চাঁদপুর: চাঁদপুর সদর উপজেলার হরিণা ফেরিঘাট এলাকায় এক সপ্তাহ ধরে ভয়াবহ নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই চাঁদপুর-শরীয়তপুর রুটের হরিণা ফেরিঘাটের পন্টুন স্থানান্তর করতে হচ্ছে। কয়েক ঘন্টার জন্য ফেরি চলাচল বন্ধ থাকছে। সর্বশেষ সোমবার ভোর ৫টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। পন্টুন স্থানান্তর শেষে দুপুর থেকে পুনরায় ফেরি চলাচল শুরু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান, করিম গাজী, আবু তাহের জানান, ভাঙনের তীব্রতা দিন দিন বাড়লেও ভাঙন প্রতিরোধে চাঁদপুর পাউবোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।এতে যে কোনো সময় উলিখিত রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুধু ফেরিঘাটই নয়, প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অব্যাহত ভাঙনে ইতোমধ্যে বহু ঘর-বাড়ি, ফসলি জমি ও গাছপালা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। একটি মসজিদ ও মাদ্রাসা, বেশ কিছু ঘর-বাড়ি ও ফসলি জমি এখনো হুমকির মুখে রয়েছে।
বিআইডবিউটিসির হরিণা ফেরিঘাটের টার্মিনাল সুপারভাইজার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ভাঙনের কারণে প্রায়ই ফেরি চলাচল বন্ধ থাকছে। আগে টার্মিনাল থেকে পন্টুনের প্রায় এক কিলোমিটার দূরত্ব ছিল। এখন টার্মিনালের পাশেই পন্টুন। এভাবে চলতে থাকলে টার্মিনালও নদীতে তলিয়ে যাবে। তখন ফেরিঘাট চালু রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
সোমবার দুপুরে বআইডবিউটিএর স্থানীয় কর্মকর্তা ওমর ফারুক জানান, গত কয়েক বছরের মধ্যে এবার হরিণা ফেরিঘাটের ভাঙনের মাত্রা ভয়াবহ। এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বার বার জানিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না। চট্টগ্রাম থেকে খুলনাগামী ট্রাকচালক কাদের ও লোকমান গাজী জানান, সময় ও খরচ বাঁচাতে ঢাকার পরিবর্তে তারা এ ফেরিঘাট হয়ে চলাচল করেন। কিন্তু নদী ভাঙনের কারণে ঘনঘন ঘাট স্থানান্তর ও ফেরি চলাচল দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় তাদের সময় ও খরচ বাড়ছে। এর সাথে যোগ হচ্ছে দুর্ভোগ। এ অবস্থা চলতে থাকলে এ রুট পাল্টে আবার ঢাকা হয়ে চলাচল করতে হবে।
চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জীবন কৃষ্ণ দাস জানান, ভাঙনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করার প্রস্তুতি রয়েছে। এছাড়া এ এলাকার ভাঙন রোধে একটি স্থায়ী প্রকল্পও সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।
শিরোনাম:
সোমবার , ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ৪ ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
