই ঘটনা কোন ভাবেই যেন না জানে কেউ প্রতিবাদ করলে তা জেন প্রতিহত করতে পারে সেই বিষয়ে আলোচনা করে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়।

