চাঁদপুরে দিন দিন তালাকের সংখ্যা বাড়ছে কিন্তু বিয়ের সংখ্যা কমছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত বাল্যবিবাহ নিরোধ সংক্রান্ত এক সভায় এ তথ্য জানানো হয়।
জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডলের সভাপতিত্বে ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ মাসুদ হোসেনের পরিচালনায় জেলা কাজী সমিতির সভাপতি কাজী মাওঃ মোঃ ফজলুল কবির পাটওয়ারী বলেন, চাঁদপুরে ২০১৫ সালে ২১ হাজার ১শ’ ৬৬টি বিয়ে হয়েছে। ২০১৬ সালে সে সংখ্যা থেকে ১ হাজার বিয়ে কম হয়েছে। তার বিপরীতে তালাকের সংখ্যা ছিল ২০১৫ সালে ২৭ হাজার। আর ২০১৬ সালে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৩ হাজারে। জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডল এর কারণ হিসেবে বলেন, চাঁদপুরে বাল্যবিয়ের প্রবণতা কমে যাওয়ায় বিয়ের সংখ্যাও দিনদিন কমছে। তিনি বলেন, গত এক বছরে চাঁদপুরে ৩০টি বাল্যবিয়ে রোধ করা হয়। ২০২০ সালের মধ্যে চাঁদপুরে বাল্যবিয়ে শূন্যের কোটায় আনতে ১১ বছর থেকে ১৮ বছর বয়সের মেয়েদের এবং ১১ বছর থেকে ২১ বছর বয়সের ছেলেদের একটি ডাটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া সকল উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন ছাড়াও সকল মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এরপরও চাঁদপুরের কোথাও একটি বাল্যবিয়ের খবর পাওয়া গেলে পরিবারের লোকজনের সাথে কাজী বা নোটারী পাবলিক যেই হোক তাকে সবার আগে আইনের আওতায় আনা হবে। সেই সাথে সেই ওয়ার্ড কাউন্সিলর বা ইউপি সদস্যকেও আইনের আওতায় আনা হবে।
সভায় বাল্যবিয়ে রোধে উপস্থিত সদস্যরা বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাবনা রাখেন। সভায় বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উদয়ন দেওয়ান, মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, জেলা শিক্ষা অফিসার ইউনুস ফারুকী, চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি শরীফ চৌধুরী, মহিলা সমিতির সভাপতি অধ্যাপিকা মাসুদা নূর খান, অ্যাডঃ গোলাম মর্তুজা, জেলা কাজী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী আব্দুল্লাহ আল মামুন, হাজীগঞ্জ পৌরসভার কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।
